নতুন বাংলাদেশের সিটি করপোরেশনগুলো থেকে আশা ও প্রত্যাশা

প্রথম আলো দিদারুল ভূঁইয়া প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৮:২৯

নদী, নগর ব্যবস্থাপনা, প্রাণ-পরিবেশ-প্রকৃতি নিয়ে বিস্তর কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হিসেবে যোগ দিয়েছেন মোহাম্মদ এজাজ। অন্য সিটি করপোরেশনগুলোতেও অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। নতুন অ্যাডমিনিস্ট্রেটদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনটি প্রস্তাব তাঁদের সামনে তুলে ধরছি।


বাংলাদেশের আর সব প্রতিষ্ঠানের মতো সিটি করপোরেশনগুলো জনগণের সেবার বদলে ক্ষমতাসীনদের জুলুমের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহৃত হয়েছে বরাবর। জনগণের সম্পদ লুটপাট, দুর্নীতি আর অপচয়ের অন্যতম সেরা হাতিয়ার সিটি করপোরেশনগুলো। মশার ওষুধে ভেজাল, সংরক্ষিত জলাধার বা নিম্নভূমি ভরাট ও দখলে সহায়তা, উন্নয়নের নামে একই রাস্তা প্রতিবছর কাটা, নর্দমা পরিষ্কার করে আবার সেই একই ময়লা দিয়ে নর্দমা ভরাট করার চক্র, ফুটপাতকে ক্ষমতাসীনদের অর্থ উপার্জনের উপায় বানানো, ট্রেড লাইসেন্স, জন্মসনদ, হোল্ডিং ট্যাক্স ব্যবস্থার জবাবদিহিহীনতায় সাধারণের ভোগান্তি আর ঘুষ-দুর্নীতির অফুরন্ত সুযোগ সৃষ্টি ইত্যাদি হাজারো অভিযোগ সিটি করপোরেশনগুলোর বিরুদ্ধে গত ৫৪ বছরের বাংলাদেশে আছে।


নতুন বাংলাদেশেও কি একই অবস্থা চলতে থাকবে? জনগণ নিশ্চয় তা আশা করে না। আবার অভ্যুত্থান–পরবর্তী বাংলাদেশে মানুষের প্রত্যাশা হয়েছে আকাশচুম্বী। সে তুলনায় অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সফলতার হার প্রায় চোখে দেখা যায় না। সরকারের অদক্ষতা, অযোগ্যতার সঙ্গে বিভিন্ন বাস্তবিক সংকট, ষড়যন্ত্রও এর পেছনে দায়ী।


২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ‘পরিবর্তন চাই’ নামের সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে আমার কাজের সুযোগ হয়েছিল। নাগরিক পরিচ্ছন্নতায় সচেতনতা তৈরি, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পলিসি ও অবকাঠামোগত সহায়তা ইত্যাদি ছিল পরিবর্তন চাইয়ের কাজের পরিধিতে। তখন সামগ্রিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ সিটি করপোরেশনগুলোর কাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে ভাবার, বোঝার ও গবেষণার কিছু সুযোগ পেয়েছি। নতুন বাংলাদেশের যে অবারিত সম্ভাবনা এবং বাস্তবিক সংকটগুলো আছে, সেসব বিবেচনায় নিচের তিনটি কাজ যদি আগামী এক বছরে সিটি করপোরেশনগুলো থেকে পাই, তাহলে সন্তুষ্ট হব।



১. বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর


১.১ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ দেশের কয়েকটি সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ তৈরির একাধিক প্রকল্পের কথা বহু বছর ধরে শুনে আসছি। আদতে কোনো নমুনাও দেখিনি। যেমন ঢাকা উত্তরের আমিন বাজারে ডব্লিউটিই পাওয়ার প্ল্যান্ট নর্থ ঢাকা প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি ইনসিনারেশন প্ল্যান্ট প্রকল্প ২০২৪ সালে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।


এসব প্রকল্প যদি আদৌ সত্যি হয়, তবে সেগুলো দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা জরুরি। যদি পুরোটাই ভুয়া হয়, তবে নতুন করে এমন প্রকল্প নেওয়া দরকার।


এসব কারখানায় পুনর্ব্যবহারের অযোগ্য পলিথিনসহ যাবতীয় উচ্চ দাহ্যক্ষমতার বর্জ্য জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হবে।


১.২ বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ তৈরির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সরবরাহ চ্যানেলে পলিথিন বর্জ্য ও কিচেন বর্জ্য একসঙ্গে থাকার ফলে বর্জ্যের দাহ্যক্ষমতা কমে যাওয়া। সেটার সমাধানে সোর্স থেকেই যথাসম্ভব কিচেন বর্জ্যমুক্ত দাহ্য বর্জ্য সংগ্রহ করা যায়।


সারা দেশে এখন যেমন প্লাস্টিক বোতল আর বর্জ্য হিসেবে রাস্তাঘাটে পরে থাকে না, কারণ সেগুলো বিক্রি করা সম্ভব। প্লাস্টিকসহ অন্যান্য দাহ্য বর্জ্যও ঠিক তেমনি কারখানার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হলে সেগুলো আর সর্বশেষ নদী বা সাগরের তলদেশে জমা হয়ে পরিবেশদূষণ করবে না। আবার এসব কারখানায় আধুনিক ফিল্ট্রেশন পদ্ধতি ব্যবহার করায় বায়ুদূষণও হবে না। বরং বাই প্রোডাক্ট হিসেবে আরও কিছু অর্থকরী বিভিন্ন সম্পদ পাওয়া সম্ভব হবে।


বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের সময় তিনটি ভাগে সেগ্রিগেশন (পৃথক) করে দেওয়াকে উৎসাহিত করতে হবে। এমনকি সে বর্জ্য কিনে নেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। তেমন হলে সবাই বর্জ্যগুলো সঠিকভাবে আলাদা করে দেবেন নিশ্চয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও