মিরপুরে নুরজাহান বেগমের মৃত্যু ও আমাদের দায়

ঢাকা পোষ্ট ইরাজ আহমেদ প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০২৬, ১৯:১৩

রাজধানী ঢাকার মিরপুরের ঘটনাটা কি আমাদের নাড়িয়ে দিয়ে গেল? আমরা কি খানিক বিস্মিত হলাম? চমকে উঠলাম? ঘটনার নির্মমতা উপলব্ধি করার চেষ্টা করলাম? ব্যথিত হলাম? অনেকগুলো প্রশ্ন কিন্তু বিপরীতে উত্তর বোধ হয় একটাই-না, আমরা আলোড়িত হইনি, আকাশে গোলাপী চাঁদ দেখে যতটা হই আজকাল।


একা ঘরে বৃদ্ধ মা নুরজাহান বেগমের অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধারের পরেও আমাদের নাগরিক জীবন প্রবাহের সবকিছু ভীষণ ভাবে স্বাভাবিক হয়েই আছে, থাকবেও।


এরপরেও মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামানুসারে নাম রাখা ষাঁড়টির চিড়িয়াখানার জীবনের খবর আমাদের আগ্রহের জায়গা দখল করবে, রাজনীতির মাঠে কুৎসা রচনা করে চরিত্র হননের কাহিনি আমাদের প্রাতরাশের টেবিলে এক কাপ কফিকে আরও চনমনে করে তুলবে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোনো তারকা খচিত হোটেলের বল রুমে এ জাতির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দারুণ ধারালো আলোচনা চলবে; গণমাধ্যম কর্মীদের মুখস্থ প্রশ্নে উদ্দীপ্ত হবেন উদ্যোক্তারা, ক্যামেরার সামনে নিজেকে আরেকটু সময় উপস্থাপনের জন্য মৃদু ধাক্কাধাক্কি হবে, বাজারে সবজির মূল্য নিয়ে বিতর্ক হবে, ফুটবল ম্যাচে সাডেন ডেথের মুখোমুখি সব শান্ত হয়ে থাকবে, পরমুহূর্তে ফেটে পড়বে উল্লাসে। শুধু মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের সেই ঘরে পঁচাত্তর বছর বয়সী নুরজাহান বেগম আর কোনোদিন ফিরে আসবেন না।


একটি বাড়ির নোংরা, অপরিচ্ছন্ন দরজা বন্ধ ঘরে নিঃশব্দ মৃত্যু ঘটে যাওয়ার পরেও দীর্ঘদিন পড়েছিল তার মৃতদেহ। সন্তানদের কেউ খোঁজ নিতেও আসেনি তাদের মায়ের। ঘরের জানালা-কপাট বন্ধ ছিল বলে মৃতদেহে পচনের গন্ধ বাইরে আসতে পারেনি।


তার সন্তানদের মধ্যে একজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক, একজন সরকারের যুগ্ম সচিব আর অপরজন কানাডা প্রবাসী। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, হতভাগ্য নুরজাহান বেগম তার মেয়ের বাসায় থাকতেন একটি আলাদা ঘরে। ঘরটি অত্যন্ত অগোছালো এবং আবর্জনায় ভর্তি ছিল। মায়ের মৃত্যুর খবরটি একই ছাদের তলায় তার কাছে পৌঁছানোর সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি।


কী হয়েছিল নুরজাহান বেগমের? তিনি কি অসুস্থ ছিলেন? সন্তানরা তার কোনো খোঁজ নেয়নি কেন? তাকে যথাযথ খাবার দেয়নি তার কন্যাসন্তানটি? এই প্রশ্নগুলোও এক বোবা নীরবতার মাঝে ডুবে গেছে। ডুবে গেছে আমাদের নিস্পৃহ মনও। 


বরফের চেয়েও ঠান্ডা হয়ে যাওয়া মানসিক প্রতিক্রিয়াকে মাটির নিচে পুঁতে ফেলে আমরা দিব্যি স্বাভাবিক জীবনযাপন করছি। কী বলা যায় এই ঘটনাটিকে, মৃত্যু নাকি হত্যাকাণ্ড? প্রতিদিন অবহেলা আর উপেক্ষার ধারালো হলুদ নখ একটু একটু করে উপড়ে নিয়েছে একজন মানুষের জীবন। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমরা একটি পুরনো কুয়া থেকে তুলে এনেছি বোধের মৃতদেহ। আয়নায় মুখ দেখতে গিয়ে দেখছি নিজের আত্মকেন্দ্রীক, নিঃসঙ্গ মুখ।


এই দেশে রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন ঘটেছে ধারাবাহিকভাবে। দুর্নীতি শাসিত মানসিকতা ব্যক্তিকে উসকে দিয়েছে অনুপার্জিত বিত্ত সঞ্চয় করার জন্য। তৈরি হয়েছে লোভ, স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য তীব্র আকাঙ্ক্ষা। এই আকাঙ্ক্ষা মানুষের বিচার-বিবেচনা লুপ্ত করে দেয়।


চাওয়া এবং পাওয়ার ব্যারোমিটারে পারদ ক্রমশ উপরে উঠতে থাকে। প্রাচীন কুয়া থেকে আমরাই তুলে আনি বোধের মৃতদেহ। আকাঙ্ক্ষার সীমা নির্ধারণ করতে কখনোই শেখায় না ভোগবাদী সমাজ। এই সমাজব্যবস্থার কাজই হচ্ছে ব্যক্তির চাওয়াকে ক্রমশ একটি দিগন্ত থেকে আরেকটি দিগন্তের দিকে নিয়ে যাওয়া।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও