বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সামনে কেমন হতে পারে

প্রথম আলো সালেহ উদ্দিন আহমদ প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০২৬, ১১:২৪

এটা কোনো গোপন কথা নয় যে বাংলাদেশে ভারতবিরোধিতা এখন বেশ তুঙ্গে। আবার ভারতে বাংলাদেশের জন্য সৌহার্দ্যের বন্যা বইছে, এমন কথাও বলা যাবে না। ৫ আগস্টের পর এই বৈরিতা সীমান্তের দুই পাশেই আরও স্পষ্টভাবে বিস্তার পেয়েছে। সম্পর্কের এই টানাপোড়েন নিয়ে কিছুটা লেখালেখি হয়েছে। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা খুব সহজ ছিল না।


৫ আগস্ট থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে যেন একধরনের বরফ জমে আছে। দুই দেশের কোনো সরকারই এই বরফ ভাঙতে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি। ভারত ধরে নিয়েছিল, মাহফুজ ও নাহিদদের প্রভাব ডিঙিয়ে ইউনূস সরকারের সঙ্গে নতুন করে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়া সম্ভব হবে না; তাই অপেক্ষাই ভালো। অন্যদিকে অধ্যাপক ইউনূসের নীতিনির্ধারকেরাও ‘দিল্লি না ঢাকা’ অনুভূতির বাইরে গিয়ে কোনো বড় উদ্যোগ নিতে সাহস করেননি।


যদিও এই বরফাচ্ছন্ন পরিস্থিতির মধ্যেও সম্পর্কে মোটামুটি একটি স্থিতিশীলতা ছিল। তবে মাঝেমধ্যে দুই দেশের না–বাদীরা নানা উপায়ে সেই স্থিতাবস্থা নড়বড়ে করার চেষ্টা করেছেন। যেমন উত্তর–পূর্ব ভারতের সাত রাজ্য নিয়ে বাংলাদেশের কিছু স্বপ্নবাদী মানুষ বিভিন্ন ধরনের মানচিত্র এঁকে ভারতীয়দের ক্ষুব্ধ করেছেন। আবার ভারতের উগ্রবাদীরাও বাংলাদেশের কিছু বিচ্ছিন্ন মব ঘটনার অতিরঞ্জিত ব্যাখ্যা দিয়ে সাম্প্রদায়িকতার প্রচারণা ছড়িয়েছেন। হিন্দু ধর্মগুরুদের শান্ত করতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দিয়েছে, এতে এ দেশের জনতার ক্ষোভও বেড়েছে। এসব ঘটনা উত্তেজনা তৈরি করেছে, কিন্তু স্থিতাবস্থা বা স্ট্যাটাস কো ভাঙতে পারেনি।


বরফের নিচের স্থিতাবস্থা


ঠান্ডা দেশের শীতে পুকুর, বিল বা নদীর পানির উপরিভাগ জমে বরফ হয়ে যায়। তাপমাত্রা যত কমে, সেই বরফ তত শক্ত হয়। কিন্তু শক্ত বরফের নিচে পানি ঠিকই প্রবাহিত হয়, শ্যাওলা জন্মায় ও মাছেরা সাঁতার কাটে। অনেক সময় ওপরকার বরফই নিচের পানির তাপ ধরে রাখার ইনসুলেটরের মতো কাজ করে।


ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কেও ওপরকার বরফ একধরনের স্থবিরতা তৈরি করেছে। কিন্তু সেই স্থবিরতা দুই দেশের সরকারকে সুযোগ দিয়েছে বিরোধীদের দৃষ্টি এড়িয়ে ভেতরে ভেতরে একটি স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে। দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা বুঝতে হলে মোটামুটি তিনটি পরিমাপের দিকে তাকালেই চলে। সীমান্ত, বাণিজ্য এবং রাজনীতি ও কূটনীতি। এর বাইরে অবশ্য আরও অনেক বিষয় আছে। যেমন সৌহার্দ্য, ভিসানীতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গণমাধ্যমের আলোচনাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে এসবই মূলত ওই তিন ক্ষেত্রের প্রতিফলন। এই তিনটির যেকোনো একটিতে সমস্যা তৈরি হলে অন্য ক্ষেত্রেও তার প্রভাব দেখা যায়।


সীমান্ত


বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে ভূখণ্ডগত বড় কোনো বিরোধ নেই। তবু মাঝেমধ্যে কিছু সহিংস ঘটনা ঘটত, যার বেশির ভাগই ছিল অসামরিক। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ–ভারত সীমান্ত তুলনামূলকভাবে শান্ত। এর জন্য দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নেতৃত্বকে কৃতিত্ব দিতেই হয়। আগে যে সমস্যাগুলো ছিল, বিশেষ করে সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা, তা অনেকটাই কমে এসেছে।


কিছু ভারতীয় পুশ–ইনের ঘটনা এখনো ঘটে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। যেসব লোককে বাংলাদেশের ভেতরে ঠেলে দেওয়া হয়, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আলোচনার মাধ্যমে তাদের অনেককেই আবার ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।


বাংলাদেশ–ভারত সীমান্ত পৃথিবীর দীর্ঘতম সীমান্তগুলোর একটি। এর দৈর্ঘ্য ৪০৯৬ কিলোমিটার বা প্রায় ২৫৪৫ মাইল। এত দীর্ঘ সীমান্তে বর্তমান পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশ শান্ত।


বাণিজ্য


আজকের পৃথিবীতে কোনো দেশই পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। যেসব প্রয়োজনীয় পণ্যের নিজস্ব উৎপাদন কম, সেগুলো আমদানি করতে হয়। আবার যেসব পণ্য উদ্বৃত্ত, সেগুলো রপ্তানি করে আমদানির ঘাটতি পূরণ করা হয়। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে এই আদান–প্রদান হলে পরিবহন খরচ ও সময় কম লাগে। পণ্যের ধরন ও মানও অনেক সময় দুই দেশের ভোক্তার চাহিদার কাছাকাছি থাকে।


এই কারণেই নানা রাজনৈতিক সমস্যার মধ্যেও বাংলাদেশ–ভারত বাণিজ্য বাড়তেই থাকে। চাল ও পেঁয়াজের মতো পণ্য তো আছেই, গার্মেন্ট শিল্পের জন্য ভারতীয় সুতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন সেই সুতা সমুদ্রবন্দর দিয়েও আসছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জানিয়েছেন, গত অর্থবছরে ভারত থেকে সুতা আমদানি বেড়েছে ১৩৭ শতাংশ। শুধু সুতা নয়, প্রায় প্রতিটি খাতেই ভারত থেকে আমদানি বেড়েছে। হিসাব বলছে, গত অর্থবছরে ভারত থেকে মোট আমদানি বেড়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও