শিক্ষাদর্শন ছাড়া শিক্ষা-সংস্কার অর্থহীন
শিক্ষা একটি মৌলিক মানবাধিকার হলেও শ্রেণিভেদে এ মৌলিক অধিকারটিও যে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের জন্য নিশ্চিত করতে পারে না, সে রাষ্ট্র আর যাই হোক, কোনোভাবেই কল্যাণ রাষ্ট্র হতে পারে না। যথোপযুক্ত শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতিই সত্যিকার অর্থে অগ্রগতি লাভ করছে এমনটি বলা যায় না। এমনকি বৈষয়িক উন্নতির নিরিখে বিবেচনা করলেও শিক্ষা ছাড়া উন্নত দেশ ও জাতি কল্পনা করা যায় না।
অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সামরিক ক্ষমতা বা অন্য যেসব সূচকে যেসব দেশকে আমরা অগ্রসরমান বলে মনে করি সেসব দেশের শিক্ষাব্যবস্থার দিকে নজর দিলেই বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়ে যায়। জনসাধারণকে জনশক্তিতে রূপান্তর করা, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণ করা, সুস্থ সংস্কৃতির লালন এবং মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে একটি মার্জিত ও সত্যিকারের আদর্শ জাতি গঠনের জন্যও প্রয়োজন সুশিক্ষা। আর এজন্য দরকার সুনির্দিষ্ট শিক্ষা পরিকল্পনা। প্রকৃতপক্ষে একটি দেশের কাঠামোগত শিক্ষার ওপরেই জাতীয় চরিত্র নির্ধারিত হয়। আমরা কেমন জাতি চাই, তা নির্ভর করে আমাদের শিক্ষা পরিকল্পনা কেমন এবং তা কতটা সঠিকভাবে কার্যকর করা হচ্ছে তার ওপর। একটি উন্নত দেশ ও জাতি গঠনের জন্য তার বিভিন্ন ক্ষেত্রে উপযুক্ত জনশক্তি তৈরি করতে হয়।
শ্রম বাজারের জন্য দক্ষ শ্রমিক যেমন দরকার, তেমনি উচ্চতর কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত প্রযুক্তিবিদ্যায় অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞও প্রয়োজন। ঠিক একইভাবে চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষেত্রে যেমন উচ্চতর গবেষক দরকার, তার পাশাপাশি দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী এমনকি শ্রমিকও প্রয়োজন। দেশের আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসন পরিচালনা থেকে শুরু করে সব সেবা ক্ষেত্র এবং উৎপাদন ক্ষেত্রের জন্য দক্ষ কর্মী বাহিনী ও উচ্চতর মেধাবী গবেষক উভয় শ্রেণির প্রয়োজন রয়েছে একটি আদর্শ রাষ্ট্র বা জাতির জন্য। এমনকি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য উপযুক্ত রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরিতেও রয়েছে শিক্ষার একনিষ্ঠ ভূমিকা।
- ট্যাগ:
- মতামত
- শিক্ষা ব্যবস্থা