প্রবাসী বাংলাদেশি: উদার সমাজে থেকেও কেন সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হচ্ছে

প্রথম আলো মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৭

গত ২৩ জুলাই সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের একটি ছোট ঘটনা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সারা দেশে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি রানী পাল নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি রিল প্রকাশ করেন। পরে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী এক বাংলাদেশি সেই রিল নেতিবাচক ক্যাপশন দিয়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ একই গানের সঙ্গে রিল প্রকাশ করে তাঁর প্রতি সংহতি জানান। (প্রথম আলো, ২৬ জুলাই ২০২৬)।


এই ঘটনা নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেছেন, বিশ্লেষণ করেছেন। কিন্তু ঘটনাটি আমাকে অন্যভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে। হাজার হাজার মাইল দূরে বসে একজন প্রবাসী বাংলাদেশি কেন একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এত আগ্রহ দেখালেন?


শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই। এই লেখা সব প্রবাসী বাংলাদেশিকে নিয়ে নয়। লাখ লাখ প্রবাসী কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। আমার প্রশ্ন তাঁদের নিয়ে নয়। আমার প্রশ্ন হলো, ইউরোপ বা আমেরিকার মতো আধুনিক ও উদার সমাজে দীর্ঘদিন বসবাস করার পরও কেন কিছু বাংলাদেশি দেশের মানুষের ব্যক্তিগত জীবন বা সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন অনুভব করেন?


এই প্রশ্ন উঠল কেন


এই প্রশ্ন হঠাৎ করে আসেনি। ২০০৪ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আগে আমার ধারণা ছিল, মানুষ বিদেশে যায় উচ্চশিক্ষা কিংবা কর্মসংস্থানের জন্য। আমার মাস্টার্স গবেষণার একটি অংশ ছিল যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবার নিয়ে। দ্বিতীয় প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দেখলাম, কেউ বাংলাদেশের সঙ্গে প্রায় সব সম্পর্ক হারিয়ে ফেলেছে। আবার কেউ বহু বছর বিদেশে থাকার পরও বাংলাদেশের রাজনীতি, সমাজ ও ধর্মের বিষয় গভীর আবেগ নিয়ে কথা বলছে। পরে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করার সময়ও একই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে।


দেশে ফিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটে (রামরু) কাজ করার সুযোগ হয়। তখন যুক্তরাজ্যের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একটি যৌথ গবেষণায় কাজ করছিলাম। সেই সময় ব্রিটিশ নৃতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কেটি গার্ডনার একটি সেমিনারে বলেছিলেন, একজন মানুষ বিদেশে গেলে শুধু তিনি একা যান না; তাঁর সঙ্গে যায় পরিবার, স্মৃতি, গ্রামের টান, ধর্মীয় চর্চা এবং নিজের পরিচয়ও। তাই বিদেশে থাকলেও অনেকের মন থেকে নিজের দেশের টান কখনো পুরোপুরি মুছে যায় না। কথাটি তখন শুনেছিলাম, কিন্তু আজ মনে হয়, এর ভেতরে আরও গভীর অর্থ লুকিয়ে আছে।


গবেষণা কী বলে


পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের গবেষকেরাও বহু বছর ধরে একই বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী পেগি লেভিট তাঁর বই দ্য ট্রান্সন্যাশনাল ভিলেজার্স-এ বলেছেন, প্রবাসীরা শুধু টাকা দেশে পাঠান না; তাঁরা নতুন চিন্তা, মূল্যবোধ ও অভিজ্ঞতাও নিয়ে আসেন, যাকে তিনি ‘সোশ্যাল রেমিট্যান্স’ নামে অভিহিত করেছেন। আগে এসব ভাবনা ছড়িয়ে পড়ত চিঠি, টেলিফোন বা ছুটিতে দেশে ফেরার মাধ্যমে। এখন একটি ফেসবুক পোস্ট, ইউটিউব ভিডিও বা লাইভে কয়েক মিনিটের মধ্যেই লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।


নরওয়ের মনোবিজ্ঞানী ডেভিড এল স্যাম এবং কানাডার মনোবিজ্ঞানী জন ডব্লিউ বেরি তাঁদের সম্পাদিত বই দ্য কেমব্রিজ হ্যান্ডবুক অব অ্যাকালচারেশন সাইকোলজিতে দেখিয়েছেন, নতুন দেশে গিয়ে সবাই একইভাবে মানিয়ে নেন না। কেউ নতুন সমাজের সঙ্গে সহজেই মিশে যান; কেউ নিজের ভাষা, ধর্ম আর সংস্কৃতিকে আরও শক্ত করে ধরে রাখেন। আবার অনেকের মধ্যে দুটিরই মিশ্রণ দেখা যায়।


এই গবেষণাগুলো থেকে আমার মনে হয়েছে, বাংলাদেশে আমরা এখনো অভিবাসনকে মূলত রেমিট্যান্সের হিসাবেই দেখি। কত মানুষ বিদেশে গেলেন বা কত টাকা পাঠালেন, এই আলোচনা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন বিদেশে থাকা মানুষের অভিজ্ঞতা চিন্তা, পরিচয় এবং নিজের দেশকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিকে কীভাবে বদলে দেয়, সেটা নিয়ে আমাদের গবেষণা খুবই কম। বিশ্বায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই পরিবর্তনকে আরও দ্রুত করেছে। ফলে প্রবাসীদের চিন্তা, মতামত ও আবেগ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত বাংলাদেশে পৌঁছে যায়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও