তিন উৎস নিয়ন্ত্রণেই থামতে পারে ডেঙ্গুর ৭০ ভাগ ঝুঁকি

কালের কণ্ঠ কবিরুল বাশার প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৫

ঢাকা শহরে ডেঙ্গু এখন আর মৌসুমি সমস্যা নয়; এটি একটি কাঠামোগত নগর স্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা এলেই আমরা প্রতিক্রিয়া দেখাই বা ব্যবস্থা গ্রহণ করি। তার মধ্যে থাকে ফগিং, লার্ভিসাইডিং, জরুরি ক্যাম্পেইন, কিন্তু ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ অধরাই থেকে যায়। এই প্রেক্ষাপটে তথ্য-উপাত্তভিত্তিক (evidence-based)  নীতিনির্ধারণই হতে পারে ডেঙ্গু মোকাবেলার সবচেয়ে কার্যকর পথ।


ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে গত দুই বছরের মশা সার্ভিলেন্স তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা সামনে এসেছে। দেখা গেছে, ঢাকায় ডেঙ্গু বাহক এডিস মশার সর্বোচ্চ উৎপাদন হয় তিনটি নির্দিষ্ট উৎস; ফ্লাডেড ফ্লোর বা বেইসমেন্ট (৪২.২৭%), বহুতল ভবনের বেইসমেন্ট/গাড়ি পার্কিং (১৬.৮০%) এবং প্লাস্টিক ড্রাম (১৪.৭৪%)। অর্থাৎ এই তিনটি উৎসই প্রায় ৭৪ শতাংশ এডিস মশার জন্ম হয়। এই গবেষণার তথ্য একটি সুস্পষ্ট মশক বা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ দিকনির্দেশনা দেয়।


যে দেশের সম্পদ বা অর্থ সীমিত সেই দেশে সম্পদ সবখানে সমানভাবে ব্যয় না করে, তথ্য-উপাত্ত থেকে প্রাপ্ত প্রডাক্টিভ প্রজননস্থলগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে লক্ষ্যভিত্তিক মশক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিলেই সর্বোচ্চ ফলাফল পাওয়া সম্ভব।


প্রথমত, ফ্লাডেড ফ্লোর বা বেইসমেন্ট; ঢাকার দ্রুত নগরায়ণের ফলে অনেক ভবনের নিচতলা বা বেইসমেন্টে পানি জমে থাকে। এই জমে থাকা পানি এডিস মশার আদর্শ প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই স্থানগুলো সাধারণত নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার বাইরে থাকে।


এই জায়গাগুলোতে মশার প্রজনন কমাতে নীতিগতভাবে ভবন নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে ড্রেনেজব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা, নিয়মিত পরিদর্শন এবং আইনগত জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।


দ্বিতীয়ত, বহুতল ভবনের বেইসমেন্ট ও গাড়ি পার্কিং এলাকা। ঢাকা শহরে গাড়ি ধোয়ার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার কারণে বেশির ভাগ ভবনে আমরা দেখতে পাই তারা গাড়ি ধুয়ে থাকেন। আধুনিক নগরজীবনে এই স্থানগুলো অপরিহার্য হলেও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার কারণে এগুলো এডিস মশার উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। এখানে সিটি করপোরেশন, রাজউক এবং ভবন মালিকদের মধ্যে সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। যেখানে নিয়মিত মনিটরিং, পানি জমে থাকা প্রতিরোধ এবং প্রয়োজনে জরিমানার বিধান থাকবে।


তৃতীয়ত, প্লাস্টিক ড্রাম, গৃহস্থালির পানি সংরক্ষণের একটি প্রচলিত মাধ্যম। ঢাকার অনেক এলাকায় অনিয়মিত পানি সরবরাহের কারণে মানুষ বাধ্য হয়ে পানি জমা রাখে। কিন্তু এই ড্রামগুলো সঠিকভাবে ঢেকে না রাখলে তা মশার প্রজননের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হয়ে ওঠে। এখানে আচরণগত পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানির এই পাত্রগুলো যদি সপ্তাহে এক দিন ভালো করে ডিটারজেন্ট বা সাবান দিয়ে ধুয়ে আবার পানি ভরা হয়, তাহলে মশার প্রজনন সেখানে হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। এই জায়গাতে প্রজনন ঠেকাতে ঢাকনা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে কমিউনিটি তদারকি জোরদার করা জরুরি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও