ভালোবাসার আয়ু যখন মাত্র এক মাস

জাগো নিউজ ২৪ ড. মো. ফখরুল ইসলাম প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০২৬, ২০:০৩

এবছর জাতীয় নির্বাচন, রমজানের রোজা এবং আরো নানা কারণে একুশের বইমেলা দেরিতে শুরু হয়েছে। নির্বাচিত নতুন সরকার এবছর মেলায় স্টল বরাদ্দের জন্য ফি মওকুফ করে দিয়েছেন। রোজার মধ্যে শুরু হওয়া বইমেলায় দিনের বেলা ক্রেতা-দর্শক সমাগম অনেকটা কম হলেও ইফতারের পর জনসমাগম বাড়ছে। বইপ্রেমিকদের সাথে কচিকাঁচাদের উপস্থিতিও বেশ লক্ষণীয়। শিশুরা ছাপানো বইয়ের তুলনায় কৃত্রিম শব্দসম্বলিত ই-বুক বেশি পছন্দ করে।


এবছর ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বইমেলা ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে ঈদুল ফেতের পর্যন্ত চলতেও পারে। বর্তমান এআই যুগের পড়া-লেখার আদলে নতুন আঙ্গিকে শুরু হওয়া বইমেলা আমাদেরকে কী ধরনের বইপুস্তক উপহার দিচ্ছে তা অনেকের কাছে বিরাট কৌতূহলের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপরেও বাংলা ভাষাভাষীদের নিকট প্রাণের আবেগ মেশানো চিরন্তন চিন্তাভাবনার একুশে বইমেলা বলে কথা!


আমাদের দেশে প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাস এলেই বাংলা ভাষার ওপর নানা চিন্তাভাবনা শুরু হয়ে যায়। বিভিন্ন সেমিনার, বইমেলা, আলোচনা সভায় বাংলা ভাষার ভালো-মন্দের ওপর ব্যবচ্ছেদ চলে। অনেকের মনে একুশের প্রতি দরদের মাত্রা যেন উথলে উঠে। তাঁরা বাংলা ভাষার ওপর নানা পরামর্শ ও প্রতিশ্রুতি দেন। কেউ কেউ সেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দ্রুত তাগিদও দেন। তবে ফেব্রুয়ারি মাসটি শেষ হলেই যেন সবাই সবকিছু বেমালুম ভুলে যেতে বসেন। এভাবে প্রতিবছর একুশের প্রতি দরদ-তাগিদ শুধু একমাসে মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে দেখা যায়। এ অবস্থাদৃষ্টে অনেকে এটাকে বাংলা ভাষার প্রতি প্রতারণা ও অমর্যাদাকর বিষয় বলে মনে করেন।


কারণ, আমরা অনেকে দায়িত্বশীল পদে থেকে নানা প্রতিশ্রুতির কথা জনসম্মুখে বলে ফেললেও কার্যত: সেগুলো বাস্তবায়ন করতে অনীহা ও অপারগতা দেখাই। ফলে ইতিবাচক কোনো নীতিমালা অদ্যাবধি গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। এর প্রভাব আমাদের প্রিয় মাতৃভাষাকে ব্যবহারিক দিক দিয়ে ভীষণ নাজুক অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। আমরা এর প্রতিকার করার উপায় খুঁজে পাচ্ছি না বরং উল্টো এই নাজুক অবস্থাকে লাইসেন্স ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে লালন করছি।


সেদিন পার্কে এক বিদেশিনিকে চমৎকারভাবে বাংলাভাষায় কথা বলতে দেখে কিছুটা আবেগাপ্লুত স্বরে জিজ্ঞাসা করেছিলাম- তাঁর দেশ কোথায়? কীভাবে বাংলা ভাষা শিখলেন? তিনি জানালেন, ‘আমেরিকা। পরিবারের কাছে বাংলা শিখেছি।’


বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ কেমন? জানতে চাইলে তিনি উত্তরে যা বললেন তা শুনে আমি কিছুটা বিব্রত হলাম। তিনি শোনলেন- আপনারা কথা বলার সময় ইংরেজি-বাংলা মিশিয়ে কথা বলেন। তাতে বিদেশিদের সহজে বোঝার উপায় নেই যে আপনি আসলে কোন ভাষায় কথা বলছেন।
ধরুন আপনি একটি সেমিনারে বক্তার উত্তরে বললেন-‘আপনার কমেন্টস গুলোকে স্ট্রংলি সাপোর্ট করছি।’ এই বাক্যে তিনটি বাংলা ও তিনটি ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করলেন। এতে বোঝা গেল না- এটা আসলে কোন ভাষা! এভাবে এফএম রেডিও, টিভি- সবখানেই মিশ্রভাষা ব্যবহার করা হয়। যেটা বাংলা ভাষার নিজস্ব ব্যবহার বিধি ও মর্যাদাকে নষ্ট করছে। বিদেশিনিকে যুক্তি দিয়ে আমাদের ভাষার দুর্বল ব্যবহারবিধি চিহ্নিত করতে দেখে লজ্জায় আমার মাথা হেঁট হয়ে গেল। বাংলাভাষায় এভাবে মিশ্রণ করতে গিয়ে ইংরেজি শব্দগুলোকেও আমরা বিকৃতভাবে উচ্চারণ করে থাকি। সেটাও বিদেশিদের জন্য বোঝা মুষ্কিল হয়ে দাঁড়ায়।


অবাধ ইন্টারনেটের যুগে ভিনদেশি কৃষ্টি-সংস্কৃতির আগ্রাসন আমাদেরকে বাংলা ভাষার নিজস্ব ব্যবহার বিধি ও স্বকীয়তা থেকে অনেক দূরে ঠেলে দিয়েছে। বাচ্চারা হিন্দি কার্টুন দেখে হিন্দিতে কথা বলছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও