বন্যা ও পাহাড়ধস: মৃত্যু ঠেকানোই হোক সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

www.ajkerpatrika.com আবু তাহের খান প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩১

জাতীয় দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া সমন্বয় কেন্দ্র (এনডিআরসিসি) দেশের ১০টি জেলায় বন্যার পূর্বাভাস দিয়ে ৭ আগস্ট একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। জেলাগুলো হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল; আত্রাই অববাহিকার নওগাঁ ও নাটোর এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুনামগঞ্জ ও সিলেট। বিজ্ঞপ্তিটি একযোগে সব গণমাধ্যমে প্রেরিত হলেও অধিকাংশরাই এটিকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করেছে বলে মনে হয়নি। অথচ অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে বন্যার বছরভিত্তিক ও মাসওয়ারি প্রবণতার দিকে একটু মনোযোগ দিয়ে তাকালে আবহাওয়াবিদ না হয়েও সহজেই বোঝা যায় যে পূর্বাভাসটির যথেষ্ট গুরুত্ব ও বাস্তবতা রয়েছে।


বর্ষার শুরুতে, মাঝপথে অথবা শেষ পর্যায়ে, অর্থাৎ বর্ষা মৌসুমের কোনো না কোনো সময়ে উল্লিখিত জেলাগুলোতে কিংবা এগুলোর কোনো না কোনোটিতে বন্যা হওয়া একটি খুবই নিয়মিত ঘটনা। এমন কোনো বছর নেই, যে বছর এমনটি ঘটে না। কিন্তু এ বছরের বর্ষায় এখন পর্যন্ত এ জেলাগুলোতে তেমন কোনো বন্যা দেখা দেয়নি। ফলে আশঙ্কা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে চলতি বর্ষা মৌসুমের অবশিষ্ট সময়ের মধ্যে এ জেলাগুলো কখনো না কখনো বন্যায় আক্রান্ত হতে পারে। আর ষড়্‌ঋতুর হিসাবে আষাঢ় ও শ্রাবণ মাস বর্ষাকাল হলেও বন্যার পরিধি এ দেশে অনেক সময় ভাদ্রতেও গড়ায়। ফলে এখন শ্রাবণের শেষ সপ্তাহ হলেও চলতি মৌসুমে দেশে বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে এনডিআরসিসি ৭ আগস্ট বন্যা সতর্কীকরণ বিষয়ে যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, তার যথেষ্ট গুরুত্ব অবশ্যই রয়েছে বৈকি! আর সে গুরুত্বকে উপলব্ধি করেই বন্যা মোকাবিলায় সম্ভাব্য করণীয় নিয়ে এখানে খানিকটা আলোকপাত করা হলো, যে আলোকপাতে প্রাণহানি প্রতিরোধের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার তালিকার একেবারে প্রথমে এবং সম্পূর্ণ আলাদাভাবে রাখা হয়েছে। কারণ, সম্পদের পুনর্ভরণ কখনো না কখনো এবং কোনো না কোনোভাবে সম্ভব হলেও জীবনের প্রতিদান কখনোই সম্ভব নয়।

চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতে ইতিমধ্যে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সাত জেলায় যথা চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বন্যা হয়ে গেছে। ওই বন্যার ভয়াবহতা খুব ব্যাপক না হলেও সে সময় অতিবর্ষণজনিত পাহাড়ধসে ব্যাপক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, সরকারি হিসাবে যে সংখ্যা ৫৯ জন। গত ৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া মাত্র সপ্তাহখানেকের ওই বন্যায় এত মানুষের মৃত্যু হওয়াটা নিঃসন্দেহে দুর্ভাগ্যজনক। অনেকেরই অভিযোগ, অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কার বিষয়টি আবহাওয়া অধিদপ্তর আগে থেকেই প্রচার করলেও এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তা জানা থাকা সত্ত্বেও তারা এ ব্যাপারে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় অর্থাৎ তাদের অবহেলা ও গাফিলতির কারণেই এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

এমতাবস্থায় অভিমত হচ্ছে, বর্ষা মৌসুমের অবশিষ্ট সময়ে দেশে যদি কোনো বন্যা দেখা দেয়, যে ধরনের আশঙ্কার কথা এনডিআরসিসি ইতিমধ্যে জানিয়েছে, তাহলে তখন যেন বন্যা মোকাবিলা করতে গিয়ে মৃত্যু প্রতিরোধের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে রাখা হয়। আর সে বিবেচনাসহ সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিম্নে কতিপয় প্রস্তাব ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হলো। আর এনডিআরসিসির পূর্বাভাস ভ্রান্ত প্রমাণিত করে সৌভাগ্যক্রমে এ বছরের বাকি সময়ে বন্যা যদি না-ও হয়, তাহলেও এ সুপারিশগুলো পরবর্তী বছরসমূহের বন্যা মোকাবিলায় কাজে আসবে বলে আশা করা যায়। পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসমূহ হচ্ছে:


এক. বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রাযুক্তিক সক্ষমতা ও এর কর্মীদের কারিগরি দক্ষতার স্তর নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু তারপরও সুখের কথা যে গত ৬ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি ও বন্যার বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর বেশ আগে থেকেই নিয়মিতভাবে সতর্কতামূলক পূর্বাভাস প্রদান করে গেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট জেলাসমূহের স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলেই একসঙ্গে এতগুলো মৃত্যু দেখতে হলো। প্রস্তাব হলো, বন্যা মোকাবিলার ভবিষ্যৎ তৎপরতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন সর্বসাম্প্রতিক এ দুঃখজনক অভিজ্ঞতার কথা মনে রেখে আগে থেকেই পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।


দুই. বাংলাদেশের জেলা পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান একটি প্রশাসনিক সমস্যা হচ্ছে, সেখানে স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের কার্যক্রম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। এবং এ ঘাটতি শুধু দুর্যোগকালে নয়, অন্য স্বাভাবিক সময়েও বিরাজমান। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ যখন বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা পাহাড়ধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তখন তাদের শত ইচ্ছা থাকলেও আকস্মিকভাবে আর সমন্বয় জোরদার করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করা সম্ভব হয় না। আর দুই পক্ষের মধ্যকার সমন্বয়হীনতার এ সংকট স্থানীয় পর্যায়ে সমাধান করাও হয়তো সম্ভব নয়। কারণ, বিষয়টির সঙ্গে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আরও অনেক বিষয় জড়িত রয়েছে, যার মধ্যে একটি হচ্ছে স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষগুলোর হাতে কতটুকু ক্ষমতা দেওয়া হবে বা হবে না, সে বিষয়টি। জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের প্রতি একটি বিনীত অনুরোধ, বন্যাজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তারা একটি স্থায়ী আপৎকালীন সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করুক, যাতে পুরো বন্যা পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব হয় এবং সেখানে মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণকে ন্যূনতম পর্যায়ে রাখা যায়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও