করোনা চিকিৎসায় দ্রুততম সাফল্যের গল্প
গত ১২ মে আমাদের একজন ক্লায়েন্ট বার বার ফোন করছেন, ইফতার শেষ করে ফোন ব্যাক করলাম। খুব উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা নিয়ে জানালেন- তার ড্রাইভারের করোনা পজিটিভ, আজ বেশ জ্বর ও গলা ব্যথা, কোন পরিচিত ডাক্তার থাকলে যেন দয়াকরে এখনই একটু সাহায্য করি। ড্রাইভারের করোনা পজিটিভ জেনে আমাদের ক্লায়েন্টের পুরো পরিবারই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। কারণ যেদিন ড্রাইভার করোনা পরীক্ষা করিয়েছে সেদিনও সে তার মালিকের বাসায় বাজার করে দিয়ে গেছে। তাই ড্রাইভারের করোনা মালিকের বড় দুশ্চিন্তার কারণ। আমি অভয় দিলাম এবং যে কোনো বিপদে পাশে থাকার অঙ্গীকার করলাম।
আমার কথায় তিনি কিছুটা নির্ভার হলেন, বেশ স্বস্তিও পেলেন। ড্রাইভারও আমাকে চেনে। তাই মালিকের রেফারেন্সে একটু পরেই ফোন করল। মনে হলো ড্রাইভারের গলা দিয়ে কথা বের হচ্ছে না। করোনা পজিটিভ জেনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। স্যার.. স্যার বলে নিজের পরিস্থিতি বুঝানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমার কথার টোনে করোনা পজিটিভের বিষয়টিকে আমি খুব স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে নিয়েছি সেটা বুঝিয়ে দিলাম, আর বললাম ‘ধুর বেটা এটা কোনো রোগই না, টেনশনের কিছুই নাই, এখনই ওষুধ দিচ্ছি, কয়েকদিনেই ভালো হয়ে যাবা!’ মনে হলো ড্রাইভার আমার কথা শুনে প্রাণ ফিরে পেল! মোবাইলে ভেসে আসা আঠালো কন্ঠ শুনে মনে হলো তার চোখের কোণে জলও এসে থাকতে পারে।
ফোন রেখে নিজের আত্মবিশ্বাসের জায়গা থেকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’ এর পেলিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগের মেডিকেল অফিসার আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ডাক্তার মেহেদী হাসান ভাইয়ের দেওয়া এই ওষুধগুলো (সংযুক্ত) সেবনের পরামর্শ দিলাম। আর ডাক্তারকে জাস্ট জানানোর জন্য বললাম - যে মেহেদী ভাই আমার পরিচিত এক রোগীর এই এই লক্ষণ ছিলো আপনার আগের দেওয়া ওই পরামর্শটি পাঠিয়ে দিয়েছি কিন্তু।