নারীর ছোট চুলে সমাজের আপত্তি

জাগো নিউজ ২৪ তাহনিয়া ইয়াসমিন প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:০০

চুল কেটে আয়নার সামনে দাঁড়ানো একজন নারী হয়তো শুধু নিজের চেহারাটাই দেখছেন। কিন্তু আশপাশের মানুষ তখন যেন তার চুলের সঙ্গে সঙ্গে তার সিদ্ধান্তেরও হিসাব কষতে শুরু করে। চুলটা এত ছোট কেন? আগের মতো রাখলে কি হতো না? মুখের সঙ্গে মানাচ্ছে না। মেয়েদের এত ছোট চুল ভালো লাগে না। আরও একটু লম্বা রাখলে সুন্দর দেখাত।


একটি কাঁচির কয়েকটি কাট যেন মুহূর্তেই হয়ে ওঠে সামাজিক আলোচনার বিষয়।


অদ্ভুত ব্যাপার হলো, একজন পুরুষ চুল ছোট করলে সেটি সাধারণত তার ব্যক্তিগত পছন্দ হিসেবেই দেখা হয়। কেউ তার চুলের দৈর্ঘ্য মেপে চরিত্র, রুচি কিংবা নারীত্বের প্রশ্ন তোলে না। কিন্তু একজন নারী চুল ছোট করলেই সেখানে হাজির হয় ‘মেয়েদের মতো’, ‘সুন্দর’, ‘ভদ্র’, ‘মানানসই’—এমন নানা অদৃশ্য মাপকাঠি।


তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে, একজন নারীর চুলের দৈর্ঘ্য ঠিক করে দেওয়ার অধিকার সমাজ পেল কোথা থেকে?


চুল নয়, আসলে নিয়ন্ত্রণের গল্প


নারীর শরীর ও সৌন্দর্য নিয়ে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ নতুন কোনো বিষয় নয়। পোশাক কেমন হবে, কতটা সাজবে, কতটা হাসবে, কোথায় যাবে, কীভাবে কথা বলবে—এসবের মতোই চুলও যেন দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক প্রত্যাশার একটি অংশ। বিশেষ করে নারীর লম্বা চুলকে অনেক সংস্কৃতিতে সৌন্দর্য, কোমলতা ও নারীত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে। ফলে কোনো নারী যখন সেই প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে ছোট চুল বেছে নেন, তখন সেটিকে অনেকেই নিছক ব্যক্তিগত পছন্দ হিসেবে নিতে পারেন না।


চুল একটু ছোট করলেই শুরু হয় মন্তব্য—‘এত ছোট কেন করলে?’ ‘তোমার মুখের সঙ্গে মানাচ্ছে না।’ ‘লম্বা চুলেই তোমাকে বেশি সুন্দর লাগে।’ কেউ আবার বলে বসেন, ‘ছেলে ছেলে লাগছে’, ‘পাগল পাগল লাগছে।’ কথাগুলো হয়তো অনেকের কাছে নিছক মন্তব্য। কিন্তু যাকে বলা হচ্ছে, তার কাছে প্রতিটি মন্তব্যই হয়ে উঠতে পারে নিজের পছন্দ নিয়ে সন্দেহ তৈরি করার আরেকটি কারণ।


অর্থাৎ চুলের বিষয়টি যেন আর চুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা গিয়ে পৌঁছায় নারীর ওপর সামাজিক প্রত্যাশার জায়গায়।


সৌন্দর্যের সংজ্ঞা কে ঠিক করবে?


কারও লম্বা চুল পছন্দ হতে পারে। কারও ছোট চুল। কেউ চুলে রং করতে পারেন, কেউ একেবারেই স্বাভাবিক রাখতে পারেন। কেউ প্রতিদিন সাজবেন, কেউ সাজবেন না। এসব পছন্দের সঙ্গে একজন মানুষের নৈতিকতা, ব্যক্তিত্ব কিংবা মূল্যবোধের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
অথচ বাস্তব জীবনে নারীদের এমন মন্তব্য শুনতে হয়—‘মেয়েদের চুল ছোট করা উচিত না’, ‘এভাবে কাটলে ছেলেদের মতো লাগে’, ‘বিয়ের পর এমন চুল মানায় না’, ‘স্বামী কী বলবে?’ এমনকি কখনো কখনো চাকরি বা সামাজিক অবস্থানের সঙ্গেও চুলের দৈর্ঘ্যকে জুড়ে দেওয়া হয়।


আমাদের সমাজে নারীর সৌন্দর্যের একটি নির্দিষ্ট ছক তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। লম্বা চুল, কোমল চেহারা, নির্দিষ্ট পোশাক, নির্দিষ্ট আচরণ—সব মিলিয়ে যেন ‘আদর্শ নারী’র একটি ছবি আছে। সেই ছবির বাইরে গেলেই প্রশ্ন। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এই প্রশ্নের বড় অংশই আসে নারীর কাছ থেকেই। একজন নারী আরেকজন নারীকে বলে দেন—কোন চুলে তাকে বেশি সুন্দর দেখায়, কোন পোশাকে তাকে বেশি মানায়, কোন বয়সে কী পরা উচিত।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও