দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোই মার্কিন নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাকি আছে আর এক মাসের কম সময়। এই সময়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি মুহূর্তে নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ পাল্টে যেতে পারে। তবে এখানে উল্লেখ করার মতো একটি বিষয় হচ্ছে, যে মুহূর্তে কমলা হ্যারিস প্রার্থী হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে লড়তে যাচ্ছেন বলে নির্ধারিত হয়েছে, সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত তিনি একটি শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন এবং এখন পর্যন্ত মোটামুটি সব জনমত জরিপে তিনি ট্রাম্পের চেয়ে কয়েক পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন।
ট্রাম্প-কমলার মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতার সর্বশেষ পরিচালিত সিয়েনা কলেজ এবং নিউইয়র্ক টাইমসের জরিপে দেখা গেছে ট্রাম্পের চেয়ে ৩ পয়েন্ট এগিয়ে ৪৯ পয়েন্ট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন কমলা হ্যারিস। তবে অতীতের ইতিহাস পর্যালোচনায় বলা যায়, নির্বাচনের আগে পরিচালিত এসব জনমত জরিপ সব সময় সত্য হয় না, যা নিকট অতীতে দেখা গেছে ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হিলারি ক্লিনটনের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এর কারণ হিসেবে বলা যায় রাজ্যওয়ারি ইলেকটোরাল কলেজের ভোট। ধরা যাক কোনো রাজ্যে ইলেকটোরাল কলেজের ভোট রয়েছে ২৫টি, সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যে ব্যবধানেই জয়লাভ করুন না কেন, সব কটি ইলেকটোরাল কলেজের ভোট তিনি পেয়ে যাবেন।
সে হিসেবে একটি দেশের মোট জনগণের একটি অংশের ওপর পরিচালিত জনমত জরিপের ফল দিয়ে প্রতিটি রাজ্যের ইলেকটোরাল কলেজের ভোটের হিসাব মেলানো কঠিন।

মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রভাবকের কাজ করে দুটি বিষয়—প্রথমত, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সরাসরি টেলিভিশন বিতর্ক এবং দ্বিতীয়ত, দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলো। এবারের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প ও কমলার মধ্যে একটিমাত্র টেলিভিশন বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ট্রাম্পের তুলনায় কমলা ভালো করেছেন বলে জনমত জরিপে উঠে এসেছে। আরো বিতর্কের বিষয়ে কমলার পক্ষ থেকে আগ্রহ থাকলেও ট্রাম্পের অনীহার কারণে সেটি আর হয়ে ওঠেনি।
অবশ্য দুই প্রার্থীর রানিং মেটদের মধ্যে একটিমাত্র বিতর্কে দুজনই সমান তালে একে অপরকে মোকাবেলা করেছেন। দোদুল্যমান রাজ্যগুলোর মধ্যে এবার এ রকম সাতটি অঙ্গরাজ্য রয়েছে, যেখানে ভোটাররা কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে চান। এ ক্ষেত্রে যাঁরা নিবন্ধিত ভোটার, তাঁদের বেশির ভাগ এগিয়ে রাখছে কমলাকে, আবার অভিজ্ঞতার বিবেচনায় অনেকেই ট্রাম্পকে ভোট দিতে চাইছেন।
মার্কিন নির্বাচনের দিকে আগ্রহ গোটা বিশ্বেই। তবে বিশ্বের নেতৃত্বদানকারী রাষ্ট্র বা ‘হেজিমনিক রাষ্ট্র’ বিবেচনায় ভোটাররা যে ভোটের ক্ষেত্রে এসব খুব বিবেচনায় নেন, সেটা জোর দিয়ে বলার সুযোগ নেই।
অনেক ক্ষেত্রে বরং এটা বলা চলে যে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক আধিপত্যকে ধরে রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে রাজনৈতিক নীতি রয়েছে, নির্বাচনের ক্ষেত্রে সেটার খুব একটা প্রতিফলন ঘটে না। বহুলাংশে তাঁরা বরং অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থকেই সর্বাগ্রে বিবেচনায় নেন এবং এসব ক্ষেত্রে রাজ্যের গভর্নর নির্বাচনকে তাঁরা অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে গভর্নররা যেহেতু রিপাবলিকান বা ডেমোক্রেটিক কোনো না কোনো দলের প্রতিনিধিত্ব করেন, সে ক্ষেত্রে তাঁদের জনপ্রিয়তা থাকা না থাকার ওপর নির্দিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোতে ভোটের ফলাফল অনেকাংশে নির্ভর করে। এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির একটি বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইসরায়েল লবি বা ইহুদি লবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে অনেক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর বা কংগ্রেসম্যান নির্বাচনে ইহুদি লবির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তৎপরতা দেশটির গোটা রাজনীতিতে প্রভাব ফেলে।