আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আটক নীতি যেভাবে আপত্তিকর হয়ে উঠেছে

ডেইলি স্টার ডেভিড বার্গম্যান প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫৫

প্রথম আলোতে ২০২৫ সালের আগস্টে লিখেছিলাম, ২০২৪ সালের অক্টোবরে—অর্থাৎ ১০ মাস আগে—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে। ওই লেখায় আমি যুক্তি দিয়েছিলাম, শুরুতে কিংবা ১০ মাস পরেও আইসিটির পক্ষ থেকে তার আটক রাখার পক্ষে কোনো প্রামাণ্য ভিত্তি ছিল না। বর্তমানে আরও ছয় মাস পার হয়ে যাওয়ার পর তৌফিক-ই-ইলাহী পূর্ণ ১৫ মাস ধরে অভিযোগ গঠন ছাড়াই আটক রয়েছেন।


এ পর্যায়ে তাকে আটক রাখা কেবল আর্বিট্রারি-ই (যথেচ্ছ) নয়, ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব কার্যবিধির অধীনেও খুব সম্ভবত অবৈধ। আইসিটির কার্যবিধির ৯(৫) ধারায় বলা হয়েছে: তদন্তকালীন সময়ে কোনো আসামি হেফাজতে থাকলে, বিধিমালার অধীনে গ্রেপ্তারের এক বছরের মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত সম্পন্ন করবেন। উপর্যুক্ত নির্ধারিত সময়ে তদন্ত সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে ট্রাইব্যুনাল নির্ধারিত কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আসামিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া যেতে পারে। তবে, ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল তদন্তের মেয়াদ ও আসামিকে হেফাজতে রাখার আদেশ আরও ছয় মাস পর্যন্ত বাড়াতে পারে।


বিধানটির কাঠামো স্পষ্ট। প্রথমত, গ্রেপ্তারের এক বছরের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সেই সময়সীমার মধ্যে তদন্ত শেষ না হলে শর্তসাপেক্ষে আসামিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া যেতে পারে। তৃতীয়ত ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এক বছরের বেশি সময় আটক রাখার অনুমতি কেবল ‘ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে’ দেওয়া যেতে পারে এবং লিখিতভাবে যুক্তিসহ সেটা ব্যাখ্যা করতে হবে।


যুক্তি দেওয়া যেতে পারে যে, বিধির দ্বিতীয় বাক্যে ব্যবহৃত ‘দেওয়া যেতে পারে’ শব্দগুচ্ছের কারণে ট্রাইব্যুনাল জামিন প্রত্যাখ্যানের এখতিয়ার রাখেন। তবে এই এখতিয়ার তৃতীয় বাক্য দিয়ে স্পষ্টভাবে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, এক বছরের বেশি আটক রাখা যাবে কেবল তখনই, যখন ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি বিদ্যমান এবং তা যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে। তাহলে তৌফিক-ই-ইলাহী কেন এখনো আইসিটির হেফাজতে রয়েছেন? আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন ছাড়াই ৮১ বছর বয়সী একজন ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন আটক রাখার মতো কী সেই ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি? প্রকাশ্যে এমন কোনো পরিস্থিতি চিহ্নিত করা হয়নি।


আটকাবস্থায় এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর তৌফিক-ই-ইলাহীর পরিবার জামিন আবেদন করেনি। সম্ভবত পর্যাপ্ত আইনি পরামর্শের অভাবেই সেটা হয়েছে। তবুও যুক্তিযুক্তভাবে বলা যায়, ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব দায়ও রয়েছে। এক বছরের সীমা অতিক্রমের পর কোনো ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি না থাকলে নিজস্ব বিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনালের সক্রিয় উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল এবং তার মুক্তির আদেশ দেওয়া উচিত ছিল।


তবে বিষয়টি শুধু তৌফিক-ই-ইলাহীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাবেক মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যসহ আরও অন্তত সাতজন অভিযুক্ত রয়েছেন, যারা আইসিটির মাধ্যমে অভিযোগ গঠন ছাড়াই এক বছরের বেশি সময় ধরে আটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন দীপু মনি, ফারুক খান, কামাল আহমেদ মজুমদার, শাহজাহান খান, গোলাম দস্তগীর গাজী, ফজলে করিম চৌধুরী ও সাবেক বিচারক শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। তারাও যদি যথাযথভাবে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির লিখিত ব্যাখ্যা ছাড়া এক বছরের তদন্ত সীমার পরেও আটক থাকেন, তাহলে তাদের আটকে রাখা ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব আইনগত কাঠামোর পরিপন্থী বলেই প্রতীয়মান হয়।


এখানে উল্লেখযোগ্য যে আইসিটি যদি তাদের জামিন দেয়ও, তারপরও তারা মুক্তি পাবেন কেবল তখনই যখন দণ্ডবিধির আওতায় অন্য কোনো পৃথক মামলায় আটক না থাকেন। যদিও বর্তমানে তাদের সবাই না হলেও অধিকাংশই অন্য মামলাতেও আটক রয়েছেন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও