হাতে ফ্যান নিয়ে ঘোরা জীবনে কেমন বাজেট চাই

প্রথম আলো আলতাফ পারভেজ প্রকাশিত: ০৬ জুন ২০২৬, ১৩:৩৪

দেশে ‘গরমকাল’ চলছে। এখনো হয়তো মূল অধ্যায় আসেনি। এর মধ্যে ২২ এপ্রিল এক জেলায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। আগে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে গেলে তাপপ্রবাহ পত্রপত্রিকার বড় খবর হয়ে উঠত। এখন ৪০ পেরোলে সে রকম ঘটে। তবে এবার গরমজনিত ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি ফিরে আসতে পারে বলেও আন্তর্জাতিক পরিসরে বলাবলি হচ্ছে। দৈনিক সমকাল ১৬ মে লিখেছে, এবার ‘সুপার এল নিনো’ হতে পারে।


সবশেষ এল নিনোকালে, ২০২৩-২৪–এ ইতিহাসের উষ্ণতম বছরগুলো পেয়েছিল বিশ্ব। বাংলাদেশেও অনেকের হয়তো ২০২৪–এ টানা ৩৬ দিন দুর্বিষহ গরমের কথা মনে আছে। আসন্ন মাসগুলোতে সেই পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না, এখনই সেটা নিশ্চিত করে বলছে না কেউ। তবে এটা বলা হচ্ছে, তাপমাত্রা ৪০–এর আশপাশে থাকলেও গরমের অনুভূতি বেশি।


এই ‘গরম’ কেবল আবহাওয়াজনিত ঋতুভিত্তিক অসুবিধার বিষয় নয় এখন আর। এটা আমাদেরই রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কুকর্মের বাস্তব ফল। একই সঙ্গে গরম একটা শ্রেণিযুদ্ধের চেহারা নিয়েও হাজির হচ্ছে। এর ভোগান্তি যাচ্ছে প্রধানত নিচুতলার কর্মজীবীদের ওপর দিয়ে। অথচ সমস্যা বাধিয়েছে শ্রেণি সমীকরণের ওপর দিকের ভোগবাদীরা।


২০২৪–এর কথা মনে পড়ে কি?


গরম যে কেবল প্রকৃতির বিচ্ছিন্ন কোনো দুষ্ট বিষয় নয় এবং সমাজ-অর্থনীতির জন্য এটা যে কত ভয়াবহ হতে পারে, তার মোটাদাগের শিক্ষা পায় বাংলাদেশ ২০২৪–এ। ২০২৫–এর সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছিল, আগের বছরে তাপজনিত অসুস্থতায় বাংলাদেশে ২৫ কোটি কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে। তাতে অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রায় পৌনে দুই বিলিয়ন ডলার।


মানুষের শারীরিক-মানসিক ক্ষতির পাশাপাশি গরম যত বাড়ছে, অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতাও তত কমছে। গরমে মানুষের আয়রোজগারে বেশি ক্ষতি হয় অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির দেশে। বাংলাদেশে সে রকম ক্ষতির শিকার বেশি রাজধানী ঢাকার মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত সমাজ। ঢাকায় তাপমাত্রা যত থাকে, গরম অনুভূত হয় তার চেয়ে ৪-৫ ডিগ্রি বেশি। অর্থনৈতিক ক্ষতিও সেভাবে হয়। কোনো নির্দিষ্ট শত্রুর স্পষ্ট আক্রমণ বা আগ্রাসনের শিকার না হয়েও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক হৃৎপিণ্ড এ রকম বাৎসরিক ক্ষতির মুখে এখন। যদিও এ থেকে মুক্তির আলাপ নেই তেমন।


আপাতত গরমে ক্ষতিগ্রস্তদের বড় অংশ সমাজের প্রভাবশালী নীতিনির্ধারকেরা নয়। তাপমাত্রার তীব্রতা ও বজ্রপাত হাত ধরাধরি করে বাড়ছে। বজ্রপাতে প্রতিবছর যারা আহত-নিহত হচ্ছে, তারও ৮০-৯০ শতাংশই মাঠে-ময়দানে কাজ করা শ্রমজীবী। এই মৌসুমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ৪ দিন আগে ১৮ এপ্রিল কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বজ্রপাতে ১৩ জন মারা গেল। বজ্রপাতসহ চলতি সময়ের অনেক ‘প্রাকৃতিক সংকট’ই শ্রেণিগত এক চেহারা নিয়ে হাজির হয়েছে। বায়ুদূষণে ঢাকা ইতিমধ্যে অন্যতম বিশ্বসেরা। এই ক্ষতিরও বেশি শিকার কাজের সূত্রে ঘরের বাইরে থাকা মানুষেরা।


গরমের তীব্রতায় হিটস্ট্রোকের বাইরেও অবসাদ থেকে ডায়রিয়া পর্যন্ত বহু ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে কর্মঘণ্টা হারানোর পাশাপাশি চিকিৎসা খরচ বাড়ছে নাগরিক সমাজে। গবেষণা বলছে, ধনীদের চেয়ে গরিবেরা গরমে দ্বিগুণ-তিন গুণ কর্মসময় হারায়। এবার বিদ্যুৎসহ নানান জ্বালানির টানাটানির মধ্যে এই সমস্যার বাড়তি প্রকোপ চলছে। মূল্যস্ফীতি বাড়ার মুখে এ রকম মানুষদের আরও বাড়তি কাজ করতে হচ্ছে। প্রতিটি বাজেটের পর এই মানুষদের কর্মঘণ্টা বাড়াতে হয়।


যেভাবে চারপাশকে উত্তপ্ত করছি আমরা


দেশে যে তাপমাত্রা বাড়ছে এবং অসহনীয় গরম অনুভূত হচ্ছে, তার মূলে অপরিকল্পিত ও দ্রুতলয়ের নগরায়ণ এবং দূষণ। পাকিস্তান আমলের পর থেকে নগরায়ণ হচ্ছে মুখ্য অপরিকল্পিতভাবে। ঢাকাসহ সব শহরে একই চিত্র। ঢাকা সাধারণ মানুষের ভাষায়, ইতিমধ্যে ‘দোজখ’–এর বৈশিষ্ট্য নিয়েছে। বাংলাদেশের কুলীন সমাজের ৫৫ বছরের মেধা-মনীষার স্বাক্ষর এই রাজধানী। বিশ্বে যত কুৎসিত সূচক আছে, তার প্রায় সব কটিতে ঢাকা এক থেকে পাঁচে আছে।


গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর প্রথম আলো এক গবেষণা তথ্য তুলে ধরে লিখেছিল, যেখানে জলাভূমি আছে, ঢাকার সেদিকে তাপ বাড়ার হার কম। মুশকিল হলো, শহরটিতে তিন দশকে জলাভূমি কমেছে ৬৯ শতাংশ। চলতি ধারা বজায় থাকলে ২৫-৩০ বছর পর এই শহরে জলাভূমি বলে তেমন কিছু থাকবে না। ঢাকার সামান্য যেসব খোলা জায়গা আছে, সেখানেও অনেক সময় সবুজের নিবিড় কোনো আচ্ছাদন নেই। জলাভূমি ও সবুজ কমিয়ে নানান ‘প্রকল্প’ বাস্তবায়নকারীদের এই সমাজে সম্মানিত ‘উদ্যোক্তা’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও