যুদ্ধ-সহিংসতা অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে কীভাবে?
২০২৬ সালের শুরু থেকেই বিশ্ব রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সেই সাথে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এক জটিল সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা আধুনিক অর্থনীতিবিদের কাছে আলাদা কিছু নয়।
যেহেতু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি একে অন্যের সাথে জড়িত, তাই এখানে দুটি ঘটনা ঘটতে পারে—এক রাজনৈতিক অস্থিরতা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমিয়ে দিতে পারে এবং দেশীয় ও বৈদেশিক-উভয় বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করতে পারে, অন্যদিকে দুর্বল অর্থনীতির ফলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে এবং ফলশ্রুতিতে ক্ষমতাসীন সরকারের উৎখাত হতে পারে।
বর্তমানে বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, দেশের শাসনব্যবস্থা ও নেতৃত্বের ঘন ঘন পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক ওঠানামা, একে রাজনৈতিক অর্থনীতির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে ভালো অনুধাবন করা যাবে।
রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে বৈদেশিক হস্তক্ষেপ আসে, এর সাথে সাথে অর্থনৈতিক কার্যক্রম—বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সরবরাহ শৃঙ্খলা (সাপ্লাই চেইন) এবং পরিবহন—ব্যাহত হয়ে সার্বিক ধ্বস নেমে আসে। উদাহরণস্বরূপ সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ, যা ২০১৫ সালে শুরু হয়েছিল।
এর ফলে খাদ্য ঘাটতি, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানির ঘাটতি, খরা এবং মানবিক সংকটের সাথে সাথে সিরিয়ার অর্থনীতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। একইভাবে, ১৯৪৭ সালের পর থেকে পাকিস্তানে ২৯ জন প্রধানমন্ত্রী দেশ পরিচালনা করলেও, কিন্তু কেউই পূর্ণ মেয়াদ দায়িত্ব পালন করতে পারেননি (WION, 2022)।
সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকেও অর্থনৈতিক সংকট ও গণবিক্ষোভের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল। বর্তমানে পাকিস্তানে দিন দিন অর্থনৈতিক গতিপথ নিম্নমুখী হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির ভয়াবহ অবস্থার কারণে বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ জনগণ একজোট হয়ে আন্দোলন শুরু করে।
ফলে ২০২২ সালের মে মাসে আন্দোলনের মধ্যে মাহিন্দা রাজাপাকসে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাজনৈতিক উত্থান-পতন দ্বারা একটি জাতির অর্থনৈতিক বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হতে পারে, তেমনি অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার কারণেও দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হতে পারে।
বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতি এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলোর আধিপত্য বিশ্বব্যবস্থাকে পরিচালিত করলেও বর্তমান সময়ে এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার উদীয়মান শক্তিগুলো নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করছে।
বৈশ্বিক সম্পর্কগুলো ধীরে ধীরে সমঝোতার চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্কনীতি এবং আগ্রাসী পদক্ষেপ বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং গত সপ্তাহের মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত (যেমন খামেনির পরবর্তী পরিস্থিতি) নিঃসন্দেহে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- যুদ্ধ ও সংঘাত
- অর্থনীতিতে প্রভাব