You have reached your daily news limit

Please log in to continue


অষ্টাদশ সংশোধনী ও দেশের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ

বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে ৫ আগস্ট ২০২৪ এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ একটি যুগান্তকারী অধ্যায় হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদের বিলুপ্তি, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন, গণভোট আয়োজন এবং পরবর্তী সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র একটি নতুন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। তবে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তন যত দ্রুত ঘটে, তার সাংবিধানিক বৈধতা ও স্থায়িত্বের প্রশ্ন তত দীর্ঘস্থায়ী হয়। ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তন, সামরিক শাসন, পঞ্চম সংশোধনী, সপ্তম সংশোধনী এবং অষ্টম সংশোধনী সম্পর্কিত বিচারিক সিদ্ধান্তগুলো বাংলাদেশের সাংবিধানিক বিবর্তনের জটিল বাস্তবতা তুলে ধরে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান : সাংবিধানিকতা নাকি বিপ্লব

৫ আগস্ট ২০২৪-এর ঘটনাকে ঘিরে মূলত তিনটি মতবাদ গড়ে উঠেছে। ক. সংবিধানপন্থি মতবাদ : এই মতবাদের অনুসারীরা মনে করেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সব পদক্ষেপ বিদ্যমান সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদক্ষেপ, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং পরবর্তী নির্বাচন-সবকিছুই সংবিধানের ধারাবাহিকতার অংশ। খ. বিপ্লবপন্থি মতবাদ : এ পক্ষের মতে, ৫ আগস্ট ছিল একটি সফল গণবিপ্লব। প্রধানমন্ত্রী গণভবন ত্যাগ করার পর কার্যত পূর্ববর্তী সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙে পড়ে। পরবর্তী রাষ্ট্রব্যবস্থা জনগণের বিপ্লবী ম্যান্ডেট থেকে বৈধতা অর্জন করে। গ. পতিত সরকারপন্থি মতবাদ : তাদের দাবি, সংবিধান অনুযায়ী বিকল্প সরকার গঠনের সুযোগ ছিল। সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ছিল অসাংবিধানিক পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যতে বিচারিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া : সাংবিধানিক প্রশ্ন

রাষ্ট্রপতি ৬ আগস্ট ২০২৪ তারিখে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন। সরকারি সারসংক্ষেপে যুক্তি হিসাবে বলা হয়েছিল, ‘সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলা, জনস্বার্থ, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জীবন যাতে বিপদের সম্মুখীন না হয়।’ কিন্তু প্রশ্ন হলো, সংবিধানের ৫৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ এবং বিকল্প সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনুপস্থিতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টি আবশ্যক। এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকে যায়-রাষ্ট্রপতি কি সংবিধানের ৫৭(২) অনুচ্ছেদের পূর্ণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছিলেন, নাকি ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের ব্যতিক্রমী ব্যাখ্যার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন? এ প্রশ্ন ভবিষ্যতের বিচারিক বিতর্কের অন্যতম ভিত্তি হতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকার এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ

সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের আলোকে আপিল বিভাগের মতামত গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে যায়-১. আপিল বিভাগের সব বিচারপতিকে কি নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল? ২. যথাযথ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল কি? ৩. শুনানি কি উন্মুক্ত আদালতে হয়েছিল? ৪. মতামত প্রদানের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে অনুসৃত হয়েছিল কি? ভবিষ্যতে এ প্রশ্নগুলো বিচারিক পর্যালোচনার মুখোমুখি হতে পারে।

নির্বাচন আয়োজন ও ১২৩ অনুচ্ছেদের প্রশ্ন

সংবিধানের ১২৩(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ বিলুপ্ত হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে। দ্বাদশ সংসদ ৬ আগস্ট ২০২৪ তারিখে বিলুপ্ত হয়েছিল। সেই হিসাবে সাংবিধানিক সময়সীমার প্রশ্ন সামনে আসে। অতএব প্রশ্ন হলো, পরবর্তী নির্বাচন কোন আইনগত কাঠামোর অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল? যদি তা সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের আওতায় না হয়ে থাকে, তবে তার বৈধতার উৎস কোথায়?

১৩ নভেম্বর ২০২৫-এর প্রজ্ঞাপন নং-০১

অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক জারিকৃত এ প্রজ্ঞাপনকে অনেকেই পরবর্তী সাংবিধানিক কাঠামোর প্রথম আইনগত ভিত্তি হিসাবে বিবেচনা করেন। প্রশ্ন উঠতে পারে, ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই কি এ ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি করা উচিত ছিল? প্রজ্ঞাপনের বৈধতা কী? এটি কি সংবিধানের বাইরে নতুন আইনগত ভিত্তি তৈরি করেছে? ভবিষ্যতের সাংবিধানিক বিতর্কে এ প্রজ্ঞাপন একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসাবে বিবেচিত হতে পারে।

দায়মুক্তি প্রশ্ন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য দায়মুক্তি প্রদানসংক্রান্ত অধ্যাদেশ ইতোমধ্যে সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদে দায়মুক্তি প্রদানের নজির বিদ্যমান। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, দায়মুক্তি কি কেবল একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব? নাকি সংবিধানের মূল কাঠামোর মধ্যেই এর স্পষ্ট ভিত্তি থাকা প্রয়োজন? এ ক্ষেত্রে প্রস্তাব করা যায়-সংবিধানের প্রস্তাবনায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা; অথবা ৪৬ অনুচ্ছেদে পৃথক উপধারা সংযোজন করা।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন