সরকারের ৬ মাস: সামনে অর্থনীতির কঠিন সমীকরণ

প্রথম আলো ড. সেলিম রায়হান প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৪৭

ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর ছয় মাস হতে চলল। এই ছয় মাসে বাংলাদেশের অর্থনীতির কিছু সূচকে উন্নতি দেখা গেলেও সামগ্রিক স্বস্তির কারণ খুব বেশি নেই। প্রবাসী আয় শক্তিশালী, মূল্যস্ফীতি আগের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা নেমেছে, সরকার সামাজিক সুরক্ষা ও কৃষিসহায়তায় নতুন কর্মসূচি নিয়েছে। কিন্তু এর বিপরীতে বেসরকারি বিনিয়োগ দুর্বল, ব্যাংক খাতের সংকট গভীর, রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি রয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চিত এবং সরকারের ঋণ ও সুদ পরিশোধের চাপ বাড়ছে। তাই প্রশ্নটি শুধু অর্থনীতি স্থিতিশীল হচ্ছে কি না, সেটি নয়; বরং প্রশ্ন হলো, সরকার কি সমস্যাগুলোর প্রকৃতি সঠিকভাবে চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত নীতি গ্রহণ করছে?


মূল্যস্ফীতি এ মুহূর্তে সবচেয়ে দৃশ্যমান সমস্যা। জুলাইয়ে হার কিছুটা কমলেও তা এখনো ৮ শতাংশের ওপরে। এটিকে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বলা যায় না। দীর্ঘ সময়ের উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের প্রকৃত আয় কমেছে, সঞ্চয়ের মূল্য ক্ষয় হয়েছে এবং খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের ব্যয় বেড়েছে।


মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ দাম কমা নয়; দাম আগের তুলনায় ধীরগতিতে বাড়ছে মাত্র। ফলে নীতিনির্ধারকদের আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। কঠোর মুদ্রানীতি প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু শুধু উচ্চ সুদের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি কমাতে গেলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে চাপ বাড়বে। বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির বড় অংশ খাদ্য সরবরাহ, আমদানি ব্যয়, বিনিময় হার, জ্বালানি খরচ ও বাজার ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও যুক্ত।


বহিঃখাতে প্রবাসী আয় কিছুটা সুরক্ষা দিচ্ছে। কিন্তু রপ্তানির দুর্বলতা এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে রেমিট্যান্সের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নতুন ঝুঁকি তৈরি করে। শক্তিশালী রেমিট্যান্স স্বস্তি দেয়, কিন্তু উৎপাদনশীলতা, রপ্তানিবৈচিত্র্য এবং বিনিয়োগের দুর্বলতার বিকল্প নয়। দীর্ঘ মেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতি টেকসই করতে হলে পণ্য ও সেবা রপ্তানির ভিত্তি বিস্তৃত করতে হবে।


বেসরকারি বিনিয়োগের দুর্বলতা আরও উদ্বেগজনক। বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্মেলন, অর্থনৈতিক অঞ্চল, কর প্রণোদনা বা নতুন প্রতিষ্ঠান কম নেই। কিন্তু উদ্যোক্তারা সিদ্ধান্ত নেন বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ কতটা নির্ভরযোগ্য, ঋণের খরচ কত, বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায় কি না, কর ও শুল্কের নিয়ম কতটা পূর্বানুমানযোগ্য, অনুমোদনে কত সময় লাগে—এসবই বিনিয়োগ নির্ধারণ করে। দেশীয় উদ্যোক্তারাই যখন নতুন বিনিয়োগে সতর্ক, তখন শুধু বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রচার যথেষ্ট হবে না। বিনিয়োগের সমস্যা আসলে আস্থার সমস্যা, আর সেই আস্থা তৈরি হয় নীতির ধারাবাহিকতা ও প্রতিষ্ঠানের আচরণ থেকে।


জ্বালানিসংকট এই দুর্বলতাকে আরও বাড়িয়েছে। এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন, গ্যাসের ঘাটতি এবং সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকার ঘটনা দেখিয়েছে যে বাংলাদেশের জ্বালানিব্যবস্থায় স্থিতিস্থাপকতা সীমিত। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বা সরবরাহে একটি ধাক্কা দ্রুত অভ্যন্তরীণ উৎপাদন, মূল্যস্ফীতি এবং বিনিয়োগে প্রভাব ফেলে। সরকার জরুরি আমদানি, ঋণ ও ভর্তুকির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামলাতে পারে, কিন্তু এগুলো সময় কেনে মাত্র। মূল সমস্যা রয়ে যায়। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, আমদানির উৎসবৈচিত্র্য, শক্তিদক্ষতা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং গ্রিড উন্নয়নে দ্রুত অগ্রগতি না হলে একই সংকট বারবার ফিরে আসবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও