যে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধ অপরিহার্য

জাগো নিউজ ২৪ মহসীন হাবিব প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২৬, ১৫:০৫

ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান যুদ্ধ, গাজা যুদ্ধ, ভেনিজুয়েলায় হস্তক্ষেপ, আফ্রিকা ও ইউরোপকে অস্থির করে তোলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ছিল অত্যাবশ্যক। কীভাবে ওয়াশিংটন রাশিয়ার নর্ড স্ট্রিমে গোপনে হামলা চালিয়ে, আর্কটিক থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় জাহাজ আটকিয়ে বিশ্বের জ্বালানির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় মরিয়া হয়ে উঠেছে, তা অতি সংক্ষেপে বর্ণনা করা দুষ্কর, তবে কাঁচের মতো পরিষ্কার। এক কথায়, যুক্তরাষ্ট্র গোপনে এবং প্রকাশ্যে বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহে ডাকাতি চালিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র একটি জলদস্যু রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।


ইউক্রেন যুদ্ধের নামে রুশ ট্যাংকার ও পরিশোধনাগারে শতাধিক হামলা হয়েছে, যার পেছনে আছে মূলত যুক্তরাষ্ট্র; সঙ্গে আছে ইউকে, ফ্রান্স ও জার্মানি। চীনের তেল ও এলএনজির এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ ইতিমধ্যেই বিঘ্নিত করা হয়েছে। পৃথিবীর বৃহত্তম তেল মজুত দখলের জন্য নির্লজ্জের মতো ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে দেশ থেকে তুলে নিয়েছে। ভেনিজুয়েলার তেল এখন মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে।


বিগত দিনেও যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানির ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। কিন্তু দেশটির তেল ব্যবসার এত উচ্চাভিলাষ ছিল না। একচেটিয়া অস্ত্র ব্যবসা এখন হাতছাড়া। অন্যদিকে দেশটির সরকারের ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ। প্রতিদিন ২.৯০ বিলিয়ন ডলার ঋণের সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে ডাকাতি করে বিভিন্ন দেশ থেকে তেল নিয়ে তা রপ্তানিই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।


অনেকে মনে করছেন যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের উচ্চমূল্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব ফেলবে। না, বাস্তবে তা একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বিষয়গুলো একে একে বর্ণনা করলে পরিষ্কার হয়ে যাবে। লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে, বৈশ্বিক এই সংকটের সময় প্রথমবারের মতো ডলারের মূল্য পড়ছে না, বরং ঠিক উল্টোটা ঘটছে। লক্ষ্য করুন, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র এখন এলএনজি রপ্তানিতে বিশ্বের ১ নম্বর স্থানে উঠে এসেছে। রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের কয়লা, তেল ও এলএনজি রপ্তানি ৯ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহের সবচেয়ে বড় উৎস হয়ে উঠেছে।


মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন ধ্বংস করে যুক্তরাষ্ট্র শুধু রাশিয়ারই ক্ষতি করেনি— তারা ইউরোপকে একটি স্থায়ী গ্রাহকে পরিণত করেছে, দীর্ঘমেয়াদি মুনাফা নিশ্চিত করেছে এবং পেট্রোগ্যাস-ডলারকে সুসংহত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বিশাল মহাসাগরের ওপারের দেশ। তাই এতকাল যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানি ব্যয়বহুল ছিল। পাশেই সস্তা রুশ গ্যাস থাকতে কখনোই কেউ মার্কিন এলএনজি কিনত না। এই ব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্র শেষ করে দিয়েছে। এরই নাম যুদ্ধের লাভ!


একইভাবে তারা ইরান যুদ্ধের আড়ালে বিশ্ব এলএনজির বড় উৎস কাতারের অবস্থান শেষ করে দিয়েছে অত্যন্ত সূক্ষ্ম পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে। যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই ৪ মার্চ দোহাকে তারা দৈব দুর্ঘটনা ঘোষণা করতে বাধ্য করে। কাতারের সবচেয়ে বড় জ্বালানি অঞ্চল হলো রাস লাফান। অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে তারা ইরানকে সুযোগ করে দেয় কাতারের এই রাস লাফানে হামলা চালাতে এবং বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্রকে কার্যত বন্ধ করে দেয়। রাস লাফান থেকে বিশ্বের ২০ শতাংশ এলএনজি রপ্তানি হতো। এভাবে ওয়াশিংটন এক ঢিলে তিন-চারটি পাখি মেরেছে: ইরানের উৎপাদনকে পঙ্গু করে দিয়েছে, কাতারকে বাজার থেকে সরিয়ে দিয়েছে। কাতার চীন ও ইউরোপের সঙ্গে তাদের সস্তা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।


এদিকে আকস্মিক এক দুর্যোগে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি সরবরাহকারী দেশ অস্ট্রেলিয়া ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে। এর ফলে তাদের অর্ধেক এলএনজি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। সময়টা কিন্তু ভয়ানক। মাত্র ৯ দিনের ব্যবধানে কাতার এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বৃহত্তম প্রতিযোগী ছিটকে পড়ল। এই সুযোগে এলএনজির দাম বাড়িয়ে দেওয়া হলো এবং এলএনজিভিত্তিক ডলারকে আরও শক্তিশালী করে দিল। আরও একটি বিষয় আমরা দেখতে পারি। যেদিন কাতারের এলএনজি হাব ধ্বংস হয় (১৮ মার্চ), ঠিক সেই দিনই ইউরোপীয় ইউনিয়ন রুশ স্পট গ্যাস নিষিদ্ধ করে। স্পট গ্যাস হলো এমন গ্যাস, যা তাৎক্ষণিক কেনা যায়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও