ট্রাম্প কি আবার ইরানে সংঘাতে জড়াবেন

www.ajkerpatrika.com রাজিউল হাসান প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২৬, ১০:২২

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধে জড়িয়েছিলেন। তার আগে ইরাকের হাতে ‘গণবিধ্বংসী’ অস্ত্র আছে দাবি করে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যম। সেই দাবি কতটা সত্য ছিল, আজ সারা বিশ্ব জানে। তবে সেই যুদ্ধের একটি বিশেষ দিক ছিল, ইরাকে দীর্ঘদিনের একনায়ক সাদ্দাম হোসেনের পতন।


ইরাক যুদ্ধ বুশ শুরু করেছিলেন ঠিকই, সমাপ্তি টানতে পারেননি। তাঁর উত্তরসূরি বারাক ওবামা ২০১১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। তবে ইরাক যুদ্ধের একটি বিশেষ দিক হলো, সাদ্দাম হোসেনের পতনের পরপরই বলতে গেলে যুদ্ধের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ইরাকি বাহিনী। এরপর মূলত সাদ্দাম হোসেনের অনুগত বাহিনী এবং খণ্ড খণ্ড বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়েছে মার্কিন বাহিনীকে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল জঙ্গিবাদ। ফলে ইরাক যুদ্ধের জয় সুসংহত করতে আট বছর লেগে গিয়েছিল।


ইরান যুদ্ধে অবশ্য প্রথম দিনই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করেছে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী। এরপর দুই দেশের আঘাতে একের পর এক ঝরে পড়েছে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব। খামেনির ছেলে মোজতবা আলী খামেনিকে ঘিরে ইরান ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেও দৃশ্যপটে তিনি নেই। কিন্তু ইরাক যুদ্ধের সঙ্গে এই যুদ্ধের বড় পার্থক্য হলো, খামেনি নিহত হলেও ইরানের সামরিক শক্তি ও কৌশল দমে যায়নি। বরং শুরুর তুলনায় দিনে দিনে তারা আরও কৌশলী হয়ে উঠছে।


কোনো উপায়ান্তর না দেখে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে ইরানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসার চেষ্টা করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার সেই বৈঠক ফলশূন্য। একই শহরে দ্বিতীয় দফার আলোচনার আয়োজন করা হলেও তা শেষ পর্যন্ত আর হয়নি। হরমুজ প্রণালি হলো বিশ্ব অর্থনীতির টুঁটি। সেটা চেপে ধরে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় দুর্বল হলেও দমে যাওয়ার পাত্র নয়। কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় কোনো ফল না পেয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি ইরানের দখলমুক্ত করারও চেষ্টা করেছেন। সেখানে ইরানি জাহাজ অবরোধের পাশাপাশি মিত্রদের জাহাজ চলাচলে সামরিক শক্তি প্রয়োগের চেষ্টা করেছেন তিনি। কিন্তু তাতেও ফল হয়নি। বরং একসময় হাল ছেড়ে দিয়ে হরমুজ থেকে সরে যায় মার্কিন বাহিনী।

ট্রাম্প ঘোষিত একের পর এক যুদ্ধবিরতি আর দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি শর্তের মধ্যেই এখন ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা সীমিত হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ ইরান যুদ্ধ বন্ধে যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। দুই দিন আগে তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি ক্রমেই আরও বেশি ভঙ্গুর হয়ে উঠছে। এর মাধ্যমে তিনি মূলত ইরানে আবারও হামলা চালানোর হুমকি দিচ্ছেন। তিনি হয়তো প্রত্যাশা করছেন, ইরান এই হুমকিতে ভয় পেয়ে তাঁর শর্তে রাজি হয়ে যাবে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করে ইরানের দিক থেকে মনোযোগ সরাতে পারবেন।


কিন্তু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণে যা আঁচ করা যাচ্ছে, তা হলো—ইরান সহজে বশে আসবে না। তারা বুঝে গেছে, হরমুজ প্রণালি পারমাণবিক বোমার চেয়েও বড় ‘বোমা’। এই প্রণালিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করলে রথী-মহারথীরা বশে না এলেও কথা শুনতে বাধ্য। আর তাই তো যেকোনো মূল্যে ইরান হরমুজ নিজেদের দখলে রাখতে মরিয়া। তাদের দেওয়া শর্তাবলিতে হরমুজের ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব মেনে নেওয়ার শর্ত সবচেয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও