নৈরাজ্য জিইয়ে রেখে নিরাপত্তার আশা বৃথা

প্রথম আলো সম্পাদকীয় প্রকাশিত: ০২ জুন ২০২৬, ০৯:২৭

এবারও পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে দুর্ঘটনা এবং মৃত্যুর মিছিল আমাদেরকে সড়কের বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যের চিত্রকে আরও একবার সামনে নিয়ে এল। প্রথম আলোর পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, ছুটির সাত দিনে (২৫ মে–৩১ মে) সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭৯ জন, আহত হয়েছেন ১৩৫ জন। সড়কে মৃত্যুর এই মিছিলে শিশু, কিশোর, নারী, তরুণ, বয়স্ক নাগরিক সবাই রয়েছেন। এটাকে নিছক পরিসংখ্যান হিসেবে দেখার সুযোগ আছে বলে আমরা মনে করি না। প্রশ্ন হচ্ছে, স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গিয়ে এমন ট্র্যাজেডি কি আমাদের নিয়তির অংশ হয়েই থাকবে?


এবারের ঈদযাত্রার শুরুর দিনে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে নিহত হন ১৫ জন। এটি ছিল এবারের ছুটির মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। শুরুর এই ধারাবাহিকতা ছুটির শেষ দিন পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এমনকি ঈদের দিনে সড়কে প্রাণ হারান ১৮ জন। বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, পিকআপ ভ্যান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা—সড়কে চলাচল করা কোনো যানবাহনই দুর্ঘটনামুক্ত ছিল না।


পরিবহনবিশেষজ্ঞদের হিসাব বলছে, ঈদের ছুটিতে ১ কোটি ২০ লাখ থেকে দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়েন। এর বিপরীতে আমাদের গণপরিবহন, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি মিলিয়ে সক্ষমতা আছে মাত্র ২২ লাখ। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষকে বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে ফিটনেসবিহীন বাস, ট্রাক, পিকআপ ভ্যানে যেতে হয়। এ রকম একটি বাস্তবতায় ঈদের আগে সড়কে শৃঙ্খলা ধরে রাখা অত্যন্ত দুরূহ একটি কাজ। এবারের ঈদযাত্রায় মহাসড়কগুলোতে ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তি এই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। তবে ঈদের দিন কিংবা ছুটি শেষে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির কী ব্যাখ্যা থাকতে পারে।


এবারের ঈদের ছুটিতেও দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির এই ভয়াবহ চিত্র বলছে, সারা বছর সড়কে সব ধরনের বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য জিইয়ে রেখে ঈদের ছুটিতে শৃঙ্খলার আশা করাটা নিছক কল্পনাবিলাস ছাড়া আর কিছু নয়। আমরা মনে করি, পরিবহনবিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান যথার্থই বলেছেন, সড়কে শৃঙ্খলার বিষয়টি সারা বছরের চর্চার বিষয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও