জ্বালানির দাম বাড়ানো সহজ, অভিঘাত সামলানো কঠিন

www.ajkerpatrika.com এম এম মুসা প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৪

২০ সেপ্টেম্বর রাতে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনটি যখন জারি হলো, তখন ঢাকার পাম্পগুলোতে গাড়ির লম্বা সারি হচ্ছিল। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজেল লিটারে ১১৫ থেকে ১৩৫, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫, পেট্রল ১৪০ থেকে ১৬০ এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চার পণ্যেই এক রাতে ২০ টাকা বৃদ্ধি। ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ একক সমন্বয়।


সরকারের গৃহীত এ সিদ্ধান্তটি কোনোভাবেই সঠিক নয়। কিন্তু নীতিনির্ধারণে প্রশ্নটি কখনোই ভালো বা মন্দের বিষয় নয়; প্রশ্নটি সব সময়ের জন্য হলো বিকল্প কী এবং বাড়তি দাম কে দেবে? সেই তুলনামূলক হিসাবটি না কষে এই সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন সম্ভব নয়।


২০২৬ সালের জ্বালানি বাজারকে বুঝতে হলে মানচিত্রে হরমুজ প্রণালির দিকে তাকাতে হবে। ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত, জ্বালানি ট্যাংকারে হামলা, ইরানি রপ্তানির ওপর নতুন অবরোধ এবং সৌদি আরবের একটি প্রধান পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়া—এ কয়েকটি ঘটনা বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) সেপ্টেম্বরের হালনাগাদ পরিসংখ্যান মতে, আগস্টে ব্রেন্টের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলারে উঠেছে, যা জুলাইয়ের চেয়ে ৭ ডলার বেশি; চলতি বছরে বৈশ্বিক মজুত কমেছে প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ব্রেন্ট ১০৩-১০৫ ডলারেও লেনদেন হয়েছে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৫৫ শতাংশ বেশি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, অর্থ দিয়েও জ্বালানি তেল মিলছে না। একাধিক শিপমেন্ট বাতিল করা হয়েছে।


এই ঢেউ বাংলাদেশের কোষাগারে কীভাবে আছড়ে পড়ল, তার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরিমাপ বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শুধু পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিতেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬৪ কোটি ডলার, আগের অর্থবছরের ৫১৪ কোটি ডলারের বিপরীতে এ বছর বৃদ্ধি পেয়েছে ১০৭ শতাংশ। পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিতেই ব্যয় ৯৪৪ কোটি ডলার, বৃদ্ধি ১০৯ শতাংশ। এক বছরে বাড়তি সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের সমান অর্থ কেবল জ্বালানি তেল কেনার জন্য বাড়তি গুনতে হয়েছে।


এখানে একটি কারিগরি বিষয় সাধারণ আলোচনায় প্রায়ই বাদ পড়ে, অথচ নীতিনির্ধারকের জন্য সেটিই মূল। বাংলাদেশ মূলত অপরিশোধিত তেল কেনে না, কেনে পরিশোধিত পণ্য। যেমন ডিজেল। ফলে আমাদের আমদানি বিলে শুধু ব্যারেলের দাম নয়, পরিশোধন মার্জিন বা ক্র্যাক স্প্রেডও যুক্ত হয়। ২০২৬ সালের বাজারে ডিজেলের সংকট অপরিশোধিত তেলের সংকটের চেয়েও তীব্র হয়েছে। অর্থাৎ ব্রেন্ট যদি ৫৫ শতাংশ বাড়ে, বাংলাদেশের ডিজেলের প্রকৃত ক্রয়মূল্য তার চেয়েও বেশি বাড়ে। এখানে বাংলাদেশের দুর্বলতা হলো অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতার অভাব। চাহিদা অনুযায়ী সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি। এর ধাক্কাই এসে পড়েছে।


বাংলাদেশের জন্য ২০২৬ সালের ধাক্কাটি একমাত্রিক নয়, দ্বিমাত্রিক। তেলের দাম ডলারে নির্ধারিত হয়, কিন্তু বিল পরিশোধ করতে হয় টাকায়। ফলে ব্যারেলের দাম স্থির থাকলেও টাকার অবমূল্যায়ন একাই আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দেয়; আর দুটি একসঙ্গে ঘটলে প্রভাবটি যোগফল নয়, গুণফলে হিসাব করতে হয়। গত কয়েক বছরে টাকা-ডলার বিনিময় হারে যে সমন্বয় হয়েছে, তার প্রভাব প্রতিটি আমদানি করা লিটারে স্থায়ীভাবে বসে গেছে। নীতিনির্ধারকের জন্য এর অর্থ হলো, জ্বালানির মূল্যনীতি আর নিছক জ্বালানি বিভাগের বিষয় নয়, এটি একই সঙ্গে মুদ্রানীতি, রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা ও বৈদেশিক ভারসাম্যের বিষয়। ফলে সমাধানও আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় ছাড়া সম্ভব নয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও