এআই অর্থনীতি ও বাংলাদেশ

ঢাকা পোষ্ট শোয়েব সাম্য সিদ্দিক প্রকাশিত: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৯

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি সত্যিই বাংলাদেশের মতো দেশের অর্থনীতি বদলে দিতে পারবে, নাকি এটা শুধু ধনী দেশগুলোর বিলাসিতা? বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তার উত্তরটা চমকে দেওয়ার মতো।


প্রতিষ্ঠানটি বলছে, উন্নয়নশীল দেশগুলো এখনই সঠিক পদক্ষেপ নিলে যে অগ্রগতি সাধারণত একশ বছরে হয়, তা মাত্র দশ বছরে অর্জন করা সম্ভব। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগতে পারে। তবে বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, এর পেছনে বাস্তব সম্ভাবনাও আছে। বাংলাদেশের সামনেও এই সুযোগ রয়েছে।


বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দরমিত গিল বলেছেন, এআই উন্নয়নশীল অর্থনীতির সামনে একটা সুযোগ এনে দিয়েছে, আর এই সুযোগ লুফে নেওয়া দরকার। কথাটা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বিশ্ব অর্থনীতি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল প্রবৃদ্ধির মুখোমুখি।


বিশ্ব বাণিজ্য এখন শুল্ক যুদ্ধ আর সরবরাহ শৃঙ্খলের টানাপোড়েনে নড়বড়ে। এর মধ্যেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের বিস্ফোরক চাহিদায় ভর করে চীনের মতো দেশ রপ্তানিতে বড় সাফল্য দেখাচ্ছে।


চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশটির কম্পিউটার আর ডেটা প্রসেসিং যন্ত্রাংশের রপ্তানি বেড়েছে সাড়ে পঁয়তাল্লিশ শতাংশের বেশি। এই একটা পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়, এআই আর শুধু প্রযুক্তি খাতের বিষয় নয়। এর সঙ্গে এখন রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান আর জাতীয় প্রবৃদ্ধিও জড়িয়ে যাচ্ছে।


এখানে স্বাভাবিকভাবেই চাকরি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হবে। তবে এখানেই বাংলাদেশের জন্য একটা স্বস্তির খবর আছে। উচ্চ আয়ের দেশগুলোয় প্রায় সাড়ে চৌদ্দ শতাংশ চাকরি এআইয়ের কারণে স্বয়ংক্রিয় হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোয় এই ঝুঁকি মাত্র সাড়ে চার শতাংশ অর্থাৎ ধনী দেশের প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ।


এর একটি কারণ হলো, আমাদের অর্থনীতির বড় অংশ এখনো হাতে-কলমে কাজ নির্ভর। কৃষক মাঠে লাঙল চালান, রিকশাচালক অলিগলি চেনেন নিজের হাতের রেখার মতো, দর্জি হাতে সেলাই করেন। এই কাজগুলো কম্পিউটার প্রোগ্রাম রাতারাতি প্রতিস্থাপন করতে পারবে না।


উল্টো দিকে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রায় ষোলো শতাংশ চাকরিতে এআই মানুষের কাজকে আরও দ্রুত ও নির্ভুল করে তুলতে পারে, যা উন্নত দেশের সম্ভাবনার প্রায় সমান। তাই বাংলাদেশের মতো দেশে এআই কাজ কেড়ে নেওয়ার চেয়ে কাজকে সহজ করার সুযোগই বেশি তৈরি করতে পারে।


কৃষি খাতের কথা ধরা যাক। রাজশাহীর আশপাশের এলাকায় এখন কিছু কৃষক মোবাইলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে সেচের সময় ঠিক করছেন, কেউ আবার ফসলের পাতার ছবি তুলে রোগ শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। এখনো এর ব্যবহার সীমিত পরিসরে। তবে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে কৃষিতে এর প্রভাব বড় হতে পারে।


ভারতে স্থানীয় ভাষায় তৈরি স্বল্প খরচের এআই টুল ইতিমধ্যে লাখো কৃষককে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করছে। বাংলাদেশে একই মডেল প্রয়োগ করলে সার ও পানির অপচয় কমবে, ফলন বাড়বে, কৃষকের হাতে বাড়তি আয় আসবে।


স্বাস্থ্য খাতেও একই সুবিধা মিলতে পারে। দেশের বহু গ্রামে এখনো একজন যোগ্য চিকিৎসক পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথ পাড়ি দিতে হয়। প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ে এআই সহায়তা করলে শহরে না গিয়েও মানুষ দ্রুত পরামর্শ পাবে, সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচবে।


শিক্ষা খাতের চ্যালেঞ্জটা একটু ভিন্ন। অনেক স্কুলে শিক্ষক নেই, থাকলেও বিষয়ভিত্তিক দক্ষতার ঘাটতি আছে। এআই-চালিত ডিজিটাল সহায়ক এই ফাঁক কিছুটা পূরণ করতে পারে। তবে এর পথে একটি বড় সমস্যা আছে, বাংলা ভাষায় পর্যাপ্ত ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার নেই।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও