বাংলাদেশ-ভারত অভিন্ন নদী : উৎপত্তি ও পরিক্রমণ

যুগান্তর মাহবুব সিদ্দিকী প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০২৬, ১১:১৯

ঘ) অভিন্ন নদীর পরবর্তী শ্রেণিতে রয়েছে ৬টি নদী-২৬. ইছামতি কালিন্দী/যমুনা, ২৭. সামিয়াজান, ২৮. সাকওয়া, ২৯. কুরুম, ৩০. যমুনা, ৩১. পাঙ্গা। এ নদীগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো এগুলোর উৎপত্তি ভারতে। বাংলাদেশের মধ্যে প্রবেশ করে পুনরায় ভারতে গিয়ে আবারও বাংলাদেশে ফিরে এসেছে। এর মধ্যে কুরুম নদ ভারতে জন্ম নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে কিছুদূর প্রবাহিত হওয়ার পর ভারতের মধ্যে প্রবেশ করে সেখানে যমুনা নামের একটি অভিন্ন নদীর (তালিকাবহির্ভূত) সঙ্গে মিলিত হয়েছে এবং সম্মিলিত প্রবাহটি যমুনা নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। পাঙ্গা নামের নদীটি জলপাইগুড়ি জেলার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অরন্য ও জলাভূমি থেকে উৎপত্তি লাভ করে বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলাধীন সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়ন এলাকায় প্রবেশ করে প্রায় আড়াই কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে। এরপর জলপাইগুড়ি জেলার মানিকগঞ্জ থানাধীন দফাদারপাড়া নামক গ্রামে প্রবেশ করেছে। ভারতের মধ্য দিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার বয়ে আসার পর সব শেষে বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলাধীন বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের অন্তর্গত কাজীপাড়া গ্রামে প্রবেশ করেছে। এখান থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার পথ বেয়ে আসার পর নাউতারি সরকারপাড়া ও শামের ডাঙ্গা নামক দুই গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে পৌঁছানোর পর পশ্চিমদিক থেকে আসা যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে ঘোড়ামারা নাম ধারণ করেছে। যমুনা ও পাঙ্গা দুটি নদী অভিন্ন নদীর পর্যায়ে পড়লেও তালিকাবহির্ভূত। ঘোড়ামারা নদী বাংলাদেশ-ভারত অভিন্ন নদীর তালিকাভুক্ত থাকলেও বর্তমানে এটি পুরোপুরি বাংলাদেশের নদী। ছিটমহল ভাগাভাগির আগে যমুনা ও পাঙ্গা নদীর মিলনস্থলটি ভারতের মধ্যে ছিল। বর্তমানে স্থানটি বাংলাদেশের অংশ হয়েছে। এই শ্রেণির অপর নদীগুলো হচ্ছে সিমলাজান বা সেমিয়াজান, সাকওয়া ও ইছামতি। ঙ) এই শ্রেণির নদীর সবকটিই বাংলাদেশে উৎপত্তি। উভয় দেশের সীমান্তরেখা চিহ্নিত করে যেসব অভিন্ন নদী প্রবাহিত হচ্ছে এ শ্রেণির নদীগুলো সেখানে পড়েছে। নদীগুলোর নাম তুলে ধরা হলো-৩২. পেটকি, ৩৩. আলোয়া, ৩৪. আমনদামন, ৩৫. তীরনই (আটোয়ারী), ৩৬. গড়গড়িয়া, ৩৭. পুটখালী, ৩৮. দাউদখালী, ৩৯. সোনাই, ৪০. লবঙ্গবতী, ৪১. তীরনই (তেঁতুলিয়া), ৪২. রণচন্ডী (তীরনইহাট, তেঁতুলিয়া)।


বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরেখা বরাবর উত্তর থেকে দক্ষিণমুখী পথে একাধিক অভিন্ন নদ-নদী প্রবাহিত। এগুলোর মধ্যে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের নাগর নদ, পঞ্চগড়ের মহানন্দা এবং যশোর ও সাতক্ষীরা জেলার সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত ইছামতি অন্যতম। পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় উৎপন্ন তীরনই ও রণচন্ডী বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত সীমান্ত নদী মহানন্দায় পতিত হয়েছে। আটোয়ারী উপজেলার কান্দর বা নিুজলাভূমি থেকে উৎপন্ন পেটকি ও আলোয়া নদী সীমান্তরেখা দিয়ে বয়ে যাওয়া নাগর নদে পতিত হয়েছে একই উপজেলা এলাকায়। এর পশ্চিম পাড় সংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া থানা এলাকা। তীরনই নদী পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর বিল থেকে উৎপন্ন হয়েছে। তীরনই এরপর ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গি ও রাণীশংকইল উপজেলা এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রাণীশংকইল উপজেলার ধর্মনগরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত নাগর নদে পতিত হয়েছে। এ নদীর দৈর্ঘ্য ৪৫ কিলোমিটার। আমনদামন নদ বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার বিল থেকে উৎপন্ন হয়ে নাগর নদের সঙ্গে মিশেছে। ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলা এলাকায় উৎপন্ন গড়গড়িয়া নদী একই উপজেলার সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত নাগর নদে পতিত হয়েছে। নাগর নদ পঞ্চগড়ের আটোয়ারী ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গি, রাণীশংকইল ও হরিপুর উপজেলার সীমান্তরেখা ধরে ১০০ কিলোমিটার অতিক্রম করেছে।


নাগর নদ এ পর্যায়ে আন্তর্জাতিক সীমা অতিক্রম করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর দিনাজপুর জেলাধীন করণদীঘি ও রায়গঞ্জ থানার সীমান্তরেখায় প্রবেশ করেছে। এরপর রায়গঞ্জ থানা এলাকার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়ে বিহারের কাটিহার জেলার সীমান্ত স্পর্শ করে অগ্রসর হয়েছে। একপর্যায়ে বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও থেকে আসা কুলিক নদকে ধারণ করে সম্মিলিত প্রবাহটি নাগর নামে মালদহ জেলার চাঁচল থানা এলাকায় প্রবেশ করেছে এবং উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আসা মহানন্দা নদীতে নাগর নদ পতিত হয়েছে। নাগর নদের প্রবাহ পথে উত্তর দিনাজপুর থেকে পাঞ্চু, দলুনেহা ও সারিয়ানো নদীর স্রোত এর পশ্চিম তীরে গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের দক্ষিণে ইছামতি/যমুনা/কালিন্দী একটি দীর্ঘ অভিন্ন নদী। ভারতে উৎপন্ন হয়ে প্রথমে বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার মহেষপুর উপজেলা এলাকার সামান্য পথ অতিক্রম করে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁও মহকুমায় প্রবেশ করেছে। এভাবে চলার পথে আবার বাংলাদেশের যশোর জেলার শার্শা উপজেলার মধ্যে প্রবেশ করে সামান্য পথ ঘুরেছে। এবারে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের বসিরহাট মহকুমায় প্রবেশ করেছে এবং গঙ্গার প্রাচীন শাখা (মুক্তবেনী) যমুনার সঙ্গে মিশে ইছামতি/যমুনা নামে আবার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তরেখা দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। একপর্যায়ে সম্পূর্ণরূপে বাংলাদেশের মধ্যে প্রবেশ করে কালিন্দী নাম ধারণ করে সুন্দরবনের মধ্যে ঢুকে উত্তর দিক থেকে আসা রায়মঙ্গল নদে পতিত হয়েছে। ইছামতি যশোর জেলার শার্শা এবং উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁও মহকুমার আন্তর্জাতিক সীমান্ত পথ দিয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে। এ পর্যায়ে যশোরের শার্শা উপজেলার বিলাঞ্চল থেকে উৎপত্তি হওয়া পুটখালী ও দাউদখালী নদী এসে ইছামতিতে মিলিত হয়েছে। ইছামতি আরও দক্ষিণে এসে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের কাছাকাছি স্থান থেকে আবার উভয় দেশের সীমান্ত রচনা করে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে। এ পর্যায়ে সাতক্ষীরা উপজেলা এলাকায় উৎপত্তি লাভকারী সোনাই নদী ও লবঙ্গবতী নদী ইছামতিতে পড়েছে।


এখন পর্যন্ত যে ৪২টি নদ-নদী নিয়ে আলোচনা করা হলো, এর সবকটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন নদী বা আন্তঃসীমান্ত নদী। এর মধ্যে মাত্র ৮টি নদী সরকারিভাবে যৌথ নদী কমিশনের দেওয়া তথ্যমতে তালিকাভুক্ত। এগুলো হলো-নাগর, কুলিক, তুলাই, পুনর্ভবা, টাঙ্গন, আত্রাই, ডাহুক ও ইছামতি/কালিন্দী। অবশিষ্ট ৩২টি নদ-নদী অভিন্ন নদীর তালিকাবহির্ভূত। আলোচিত ৪০টি নদ-নদীর মধ্যে ১৬টি সম্পূর্ণরূপে বাংলাদেশে উৎপত্তি লাভ করে ভারতের মধ্যে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশে উৎপত্তি হওয়া শ্রেণি ‘ক’-এর আলোচিত ১৬টি নদীর বাংলাদেশ অংশের কোনো স্থানেই পানি আটকিয়ে বা প্রত্যাহার করে ভিন্ন স্থানে সরানো হয়নি। এর ১৬ আনা সুবিধা ভারতের নাগরিকরা ভোগ করছেন।


শ্রেণি ‘খ’ তে উল্লিখিত ৮টি নদীতে সারা বছর কমবেশি স্রোত থাকে। এ শ্রেণির ৮টি নদীর মধ্যে শুধু টাঙ্গন ও আত্রাই নদীর উজানে বাংলাদেশ অংশে যথাক্রমে একটি স্লুইস গেট এবং একটি রাবার ড্যাম নির্মিত হয়েছে। তবে এখানকার পানি প্রত্যাহার করে ভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়নি। উল্লিখিত ৮টি নদীর পানি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ জেলার ১০টি থানার প্রায় ৩০ লাখ মানুষ সরাসরি ভোগ করছেন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও