হাওরে বোরো ধানের সাম্প্রতিক ক্ষতি : কারণ ও পরিত্রাণের পথ

কালের কণ্ঠ জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৬, ১০:২৮

বাংলাদেশের হাওরাঞ্চল দেশের বোরো ধান উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে অধিকাংশ কৃষকের প্রধান ফসল বোরো ধান।


এই একটিমাত্র ফসলের ওপর অনেক কৃষকের সারা বছরের আয়, খাদ্যনিরাপত্তা ও ঋণ পরিশোধ নির্ভর করে। তাই ধান কাটার আগমুহূর্তে জলাবদ্ধতা বা বন্যা হলে কৃষক মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েন।


এবার হাওরে ধান ডুবে যাওয়ার প্রধান কারণ ছিল স্থানীয় অতিবৃষ্টি ও তার ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা। এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে টানা বৃষ্টিতে নিচু জমিতে পানি জমে যায়।


বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় ধান পাকতেও কিছুটা সময় নেয়।  হাওরের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এই সামান্য বিলম্বই বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। ধান যখন প্রায় পাকার পর্যায়ে ছিল, তখন জমিতে পানি জমে পাকা ও আধাপাকা ধান ডুবে যায়। পরে আসা পাহাড়ি ঢল পানির চাপ বাড়িয়েছে এবং পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে।


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত হাওর এলাকার ধানের প্রায় ৬৩.৯১ শতাংশ কাটা হয়েছিল। আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাওরে আবাদকৃত জমির মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে এবং ৩৭ শতাংশ ধান তখনো মাঠে ছিল। জেলা হিসেবে তখনো হবিগঞ্জে ৪৫ শতাংশ, কিশোরগঞ্জে ৪৭ শতাংশ, সুনামগঞ্জে ৩৮ শতাংশ এবং নেত্রকোনায় ৩৫ শতাংশ ধান মাঠে ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৮৮ হাজার হেক্টর ছিল নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ জমি, আর এরই মধ্যে প্রায় ২৮ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছিল।


এবারের দুর্যোগে আরেকটি বড় সমস্যা ছিল কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহার করতে না পারা। গত কয়েক বছরে হাওরাঞ্চলে ধান কাটার ক্ষেত্রে যন্ত্রনির্ভরতা বেড়েছিল। কিন্তু এবার জমি আগেই পানিতে ডুবে যাওয়ায় অনেক এলাকায় কম্বাইন হারভেস্টার মাঠে নামানো সম্ভব হয়নি। ফলে যেসব জমির ধান দ্রুত কাটার প্রয়োজন ছিল, সেগুলোও সময়মতো কাটা যায়নি। পাশাপাশি একসঙ্গে এত ধান কাটার মতো পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যায়নি। হাওর এলাকায় কর্তব্যরত ব্রির একজন বিজ্ঞানীর বক্তব্য অনুযায়ী, পানির কারণে হারভেস্টার নামতে পারেনি, আবার যন্ত্রনির্ভরতার কারণে আগের মতো বাইরে থেকে মৌসুমি শ্রমিকও আনা হয়নি। এতে তাড়াহুড়া করেও ধান কাটতে দেরি হয়েছে।


এই ক্ষতি শুধু জমির ধান ডুবে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অনেক জায়গায় কাটা ধানও বৃষ্টির কারণে শুকানো যায়নি। ফলে ধান পচে যাওয়া, অঙ্কুরিত হওয়া বা মান কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাই ক্ষতির হিসাব করতে গেলে শুধু কত হেক্টর জমি পানিতে ডুবেছে তা নয়, বরং কত ধান দেরিতে পেকেছে, কত কাটা ধান শুকানো যায়নি, কত জমিতে যন্ত্র নামানো যায়নি এবং শ্রমিক সংকটের কারণে কত ধান মাঠে পড়ে ছিল—এসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও