ভুক্তভোগী, তবু কেন সমাজে কন্যাশিশুকেই শাস্তি পেতে হয়
আমাদের চোখের সামনে নারীকে অপমান ও অসম্মান করার বেশ কয়েকটি ঘটনা পরপর ঘটে গেল। অধিকাংশ ভুক্তভোগীই কিশোরী বা শিশু। নারায়ণগঞ্জের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীটিকে লাথি মারার সেই দৃশ্যের ভিডিও টিকটক ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর সবাই ঘটনাটি জানতে পারে। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক এবং মেয়েটির জন্য অবমাননাকর।
এটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হলেও সেই ছাত্রীর বিরুদ্ধেই উচ্ছৃঙ্খলতার অভিযোগ এনেছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। এমনকি প্রথমেই তাকে স্কুল থেকে টিসি দেওয়া হয় এবং তার পরিবারকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়।
স্কুলছাত্রীকে টিসি দেওয়ার বিষয়ে কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল মতিন প্রধান বলেছেন, ‘ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়া এবং উচ্ছৃঙ্খল আচরণের অভিযোগে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, এলাকাবাসী—আমরা সবাই বসে ছাত্রীর পরিবারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি।’
প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরে ওই ‘টিসি পাওয়া’ শিক্ষার্থীকে আবার বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আর স্কুলছাত্রীকে লাথি দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরকে সমাজসেবা বিভাগের প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে পরিবারের জিম্মায় দিয়েছে পুলিশ।
সবচেয়ে অবাক করার ব্যাপার হলো, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর প্রথমে স্থানীয় একটি সালিসে অভিযুক্ত ছেলেটিকে কান ধরে ওঠবস করিয়ে ক্ষমা চাওয়ানো হয়েছিল। পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসায় পুলিশ ওই অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করেছে। এদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার আইনগত ব্যবস্থা নিতে আগ্রহী না হওয়ায় ঘটনাটি থানায় গড়ায়নি।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ কীভাবে এমন একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারল? স্কুলের যে ছাত্রীকে লাথি মারা হলো, তাকেই কারণ দর্শানো এবং টিসি দেওয়া হলো কেন? আমাদের সমাজ প্রথমেই ভুক্তভোগীর দিকে আঙুল তোলে, তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং তাকেই প্রশ্ন করে।
যেকোনো ধরনের হয়রানির শিকার হওয়ার পর নারীর জন্য বড় ট্রমা হলো এই ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ বা ভুক্তভোগীকে দোষারোপ। যে নারী বা শিশু হয়রানির শিকার হন, তাকেই নানা ধরনের কুযুক্তি দিয়ে ওই ঘটনার জন্য দায়ী করার চেষ্টা করে সমাজ। যেমনটা করেছিলেন কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দাবি, মেয়ে দুটি স্কুল চলাকালীন সময়ে বাইরে ঘোরাঘুরি করে স্কুলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছিল।
- ট্যাগ:
- মতামত
- হয়রানির শিকার
- ভিকটিম ব্লেমিং