চুয়েটে উপাচার্য নিয়োগের আড়ালে কী হয়েছে

প্রথম আলো ড. নাদিম মাহমুদ প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:১২

গত বছর শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ছিল খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট)। শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছর ২৫ এপ্রিল কুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য ড. মুহাম্মদ মাছুদ এবং সহ-উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল আলমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।


এরপর সেখানে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হযরত আলীকে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও মাসখানেকের মধ্যে তিনিও অব্যাহতি পান।


কুয়েটে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিবাদের ঘটনায় অব্যাহতি পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক সহ-উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল আলমকে সম্প্রতি চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই পদে চলতি বছরের ২৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়টির যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও নিয়োগের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।


চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়ার বিধিবিধান থাকার পরও ঠিক কী কারণে অধ্যাপক আবু সাদাতকে ‘উপাচার্য’ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তা স্পষ্ট না হলেও বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা ফেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই প্রজ্ঞাপনের পর থেকে লাগাতার আন্দোলন করে আসছেন। অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েট উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে রয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীকে খোলাচিঠিও দিয়েছেন।


প্রশ্ন হলো ঠিক কী কারণে শিক্ষার্থীরা ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের’ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন? আর শিক্ষা মন্ত্রণালয় কেন একজন উপাচার্যকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে আরেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে চুয়েটে উপাচার্য বানাল?


এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে জানতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য নিয়োগ আইনে কী বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৩-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী চ্যান্সেলর/আচার্য প্রকৌশল শিক্ষা ও গবেষণার সহিত সম্পৃক্ত একজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশল শিক্ষাবিদকে চার বছরের মেয়াদের জন্য ভাইস-চ্যান্সেলর পদে নিয়োগদান করবেন, আর (৩) ধারায় বলা হচ্ছে, ভাইস–চ্যান্সেলরের পদ শূন্য হইলে কিংবা ছুটি, অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলর কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা ভাইস-চ্যান্সেলর পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত চ্যান্সেলরের ভিন্নরূপ সিদ্ধান্ত না থাকা সাপেক্ষে প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর, ভাইস-চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করবে।


এর বাইরে উপাচার্যকে কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে তাঁহার পদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে ক্ষমতা আচার্যের রয়েছে বলে ১০(২) ধারায় বলা হয়েছে। মূলত এই ধারাটির বলে চুয়েটের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।


আইন বলেই এভাবে একজন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল করা যায়। কিন্তু কোনো ধরনের ব্যাখ্যা ছাড়া একজন শিক্ষককে দুই মাসের মধ্যে নিয়োগ বাতিল করার কৌশলটা যতটা না আচার্যের হাতে তার চেয়ে বেশি ক্ষমতা কোনো একটি মহলের ছিল, যার খেসারত গুনছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। কারা পর্দার আড়াল থেকে এই নিয়োগ নিয়ে কলকাঠি নাড়ছে? এর আগে–পেছনে রাজনৈতিক শক্তির প্রদর্শন চলছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে উপাচার্য নিয়োগের যে ভেলকিবাজি শুরু হয়েছে তা বন্ধের দাবি আমরা এক দশক ধরেই বলে আসছিলাম। নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষকদের ফেলে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপাচার্য বানানোর বিষয়ে আপত্তি তো আছেই। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে শত শত অধ্যাপক রয়েছে, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপেক্ষা করে আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে কেন আনা হবে তা বোধগম্য নয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও