সাইবার হ্যাকিং রোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

যুগান্তর ড. শাহ জে মিয়া প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১০:১৮

বিগত সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে দেশের আর্থিক খাতে অর্থ পাচার এবং সাইবার হ্যাকিংয়ের একটি ভয়াবহ সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল। রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে ব্যাংক খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের ঘটনা জাতীয় পত্রপত্রিকায় ছিল বেশ মুখরোচক বিষয়। বাস্তবতা হলো, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মতো ঘটনা আমাদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডকে দুর্বল করে দিয়েছে। ভঙ্গুর এ অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা এবং হ্যাকিং বা সাইবার চুরির ঝুঁকি মোকাবিলা করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনাই এখন নতুন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন একটি অত্যাধুনিক, নিরাপদ এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থাপনার পুনর্গঠন। তাই আমি এ লেখায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল মুদ্রা (সিবিডিসি) কীভাবে একটি প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থাপনা আনতে পারে তা নিয়ে আলোকপাত করতে চাই।


সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল মুদ্রা, যা একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্বারা সরাসরি জারি ও নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এটি দেশের ফিয়াট মুদ্রার একটি ডিজিটাল সংস্করণ। এ প্রযুক্তিগত ভিন্নতা সত্ত্বেও সব ডিজিটাল মুদ্রার মূল লক্ষ্য হলো আধুনিক লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ এবং সহজ করে তোলা। সিবিডিসি প্রচলনের মূল উদ্দেশ্য হলো অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা উন্নত করা, আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সমাজের বৃহত্তর অংশকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে মনিটরিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা।


ডিজিটাল মুদ্রার কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা এগুলোকে প্রথাগত ফিয়াট মুদ্রা থেকে আলাদা করে। ডিজিটাল মুদ্রাগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণের কাঠামোর ভিত্তিতে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত বা বিকেন্দ্রীভূত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কাগজের টাকা বা নোটের মতো প্রথাগত ফিয়াট মুদ্রাগুলো ব্যাংক এবং সরকার দ্বারা কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। অন্যদিকে, ব্লকচেইনভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা একটি বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থায় কাজ করে, যেখানে কোনো একক সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ এটির নিয়ন্ত্রণ করে না।


বর্তমান আধুনিক ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্লকচেইনভিত্তিক সিস্টেম অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হয়। কারণ এটি কোনো ব্যাংক বা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে তহবিল স্থানান্তরের জন্য একটি বিকেন্দ্রীভূত, সুরক্ষিত এবং দ্রুত উপায় সরবরাহ করে। এটি কম ফি এবং আর্থিক পরিষেবাগুলোতে বৃহত্তর অ্যাকসেসযোগ্যতাসহ সীমানাহীন লেনদেনের অনুমতি দেয়, বিশেষ করে যারা ব্যাংকিং পরিষেবা পাননি বা সীমিত পরিষেবা পান। ডিজিটাল মুদ্রা ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে দ্রুত, নিরাপদ এবং আধুনিক লেনদেন প্রক্রিয়াকে সম্ভব করে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।


যাহোক, আলোচনার মূলে ফিরে যাই। বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে প্রযুক্তির দুর্বলতা এবং এর ফলে উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকি অত্যন্ত প্রকট বলে মনে করি। বর্তমানে অনিরাপদ ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং নিুমানের আইটি অবকাঠামো এ চ্যালেঞ্জকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৩ সালে সোনালী ব্যাংকের ঘটনায় সাইবার অপরাধীরা সুইফট আন্তর্জাতিক পেমেন্ট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ৪ কোটি টাকা চুরি করেছিল। এর চেয়েও বড় সাইবার আক্রমণের ঘটনা ঘটে ২০১৬ সালে, যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ১,২৩২ কোটি টাকা ইউএস ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অফ নিউইয়র্ক অ্যাকাউন্ট থেকে চুরি হয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও