তিনি কোথায় মানাবেন
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি নিজেই জানিয়েছেন, তিনি অসুস্থ, তাই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দেশের সাংবিধানিক কাঠামোয় রাষ্ট্রপতির একটি নির্দিষ্ট ভূমিকা আছে, তা আমরা সবাই জানি। তবে বাস্তবতা হলো, বর্তমান সংসদীয় ব্যবস্থায় পদটি মূলত আলংকারিক। তাকে বঙ্গভবনের আনুষ্ঠানিকতাতেই বেশি দেখা যায়। রাষ্ট্রের প্রকৃত নির্বাহী ক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে; রাষ্ট্রপতিকে সেই কাঠামোর ভেতরে থেকেই কাজ করতে হয়। সাংবিধানিক সংকটে রাষ্ট্রপতি এগিয়ে আসতে পারেন-এটা সত্য; তবে এ সংকট তৈরি হোক, তা কেউ কাম্য করে না।
রাষ্ট্রপতি পদটি আসলে কোনো ক্ষমতার আসন, নাকি এক ধরনের সম্মানজনক নিঃসঙ্গতা-এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজলে দেখা যায়, পদটি বরং দ্বিতীয়টিরই কাছাকাছি। রাষ্ট্রপতিকে নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভেতরে থাকতে হয়; রুটিন প্রশাসনিক কাজের বাইরে তার হাতে তেমন কিছু থাকে না। যিনি এ আসনে বসেন, তিনি রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের মধ্যে বন্দি হয়ে পড়েন এবং দলীয় রাজনীতিতে সরাসরি অংশ নিতে পারেন না। সংবিধান তাকে দলনিরপেক্ষ থাকার বাধ্যবাধকতা দেয়; ফলে যিনি সারাজীবন দলীয় রাজনীতির মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছেন, তার জন্য এ নিরপেক্ষতা আসলে এক ধরনের রাজনৈতিক অবসরই বটে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- রাষ্ট্রপতি