কৃচ্ছ্রসাধন নাকি সংস্কার: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকটের দাওয়াই কী?

বিডি নিউজ ২৪ অধ্যাপক ড. খালিদুর রহমান প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১৩:১২

রাষ্ট্রের অর্থ জনগণের অর্থ। এই সহজ সত্যটি যত বেশি নীতিনির্ধারণে প্রতিফলিত হয়, ততই একটি দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী, প্রশাসন দক্ষ এবং উন্নয়ন টেকসই হয়ে ওঠে। আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনায় সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা।


উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই সংকট আরও গভীর, কারণ একদিকে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে রাজস্ব আহরণ, বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতার ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো, যেমন সরকারি কর্মকর্তাদের মোটরযানের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানো, গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা স্থগিত রাখা এবং পূর্ণ স্কলারশিপ বা ফেলোশিপপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রেষণের পরিবর্তে শিক্ষা ছুটির বিষয়টি বিবেচনা করা, এই বৃহত্তর অর্থনৈতিক বাস্তবতার আলোকে মূল্যায়নের দাবি রাখে।


প্রথম দৃষ্টিতে এসব পদক্ষেপকে অনেকেই সরকারি সুযোগসুবিধা সংকোচনের উদ্যোগ হিসেবে দেখতে পারেন। কিন্তু অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে বিষয়টি আরও বিস্তৃত। সরকারি অর্থব্যবস্থাপনায় একটি বহুল স্বীকৃত নীতি হলো, জনসম্পদের প্রতিটি ব্যবহারকে এমনভাবে পরিচালিত করতে হবে যাতে একই অর্থে সর্বোচ্চ জনকল্যাণ নিশ্চিত হয়। অর্থাৎ ব্যয় কমানোই লক্ষ্য নয়; ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি করাই মূল উদ্দেশ্য। যখন বিশ্ব অর্থনীতি দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে, তখন সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি খাত পুনর্মূল্যায়ন করাকে একটি স্বাভাবিক এবং দায়িত্বশীল প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।


বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিও গত কয়েক বছরে নানা ধরনের চাপের মুখোমুখি হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩.৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় ৯ শতাংশের আশপাশে অবস্থান করেছে এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক মুদ্রার স্থূল রিজার্ভ ৩৬.৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থাকলেও আমদানি ব্যয়, ঋণ পরিশোধ এবং বৈদেশিক লেনদেনের চাপ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বাধ্য করছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও তাদের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বাংলাদেশের জন্য রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।


এই প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মকর্তাদের মোটরযানের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানোর উদ্যোগকে শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না। দীর্ঘদিন ধরে এই খাতে নির্দিষ্ট হারে ব্যয় প্রদান করা হলেও বর্তমান বাস্তবতায় সেই ব্যয়ের যৌক্তিকতা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তও ইঙ্গিত করে যে সরকার পরিচালন ব্যয়ের তুলনায় উন্নয়ন ব্যয়, সামাজিক খাত এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অধিক অগ্রাধিকার দিতে চায়। এ কেবল ব্যয় সংকোচনের নীতি নয়; সম্পদের পুনর্বিন্যাসেরও প্রয়াস।


একইভাবে পূর্ণ স্কলারশিপ বা ফেলোশিপ নিয়ে উচ্চশিক্ষায় যাওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে শিক্ষা ছুটির বিষয়টি বিবেচনার সিদ্ধান্তও অর্থনৈতিক যুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যখন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোনো কর্মকর্তার টিউশন ফি, আবাসন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সম্পূর্ণ বহন করে, তখন একই সময়ে রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে পূর্ণ বেতন প্রদান কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্ন নতুন নয়। বিশ্বের অনেক দেশেই এমন ক্ষেত্রে শিক্ষা ছুটি বা আংশিক আর্থিক সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। এতে উচ্চশিক্ষার সুযোগও বজায় থাকে এবং সরকারি অর্থের ওপর অতিরিক্ত চাপও কমে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও