স্থানীয় সরকারব্যবস্থার জন্য একটি প্রস্তাবিত আইনি কাঠামো

প্রথম আলো ড. বদিউল আলম মজুমদার প্রকাশিত: ২১ জুন ২০২৬, ১৬:৪৬

দ্রুত নির্বাচনের জন্য স্থানীয় সরকারের একটি যুগোপযোগী আইনি কাঠামো আবশ্যক। ২০০৭ সালে ড. শওকত আলীর নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ কমিটি বর্তমান এবং গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ড. তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত কমিশনের প্রস্তাবিত আইনের খসড়াগুলো পর্যালোচনা করে একটি চূড়ান্ত আইনি কাঠামো তৈরি করা জরুরি বলে মনে করি। এর তাত্ত্বিক ভিত্তি হবে ‘সাবসিডিয়ারিটি প্রিন্সিপাল,’ যার মূলকথা হলো সমস্যা যেখানে, সমাধানের মোক্ষম ও টেকসই সুযোগও সেখানে।


অর্থাৎ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পয়োনিষ্কাশন, পরিবেশ, নিরাপত্তা ইত্যাদিসহ যেসব সমস্যা জনগণ প্রতিনিয়ত সম্মুখীন হন, সেগুলো তাঁদের নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে সমাধান করা আবশ্যক। ফলে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশনই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং এগুলোতে সর্বাধিক সম্পদ, দায়দায়িত্ব ও ক্ষমতা দেওয়া আবশ্যক। ফেডারেল কাঠামোর পরিবর্তে আমাদের এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থায় জেলা পরিষদও গুরুত্বপূর্ণ, যেটি হতে পারে আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং তৃণমূল থেকে প্রস্তুত করা স্থানীয় পরিকল্পনা অর্থায়নের গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। উপজেলার কাজ হতে পারে মূলত সমন্বয়।


প্রস্তাবিত আইনি কাঠামোতে যে বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হওয়া আবশ্যক, তা তুলে ধরা হলো—


স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাস


স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে সাধারণত দুইভাগে ভাগ করা হয় গ্রামীণ বনাম নগর স্থানীয় সরকার। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ গ্রামীণ স্থানীয় সরকারের অন্তর্ভুক্ত। পক্ষান্তরে পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নিয়ে নগর স্থানীয় সরকার গঠিত। জাতীয় তথ্য বাতায়নের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়ন, ৪৯৫টি উপজেলা, ৬৪টি জেলা, ৩৩১টি পৌরসভা এবং ১৩টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। ফলে প্রতি জেলায় গড়ে আটটি উপজেলা, প্রতিটি উপজেলায় গড়ে নয়টি ইউনিয়ন এবং প্রতিটি জেলায় গড়ে পাঁচটি (৩৩০/৬৪) পৌরসভা রয়েছে। স্থানীয় সরকারের বিদ্যমান এই স্তরবিন্যাস অব্যাহত রাখা যেতে পারে।


সমন্বিত আইন


শওকত আলী কমিটি এবং তোফায়েল আহমেদ কমিশনের অনুসরণে আমরাও মনে করি যে স্থানীয় সরকারব্যবস্থার জন্য দুটি একটি পল্লী স্থানীয় সরকার এবং আরেকটি নগর স্থানীয় সরকারের জন্য সমন্বিত আইন প্রণয়ন করা আবশ্যক। পল্লী স্থানীয় সরকারের সমন্বিত আইনে তিনটি ভাগ থাকবে, যার একটিতে থাকবে জেলা পরিষদ, দ্বিতীয়টিতে উপজেলা পরিষদ এবং অন্যটিতে ইউনিয়ন পরিষদ–সংক্রান্ত বিধান। এমনিভাবে নগর স্থানীয় সরকারের সমন্বিত আইনে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসংক্রান্ত পৃথক দুটি ভাগ থাকবে।


নির্বাচনব্যবস্থা


সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ মানতে হলে সব কটি প্রশাসনিক একাংশ বা স্তরে দ্রুত নির্বাচনের আয়োজন করা জরুরি। বিদ্যমান কাঠামো অব্যাহত রেখে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে ইউনিয়ন গঠিত হবে এবং প্রতিটি ওয়ার্ডের জনসংখ্যা হবে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার জন। অর্থাৎ প্রতিটি ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা হবে ২৭ হাজার থেকে ৪৫ হাজারের মধ্যে। ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে একজন সদস্য এবং পুরো ইউনিয়ন থেকে একজন চেয়ারম্যান সরাসরি নির্বাচিত হবেন।


উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সরাসরি নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ২ জন সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে উপজেলা পরিষদ গঠিত হবে। একই সঙ্গে উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা পদাধিকারবলে উপজেলা পরিষদের সদস্য হবেন। ফলে উপজেলা পরিষদের গড় সদস্যসংখ্যা হবে মোট ২৮ জন (১৮ জন নির্বাচিত + ৯ জন পদাধিকারবলে + ১ জন চেয়ারম্যান)।


প্রতিটি পৌরসভা ওয়ার্ড থেকে একজন করে কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন। এর পাশাপাশি প্রতিটি পৌরসভায় জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত একজন পৌর মেয়র থাকবেন। ফলে পৌরসভার নির্বাচিত প্রতিনিধির সংখ্যা হবে ১০। তবে ইউনিয়নভুক্ত এলাকাকে পৌরসভায় পরিণত করার মানদণ্ডকে আরও কঠোর করা এবং বিদ্যমান আইনের শর্তাবলি পূরণ না করা সত্ত্বেও যেসব এলাকাকে পৌরসভা ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলোকে প্রস্তাবিত স্থানীয় সরকার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে বাতিল করা আবশ্যক।


বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ১৩টি সিটি করপোরেশন, যার সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে এবং প্রতিটি সিটিতে একজন সরাসরিভাবে নির্বাচিত মেয়র রয়েছেন। তবে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরের সংখ্যায় ভিন্নতা রয়েছে। সিটি করপোরেশনের বিদ্যমান কাঠামো অব্যাহত রাখা যেতে পারে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও