জনবান্ধব বাজেট: সংখ্যার বাইরে মানুষের জীবনের হিসাব

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ০২ জুন ২০২৬, ১২:১৬

পুরান ঢাকার একটি ছোট্ট বাজারে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক স্কুলশিক্ষক। হাতে বাজারের ব্যাগ, চোখেমুখে ক্লান্তি। মাছের দাম জিজ্ঞেস করে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন। পরে দোকানদারকে বললেন, ‘অল্প কিছু দিন।’ পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর ছোট ছেলেটি হয়তো বুঝতে পারেনি, কিন্তু বাবার চোখের অস্বস্তি স্পষ্ট ছিল। এই দৃশ্য এখন বাংলাদেশের হাজারো মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের প্রতিদিনের বাস্তবতা। তারা রাষ্ট্রের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের ভাষা বোঝে না; তারা বোঝে চাল, ডাল, ওষুধ, ভাড়া আর সন্তানের শিক্ষার ব্যয়।


একটি রাষ্ট্রের বাজেট মূলত কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি সেই রাষ্ট্রের নৈতিক ও রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন। বাজেট বলে দেয়, রাষ্ট্র কাদের কথা বেশি ভাবছে, কাদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং কাদের ওপর বোঝা চাপাচ্ছে। তাই জনবান্ধব বাজেট মানে শুধু কিছু জনপ্রিয় ঘোষণা নয়; বরং এমন একটি আর্থিক কাঠামো, যা সাধারণ মানুষের জীবন নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও সম্ভাবনাময় করে তোলে।


বাংলাদেশের অর্থনীতি গত এক দশকে অনেক অগ্রগতি করেছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ডিজিটাল সেবায়ও বিস্তার ঘটেছে। কিন্তু একই সঙ্গে বেড়েছে আয়বৈষম্য, জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামাজিক অনিশ্চয়তা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতির চাপ সবচেয়ে বেশি অনুভব করছে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণেও উঠে এসেছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক অস্থিরতা ও দারিদ্র্য বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করে।


এই বাস্তবতায় একটি জনবান্ধব বাজেটের প্রথম শর্ত হলো—মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করা। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মানুষের আয় যদি সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তবে উন্নয়নের পরিসংখ্যান সাধারণ মানুষের কাছে অর্থহীন হয়ে পড়ে। বর্তমানে শহর ও গ্রাম—উভয় জায়গায়ই মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রা চাপে পড়েছে। শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব বাড়ছে, ছোট উদ্যোক্তারা টিকে থাকার লড়াই করছেন, আর নিম্ন আয়ের মানুষ চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার থেকেও ক্রমে দূরে সরে যাচ্ছেন।


দুঃখজনকভাবে আমাদের বাজেট প্রণয়নের সংস্কৃতিতে এখনো অনেক সময় মানুষের চেয়ে অবকাঠামো বড় হয়ে ওঠে। বড় সেতু, উড়ালসড়ক বা মেগা প্রকল্প অবশ্যই প্রয়োজনীয়; কিন্তু একই সঙ্গে প্রয়োজন মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিনিয়োগ। একজন কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, গার্মেন্টকর্মী বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবন যদি নিরাপদ না হয়, তবে উন্নয়ন কাগজে থাকে, বাস্তবে নয়।


একটি জনবান্ধব বাজেটে তাই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক করা জরুরি। বাংলাদেশে বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিডি বা বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি থাকলেও সেগুলোর আওতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রকৃত উপকারভোগী অনেক সময় বঞ্চিত হন, আবার রাজনৈতিক প্রভাব বা দুর্নীতির কারণে সুবিধা চলে যায় অযোগ্যদের হাতে। ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে একটি সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা ডেটাবেইস তৈরি করে এই খাতে স্বচ্ছতা আনা সম্ভব।


শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বাজেট বরাদ্দও জনবান্ধব রাষ্ট্রের অন্যতম সূচক। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এখনো জিডিপির অনুপাতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে কম ব্যয় করে। অথচ একটি জাতির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সবচেয়ে বড় ভিত্তি হলো মানবসম্পদ। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সংকট, ওষুধের অপ্রতুলতা এবং স্বাস্থ্যসেবার বাণিজ্যিকীকরণ সাধারণ মানুষকে অসহায় করে তুলছে। অন্যদিকে শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য বাড়ছে—একদিকে ব্যয়বহুল ইংরেজি মাধ্যম ও বেসরকারি শিক্ষা, অন্যদিকে অবকাঠামোহীন সরকারি প্রতিষ্ঠান।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও