শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের শেষ কোথায়

কালের কণ্ঠ ড. কুদরাত-ই-খুদা বাবু প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ০৯:৫৪

বহুল আলোচিত মাগুরায় আট বছরের এক শিশু ধর্ষণের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সম্প্রতি ঢাকার পল্লবীতে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা প্রত্যক্ষ করল দেশবাসী। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সারা দেশ ফুঁসে উঠেছে।


শুধু মাগুরা কিংবা পল্লবীর ঘটনাই নয়, বরং সারা দেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলছে শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যা ও নির্যাতন। শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতন বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় সচেতন দেশবাসী ও অভিভাবকমহল আজ রীতিমতো উদ্বিগ্ন। স্কুল, মাদরাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বাসে-লঞ্চে, পথে-ঘাটে, মাঠে আজ কোথাও আজ যেন শিশুরা নিরাপদ নয়। যেন কোথাও তাদের সুনিশ্চিত নিরাপত্তা নেই।


এই অবস্থা নিঃসন্দেহে একটি জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। পাশাপাশি তা ওই জাতির জন্য অশনিসংকেত। আশঙ্কাজনক হারে শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বলা বাহুল্য, কোনো সমাজে ধর্ষণ বিস্তৃত হলে এবং ধর্ষকদের কঠোর সাজার ব্যবস্থা করা না হলে সেই সমাজে নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বলে কিছুই থাকে না।


এ ধরনের ঘটনা পুরো সমাজ, দেশ ও জাতিকে বিশৃঙ্খলা ও পাপাচারের দিকে ধাবিত করে, যা কখনোই ভালো কোনো বিষয় হতে পারে না। এমতাবস্থায় শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যা বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এই অবস্থা আরো ভয়ানক পর্যায়ে গিয়ে ঠেকবে।


বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে দেশে অন্তত ছয় হাজার ৩০৫ জন নারী-শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে তিন হাজার ৪৭১ জন ১৮  বছরের কম বয়সী শিশু রয়েছে। আর গত বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছে কমপক্ষে ১০৭ জন, যাদের মধ্যে ৬৬ জন ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু রয়েছে।

এ সময় ২২৪ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, দেশে প্রতিবছর এক হাজারেরও বেশি নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন নামক বেসরকারি সংস্থা কর্তৃক সম্প্রতি প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়, শিশুরা প্রতিবেশী, উত্ত্যক্তকারী, বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষক বা অপরিচিত ব্যক্তির দ্বারা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। এসব তথ্য ও পরিসংখ্যান থেকে এটি স্পষ্ট যে আমরা যেন কোনোভাবেই শিশু ধর্ষণের লাগাম টেনে ধরতে পারছি না। দ্রুত এই অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন না ঘটালে বিভিন্ন সভা-সেমিনার আর বক্তৃতায় ‘আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’, ‘আজকের শিশুরাই আগামীতে জাতির কর্ণধার’, ‘ভবিষ্যতে আজকের শিশুরাই দেশ-জাতির নেতৃত্ব দেবে’—এমন সব কথাবার্তা বাস্তবিক অর্থে অপপ্রলাপে পরিণত হবে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতন যেকোনো মূল্যে বন্ধ করা এখন জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


দেশে প্রতিনিয়ত শিশু হত্যা, শিশু নির্যাতন এবং শিশু অপহরণের মতো বেদনাদায়ক ও জঘন্য ঘটনা ঘটলেও যেন কারো টনক নড়ছে না। পাশাপাশি এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় কিংবা পেশিশক্তির জোরে অনেক সময় পার পেয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায়, অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন সামাজিক অবক্ষয়ের পরিচয় পাওয়া যায়, তেমনি সমাজব্যবস্থার ব্যর্থতা প্রকাশ পায়। শিশু হত্যা, শিশু নির্যাতন এবং শিশু অপহরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে না পারলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি যে আরো ভয়াবহ হবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।   

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও