ইসরায়েলের পরবর্তী টার্গেট কি পাকিস্তান

প্রথম আলো আলতাফ পারভেজ প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০২৬, ২০:০৯

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত আগ্রাসনের মুখে ইরানের যুদ্ধের ক্ষমতা কমে আসছে। তারপরও দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নাগরিকেরা লড়বেন হয়তো। সেই লড়াই সামনের দিনগুলোতে কী চেহারা নেবে, অনুমান করা দুঃসাধ্য। ইরানের সমর্থক হিজবুল্লাহকে দমনের নামে এ মুহূর্তে লেবানন ধ্বংসে মেতেছে ইসরায়েল। এর মাঝে প্রশ্ন উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসী অক্ষশক্তি ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, ইরান এবং সর্বশেষ লেবাননের পর আর কোনো দেশকে লক্ষ্যবস্তু করবে কি না? বিশেষ করে, এ বিষয়ে পাকিস্তানকে ঘিরে সৃষ্ট গুঞ্জন কতটা বাস্তবসম্মত?  


প্রশ্ন হিসেবে এটা অভিনব। কিন্তু জাতিসংঘ এবং ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রায় পুরো অকার্যকারিতার মুখে এ রকম প্রশ্ন নিয়ে ভাবতে বসাও রূঢ় বাস্তবতা হয়ে উঠেছে—বিশেষ করে যখন বাস্তবেও এ রকম আলামত উপস্থিত।


ইরান অভিযানের আগে ইসরায়েলে মোদি


ইরানে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের যৌথ হামলার তিন দিন আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েলে যান। তিনি ফেরার পর একদিকে যুদ্ধ শুরু হলো; অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে জন্ম হয়েছে পাকিস্তানকে নিয়ে নতুন শঙ্কা ও আঁচ-অনুমান। দুর্ভাবনাটি এই যে পারমাণবিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা যদি মুসলমানপ্রধান ইরানকে জায়নিস্টদের চক্ষুশূল করে থাকে, তাহলে একই আক্রোশের শিকার হতে পারে পাকিস্তানও। বিশেষ করে ভারত-ইসরায়েল বন্ধুত্ব যেভাবে গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে, তাতে ইসলামাবাদের জন্য দূরবর্তী এক সতর্কবার্তা আছে।


গাজা গণহত্যায় নির্মমতার জন্য নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েল যখন বিশ্বজুড়ে চরম নিন্দিত, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ঠিক তখনই লাল কার্পেট মাড়িয়ে সেই দেশে গেলেন। এটা যতটা না বিশ্বজনমতকে অবজ্ঞা করা, তার চেয়েও বেশি ছিল পাকিস্তানবিরোধী ব্যবহারিক মৈত্রী দৃঢ় করা। মোদির সফরের আগে-আগে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়েছেন ভারতকে কেন্দ্রে রেখে গ্রিস ও সাইপ্রাসকে নিয়ে নতুন অক্ষশক্তি গড়তে চায় তেল আবিব। তাঁর ভাষায়, ‘শিয়া অক্ষশক্তি’র মতো ‘সুন্নি অক্ষশক্তি’র বিরুদ্ধেও আঘাত হানব আমরা। 


এই বক্তব্যে সরাসরি কোনো দেশের নাম না থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ায় ভীতি ছড়াচ্ছে তা। কারণ, পাকিস্তানকে নিয়ে তুরস্ক ও সৌদি আরব সামরিক জোট করতে চাইছে কিছুকাল ধরে। নেতানিয়াহুর কাছে এটাই ‘সুন্নি অক্ষশক্তি’!


পাকিস্তান কি ‘লক্ষ্যবস্তু’ হয়ে গেছে


পাকিস্তান যে ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, সেটা খোদ দেশটির নীতিনির্ধারকেরাও বিভিন্ন সময় বলেছেন। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফও ৩ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, পাকিস্তানকে একটা অনুগত রাষ্ট্র বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে জায়নবাদীদের। ইরানে সফল হওয়ার পর ভারত ও আফগানিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে ইসরায়েল সেটা বাস্তবায়ন করতে চাইবে। এ প্রসঙ্গে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের ৯০০ কিলোমিটার সীমান্তের উল্লেখ করে খাজা আসিফ বলেন, প্রথমোক্ত দেশে জায়নবাদীদের নিয়ন্ত্রণ কায়েম শেষে কোনো পুতুল সরকার বসলে তার প্রভাব তাঁদের সীমান্তেও পড়বে। এই বক্তব্যে খাজা আসিফ তাঁর দেশের নিরাপত্তায় পারমাণবিক বোমার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারও উল্লেখ করেন।


ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরোধিতা করতে গিয়ে পাকিস্তানে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ জন মারা গেছেন। নিজ দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বিবৃতিও সেখানকার নাগরিক সমাজে বিশেষ মনোযোগ পেয়েছে। বহির্বিশ্বেও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর উদ্বেগ বড় খবর তৈরি করেছে। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে, তাঁর শঙ্কা কতটা বাস্তব? 


ইসরায়েলের জন্য পাকিস্তান কতটা হুমকি


বিশ্বজুড়ে অন্তত ৯টি দেশে পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র রয়েছে। তালিকায় আছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলও। সে ক্ষেত্রে ইরান বা পাকিস্তানের হাতে একই সমরাস্ত্র প্রযুক্তি থাকলে সমস্যা কোথায়? এ রকম প্রশ্ন যৌক্তিক হলেও তার উত্তর চাওয়া বা দেওয়ার মতো মেরুদণ্ডসম্পন্ন আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থা এখন আর নেই। বাস্তবতা দাঁড়িয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা ঠিক করে দেবে কার কাছে কী ধরনের অস্ত্র কতটা থাকতে পারবে বা আদৌ থাকতে পারবে কি না। পছন্দ-অপছন্দের এই সমীকরণে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও দাপট বেশি ইসরায়েলের। তারা চায় মুসলমানপ্রধান কোনো দেশের হাতে পারমাণবিক প্রযুক্তি না থাকুক। 


তাদের এই চাওয়ার নিজস্ব অনেক ব্যাখ্যা আছে। সেসবের সারকথা, মুসলমানপ্রধান এমন কোনো দেশ তারা দেখতে চায় না, যারা আরব ভূমিতে ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ কায়েমে বিরোধিতা করতে পারে। মুসলমানপ্রধান কোনো দেশের হাতে এ রকম প্রযুক্তি থাকলে সেটা একই ধর্মাবলম্বীদের অন্যান্য দেশের কাছেও যেতে পারে বলে তাদের দাবি। ইসরায়েলের এই দুই বিবেচনার সঙ্গে ভারতের আরএসএস-বিজেপি পরিবারের সায় আছে। সে জন্যই নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এ নিয়ে দুবার ইসরায়েল গেলেন।


পাকিস্তানের সঙ্গে নিজেদের ঐতিহাসিক বিবাদ ও শত্রুতার সমীকরণে ভারতের এখনকার শাসকেরা ইসারায়েলকেও টেনে আনতে চায়। বিষয়টা উল্টোভাবেও বলা যায়, পারমাণবিক প্রযুক্তি বিষয়ে ইসরায়েল নিজের আন্তদেশীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে নয়াদিল্লির সঙ্গে মৈত্রীর সুযোগ দেখছে। এভাবেই পাকিস্তানের জন্য নতুন এক দুর্ভাবনার জায়গা তৈরি হচ্ছে—খাজা আসিফ যে কথা খোলামেলা বলে ফেললেন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও