বাসযোগ্য ঢাকা: নগরায়ণের সংকট ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন

জাগো নিউজ ২৪ ঢাকা মেট্রোপলিটন ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০২৬, ১৯:১৫

‘আজকাল আমার নিজেরই মনে হয় যে আমি ঢাকা শহরে থাকবো না, দেশের অন্য শহরে গিয়ে থাকবো। কারণটা হচ্ছে, এটা আর বাসযোগ্য মনে হয় না।’


রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গতকাল ৬ জুনের এই বক্তব্য নিছক কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য নয়; বরং এটি এমন এক বাস্তবতার প্রতিফলন, যা প্রতিদিন কোটি নগরবাসী অনুভব করছেন। যে শহর একসময় ছিল সম্ভাবনার কেন্দ্র, কর্মসংস্থানের প্রাণকেন্দ্র এবং উন্নয়নের প্রতীক, সেই ঢাকাই আজ দূষণ, যানজট, জলাবদ্ধতা, জনঘনত্ব ও নাগরিক সেবার সংকটে হাঁপিয়ে উঠছে।


মির্জা ফখরুল আরও বলেছেন, ‘আপনি ঘর থেকে বের হলেই যে অক্সিজেন গ্রহণ করেন, সেটাও দূষিত।’ কথাটি আবেগের নয়, বাস্তবতার। বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থার বায়ুমান সূচক (AQI) পর্যবেক্ষণে প্রায়ই দেখা যায়, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার নাম শীর্ষের দিকে অবস্থান করে। বাতাসে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণা, নির্মাণকাজের ধুলা, যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে বায়ুদূষণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য নীরব মহামারিতে রূপ নিয়েছে।


ঢাকার বর্তমান সংকট কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এটি দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল নগর ব্যবস্থাপনা এবং কেন্দ্রভিত্তিক উন্নয়ন নীতির ফল। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের জনসংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি দ্রুত বেড়েছে নগরমুখী মানুষের সংখ্যা। শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ প্রতিনিয়ত রাজধানীতে ছুটে এসেছে। ফলে যে শহর কয়েক লাখ মানুষের জন্য পরিকল্পিত ছিল, সেখানে এখন কয়েক কোটি মানুষের বসবাস।


এই জনচাপের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অবকাঠামো, সেবা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। ফলে নগরায়ণের সুফলের পাশাপাশি তার বিরূপ প্রভাবও ক্রমেই প্রকট হয়েছে। একদিকে বহুতল ভবন, ফ্লাইওভার ও মেগাপ্রকল্পের বিস্তার; অন্যদিকে খেলার মাঠ, জলাধার, খাল ও উন্মুক্ত সবুজের সংকোচন—এই বৈপরীত্যই আজকের ঢাকার পরিচয়।


বিশ্বের সফল নগরগুলোকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাসযোগ্য শহর কেবল উঁচু ভবন বা প্রশস্ত সড়কের মাধ্যমে তৈরি হয় না। একটি শহরের বাসযোগ্যতা নির্ভর করে তার পরিবেশ, গণপরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং নাগরিক অংশগ্রহণের ওপর। অথচ ঢাকার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই উন্নয়নকে অবকাঠামো নির্মাণের সমার্থক হিসেবে বিবেচনা করেছি।


হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল প্রশ্ন তুলেছেন—মানুষ কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, নাগরিকরা কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, সেটি মূল্যায়ন করা দরকার। এই প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড হলো নাগরিকের জীবনমানের উন্নতি। যদি বিপুল ব্যয়ের পরও একজন মানুষ কর্মস্থলে পৌঁছাতে প্রতিদিন তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন, যদি শিশুদের খেলার জায়গা না থাকে, যদি বৃষ্টির পর নগর ডুবে যায়, তবে উন্নয়নের সাফল্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে হয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও