শহীদ জিয়া : ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ, আদর্শের রূপকার
তার জন্ম ইতিহাস পড়ার জন্য নয়, হয়েছিল ইতিহাস সৃষ্টি করার জন্য। তার জীবন কেবল বেঁচে থাকার জন্য, দেশের জন্য, বিলিয়ে দেওয়ার জন্য। তার ভালোবাসা নিজ কিংবা শুধু পরিবারের জন্য নয়, ছড়িয়ে পড়েছিল ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের মাটি-মানুষ, নদী-নালা, হাওড়-বিল, পাহাড়-সমুদ্র আর তরুলতার ওপর। তিনিই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। যিনি বলেছিলেন, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ’। তার সেই কালজয়ী উক্তি আজ বিশেষ করে মনে পড়ে বিএনপির নির্বাচনমুখী প্রচারণা দেখে। তারই পবিত্র রক্তবাহী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শিরোনামে যে ধারণা ইতোমধ্যে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন, সেটি তার মরহুম পিতা শহীদ জিয়ারই মতাদর্শ। তাই রাষ্ট্রপতি জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষ্যে বিশেষ এ লেখায় প্রসঙ্গটি না টেনে পারা গেল না।
মেজর জিয়া। বাংলাদেশের অভ্যুদয় থেকে শুরু করে এর স্থিতিশীলতা, অতঃপর আধুনিকতার পথে যাত্রা-সবখানেই এ নামটি জড়িয়ে রয়েছে। একাত্তরে তিনি যদি বিদ্রোহ ঘোষণা করে স্বাধীনতার ঘোষণা না দিতেন, তাহলে স্বাধীনতা পেতে হয়তো আমাদের আরও দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হতো। তার সেই ঐতিহাসিক ‘উই রিভোল্ট’-আজ একটি নতুন বাংলাদেশের সৃষ্টি করেছে, যে বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে একটি স্বতন্ত্র জাতিসত্তা নিয়ে, যে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে সামনের দিকে এবং বিশ্বের বুকে গড়ে তুলেছে তার নিজস্ব পরিচয়।
পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং মহান স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে আধুনিক ও উৎপাদনমুখী বাংলাদেশ রাষ্ট্রগঠনে জিয়ার অবদান ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণোজ্জ্বল হয়ে থাকবে। জিয়ার সততা, দেশপ্রেম, দেশের কল্যাণ সাধনে একাগ্রতা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তা ছিল ঈর্ষণীয়। এসব গুণাবলি তাকে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু জিয়ার এ আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা বাংলাদেশবিরোধী শক্তির সহ্য হয়নি। তাই আধিপত্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্রে দেশি-বিদেশি যোগসাজশে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে কতিপয় বেপথু সৈন্যের হাতে তিনি শাহাদতবরণ করেন। তার বয়স ছিল মাত্র ৪৬ বছর!
১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি এ মহান নেতা জন্মগ্রহণ করেন। ক্ষণকালের অথচ বর্ণিল এ জীবনে জিয়া এদেশের মানুষের জন্য যে আত্মত্যাগ করেছেন, মানুষের কল্যাণ সাধনে যেভাবে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে নিরলস ছুটে বেড়িয়েছেন, তাতে তার দেশপ্রেমের পূর্ণ পরিচয় মেলে। সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জনতার জিয়ায় রূপান্তর, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ দর্শনের প্রবর্তন, আধুনিক ও উৎপাদনমুখী বাংলাদেশ গড়ার মেনিফেস্টো, তথা ১৯ দফা রচনার মতো ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে জিয়া এ দেশের জনতার মাঝে চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন।
মুজিব আমলের দুঃশাসনসৃষ্ট ভঙ্গুর অর্থনীতি ও পরবর্তী নাজুক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামলে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে আসা ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। কিন্তু আজন্ম লড়াকু জিয়া সেই চ্যালেঞ্জ নিলেন। উৎপাদনমুখী রাজনীতির সূচনার মাধ্যমে তিনি পূর্বেকার শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক পদদলিত করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আবারও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলেন। সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে, বিপৎসংকুল পথ মাড়িয়ে তিনি একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার প্রতিজ্ঞা করলেন।