শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হত্যার শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র

যুগান্তর আমেরিকা / যুক্তরাষ্ট্র আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৪:০২

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কমাতেই পারছে না প্রশাসন। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির অবতারণা হয় যখন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্দুকধারী আচমকা প্রবেশ করে বিনা বাধায় ক্লাসরুমে ঢুকে নিষ্পাপ শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর বেপরোয়া গুলিবর্ষণ করে হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ২৭ আগস্ট এমনই এক ঘটনা ঘটেছে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিশ শহরের ক্যাথলিক চার্চ পরিচালিত এক মিডল স্কুলে। তেইশ বছর বয়সি বন্দুকধারী স্কুলে প্রবেশ করে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করলে দুই শিক্ষার্থী নিহত এবং ১১ শিক্ষার্থীসহ ২০ জন আহত হন। নিহতদের একজনের বয়স ৮ বছর, অপরজনের ১০ বছর। বন্দুকধারী রবিন ওয়েস্টম্যান ওই স্কুলেরই সাবেক শিক্ষার্থী। তার কাছে একটি সেমি-অটোমেটিক রাইফেল, একটি শটগান ও পিস্তল ছিল। পুলিশ স্কুলে পৌঁছার আগেই ঘাতক তরুণ মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করে। তদন্তকারীরা রবিনের বাসস্থান থেকে যেসব আলামত সংগ্রহ করেছে, সেগুলোর মধ্যে ছিল তার ডায়রিতে কৃষ্ণাঙ্গ, মেক্সিকান, খ্রিষ্টান ও ইহুদি জনগোষ্ঠীর প্রতি চরম বিদ্বেষমূলক অনেক লেখা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা সহিংস ধরনের ভিডিও।


আমি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল সিটি নিউইয়র্কে বসবাস শুরু করার দুই বছর পর ২০১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাশের অঙ্গরাজ্য কানেকটিকাটের এক এলিমেন্টারি বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুকধারীর গুলিতে ২০ শিশুসহ ২৮ জন নিহত ও দুজন আহত হওয়ার ঘটনা জেনে হতচকিত হয়ে পড়েছিলাম। নিউইয়র্ক সিটি থেকে ৬০ মাইল দূরে নিউটাউন শহরের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে এ ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। বন্দুকধারী অ্যাডাম ল্যানজা (২৩) স্কুলের কাছেই তার বাড়িতে প্রথমে তার মাকে গুলি করে হত্যা করে এবং সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে স্কুলের দুটি ফার্স্ট গ্রেডের ক্লাসে প্রবেশ করে সেমি-অটোমেটিক রাইফেলের গুলিতে মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে ছয় ও সাত বছর বয়সি ১২টি ছেলে ও ৮টি মেয়ে এবং স্কুলের প্রিন্সিপালসহ চার শিক্ষক ও দুই কর্মচারীকে হত্যা করে। গুলিবিদ্ধ অপর চারজনের মধ্যে দুজন হাসপাতালে মারা যান। এটি ছিল ১৯৭০ সালের পর স্কুলে গুলিবর্ষণে হতাহতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যা। ল্যানজার গুলিবর্ষণে হতাহতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারত, যদি তার রাইফেলের ব্যারেল জ্যাম না হয়ে পড়ত। ৯১১-এ কল পেয়ে স্কুলে পুলিশ এসে পৌঁছলে ষষ্ঠ মিনিটে ল্যানজা তার অপর আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে আত্মহত্যা করে।


এর সাড়ে পাঁচ বছর আগে, ২০০৭ সালের ১৬ এপ্রিল ভার্জিনিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অ্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সেয়াং হুই চো নামে তেইশ বছর বয়স্ক এক আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ছাত্র দুটি সেমি-অটোমেটিক পিস্তলের গুলিতে ৩২ ছাত্র ও শিক্ষককে হত্যা ও ১৭ জনকে আহত করে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চসংখ্যক হতাহতের ঘটনা। ঘটনা ঘটানোর পর ঘাতক চো নিজেও আত্মহত্যা করে। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, হুই চো ঘটনার দিন সকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ডরমিটরিতে দুজনকে হত্যা করে। এরপর সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে মূল ফটক তালাবদ্ধ করে একে একে চারটি ক্লাসরুমে গিয়ে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে এবং ২৫ ছাত্র ও পাঁচজন শিক্ষককে গুলি করে হত্যা ও ১৭ জনকে আহত করে। গুলি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য জানালা দিয়ে লাফিয়ে আরও ছয়জন আহত হন। পুলিশ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার পর হুই চো নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এ হত্যাকাণ্ডের পর হুই চো’র মানসিক স্বাস্থ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার আইন, সাংবাদিকতার নীতিসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে তুমুল বিতর্কের সূচনা হয়েছিল। কিন্তু ঘটনা যা ঘটার তা ঘটে গিয়েছিল।


তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ঘাতক চো তার মিডল স্কুল ও হাইস্কুলের বছরগুলোর অধিকাংশ সময়জুড়ে অবসাদে ভুগেছে। হাইস্কুল থেকে ভার্জিনিয়া টেক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার সময় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষাসংক্রান্ত ফেডারেল আইন অনুযায়ী ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ চো’র মানসিক অবস্থা ও থেরাপি গ্রহণের বিষয়ে কিছু জানতে পারেনি। ২০০৫ সালে দুজন ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনা তদন্তের পর ভার্জিনিয়ার স্পেশাল জাস্টিস চো’কে মানসিকভাবে অসুস্থ ঘোষণা করেন এবং তাকে চিকিৎসা গ্রহণের আদেশ দেন। কিন্তু সে হাসপাতালে চিকিৎসা না নেওয়ায় তার মানসিক ব্যাধিকে আড়াল করে সে দুটি সেমি-অটোমেটিক পিস্তল ক্রয় করার সুযোগ গ্রহণ করে এবং দুই বছর পর তার নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।


পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৭০ সাল থেকে গত ৫৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে আনুমানিক ১৩০০ শিক্ষার্থীকে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। মাত্র চার বছর আগে ২০২২ সালের মে মাসে ১৮ বছর বয়সি যুবক স্যালভেদর রামোস টেক্সাসের উভালদে শহরের এক এলিমেন্টারি স্কুলে প্রবেশ করে একটি ক্লাসরুমে গুলি চালিয়ে ৯ থেকে ১১ বছর বয়সি ১৯ ছাত্র এবং দুজন শিক্ষককে হত্যা করে। রামোস ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের সঙ্গেও গুলিবর্ষণ শুরু করে। দুজন পুলিশ গুলিবিদ্ধ হলেও বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, জরুরি বার্তা পেয়ে পুলিশ ঘটনার অন্তত এক ঘণ্টা আগে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও অজ্ঞাত কারণে স্কুল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেনি। পরে ইউএস বর্ডার পেট্রোল সদস্য ও উভালদে স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিরাপত্তা রক্ষীদের গুলিতে ঘাতক রামোস নিহত হয়। ১৯৯৯ সালের এপ্রিলে কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের কলাম্বাইন হাইস্কুলের লাইব্রেরিতে গুলিবর্ষণে ১৬ জন নিহত ও ১৭ জন আহত, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পার্কল্যান্ড হাইস্কুলে গুলিতে ১৭ জন নিহত ও ১৮ জন আহত হয়। এভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে একটির পর একটি হত্যাকাণ্ড ঘটে চলেছে। এর যেন কোনো অবসান নেই।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও