পুলিশের পোশাকে : জবাবদিহি নিশ্চিত হোক

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ২১:০১

রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে একজন চিকিৎসক তাঁর কর্মস্থল থেকে বের হচ্ছেন। দিনের পর দিন অসুস্থ মানুষের জীবন বাঁচানোর দায়িত্ব পালন করা একজন মানুষও যদি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিন্তে বাড়ি ফিরতে না পারেন, তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—রাষ্ট্রের নিরাপত্তাব্যবস্থার কোথায় ঘাটতি? ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর সাম্প্রতিক হামলা সেই প্রশ্নটিকেই আবার সামনে এনেছে। ঘটনাটি শুধু একজন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, সংঘবদ্ধ অপরাধ, প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ছত্রচ্ছায়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরের সম্ভাব্য যোগসাজশের গুরুতর অভিযোগ।


এই প্রেক্ষাপটে গত শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত অধ্যাপক আসাদুর রহমানকে দেখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানিয়েছেন, শুধু চাঁদাবাজদের তালিকাই নয়, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের তালিকাও করা হচ্ছে। ডিএমপিসহ দেশের সব মহানগর এলাকায় চাঁদাবাজ, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব অপরাধীকে ধরতে যারা ব্যর্থ হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।


রাষ্ট্রের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর কাছ থেকে এমন বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই আশাবাদ তৈরি করে। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এই আশ্বাস কি এবার দৃশ্যমান বাস্তবতায় রূপ নেবে?


চাঁদাবাজি বাংলাদেশের অপরাধজগতের নতুন কোনো বিষয় নয়। বাজার, পরিবহন, নির্মাণকাজ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ফুটপাত, আবাসিক এলাকা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাঁদাবাজির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কোথাও রাজনৈতিক পরিচয়, কোথাও সন্ত্রাসী বাহিনী, কোথাও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি আবার কোথাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসাধু সদস্যদের সহযোগিতা—বিভিন্ন শক্তির সমন্বয়ে চাঁদাবাজির একটি অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি গড়ে ওঠে। ফলে চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করলেই সমস্যার সমাধান হয় না; তার পেছনের নেটওয়ার্ক, অর্থের প্রবাহ ও প্রভাবের কাঠামো ভাঙতে হয়।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক এখানেই। তিনি শুধু অপরাধীর তালিকা করার কথা বলেননি; বলেছেন পুলিশের কেউ এতে যুক্ত থাকলে তাঁদেরও তালিকাভুক্ত করা হবে। এই স্বীকারোক্তি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পুলিশের একটি ক্ষুদ্র অংশের অসততা পুরো বাহিনীর ওপর মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। পুলিশ জনগণের নিরাপত্তার প্রতীক। সেই প্রতীক যদি অপরাধীর সঙ্গে আপস করে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?


চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা থাকলে অপরাধটি দ্বিগুণ ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। কারণ একজন চাঁদাবাজ অর্থ আদায় করে একজন নাগরিককে ক্ষতিগ্রস্ত করেন; কিন্তু একজন পুলিশ সদস্য যদি সেই চাঁদাবাজকে সহযোগিতা করেন, তাহলে রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও আইনের পোশাক অপরাধের ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তখন ভুক্তভোগী শুধু একজন অপরাধীর কাছে নয়, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কাছেও অসহায় হয়ে পড়েন। এ কারণেই পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাটি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি হতে হবে পুলিশের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার একটি বড় উদ্যোগ।


তবে তালিকা তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশের প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে বহুবার তালিকা হয়েছে, অভিযান হয়েছে, গ্রেফতার হয়েছে; কিন্তু কিছুদিন পর একই চক্র নতুন নামে, নতুন পরিচয়ে আবার সক্রিয় হয়েছে। ফলে এবার প্রয়োজন তালিকার সঙ্গে কার্যকর অনুসন্ধান ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও