বাবা ও দাদা শহীদ: জামায়াত সদস্যের ‘মুখ ফসকে’ বলা মিথ্যার অন্তরালে

বিডি নিউজ ২৪ কামরান রেজা চৌধুরী প্রকাশিত: ২১ জুন ২০২৬, ১৬:০৭

জামায়াতে ইসলামীও এখন মুক্তিযুদ্ধের গৌরবে অংশীদার হতে চায়। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দলটির এই ভোলবদলের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই খোদ সংসদে দাঁড়িয়ে দলের আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান নিজেকে ‘মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান’ বলে পরিচয় দেন। শুধু তা-ই নয়, দলের আরেক শীর্ষ নেতা, সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরও নিজেকে দাবি করেন ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে। তবে মুক্তিযুদ্ধের এই কৃতিত্ব নেওয়ার প্রতিযোগিতায় দলের সবাইকে ছাপিয়ে গেলেন জামায়াতের তরুণ সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম।


গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যমেও নীলফামারী-৪ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমের ওই বক্তব্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বলছেন, “আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা সাত ভাই, চারজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।” পরে জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে আলাপের একপর্যায়ে নিজেকে একজন ‘জুলাই যোদ্ধা’ বলে দাবি করেন তিনি।


তবু তিনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলতে না পারায় আক্ষেপ করেন সংসদে। তার এই বক্তব্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার শুরুতেই জানা যায়, আব্দুল মুনতাকিমের নিজের জন্ম ১৯৮১ সালে। তার বাবা যদি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি ১৯৮১ সালে জন্মালেন কীভাবে? পরে আরও জানা গেল, তার বাবা আসলে এখনো জীবিত আছেন। তিনি নিজেই ভুল স্বীকার করে বলেছেন, বিষয়টি ‘মুখ ফসকে’ বলে ফেলেছেন এবং সংসদের বক্তব্য সংশোধনের জন্য ইতিমধ্যে স্পিকার বরাবর চিঠি দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।


আব্দুল মুনতাকিমের ওই বক্তব্য নিয়ে বিস্তর বলা হয়ে গিয়েছে; তাই ওই বক্তব্য নিয়ে কথা না বাড়িয়ে তিনি কেন এমনটি বললেন এবং দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান সংসদে এহেন অসত্য তথ্য প্রদানের পর রাজনীতিবিদ হিসেবে ভবিষ্যতে তার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু থাকবে, সেদিকে দৃষ্টি ফেরানো প্রয়োজন।


বাংলাদেশের প্রথাগত রাজনীতি নিয়ে দেশের মানুষের হতাশা আছে। রাজনীতিবিদদের ক্রমাগত মিথ্যাচার দেশের মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তারা যা বলেন, জনগণ তার উল্টোটা বিশ্বাস করে; যা দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সেই ক্ষতির মাত্রা বলে শেষ করা যাবে না।


রাজনীতিবিদদের অনেক সময়ই সত্য গোপন করতে হয়, তা জনগণ মেনেও নেয়। কিন্তু মিথ্যা কথা বলা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি, কূটনীতি—যে কোনো ক্ষেত্রেই আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতাই একজন ব্যক্তিকে গ্রহণযোগ্য করে তোলে।


২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর জেন-জি নেতৃত্ব এবং দেশের সর্ববৃহৎ ধর্মভিত্তিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা দেশের বৃহৎ দুই দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ক্রমাগত মিথ্যাচার, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও গণতন্ত্র হত্যার অভিযোগ করে আসছেন এবং তারা ক্ষমতায় গেলে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা করবেন বলে প্রতিশ্রুতিও দিয়ে যাচ্ছেন। তারা বলছিলেন, ‘দুই দলকে তো আমরা দেখেছি; এবার জামায়াতকে দেখা যাক।’ বলাবাহুল্য এই কথার ভিত্তিতে জামায়াতকে অনেকেই ভোট দিয়েছে বলে অনুমান করা যায়, অন্তত নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা তাই বলে। দলটি এখন সংসদে প্রধান বিরোধী দল।


বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান চেষ্টা করছেন তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে—সেটি ভালো দিক। জামায়াতে ইসলামীর সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বগুড়ায় বিএনপির প্রতিমন্ত্রীর সন্তান-সন্ততি ও পরিবারের নামে ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে সংসদে সত্য তথ্য দিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন। সেই তথ্যের কারণে সেই প্রতিমন্ত্রীকে মোটামুটি ভালো রকমের রাজনৈতিক মূল্য দিতে হয়েছে এবং হচ্ছে।


তবে জামায়াতের সদস্যরা সংসদে মাঝেমধ্যেই অসত্য অথবা আংশিক সত্য তথ্য দেন। যেমন ইসলামী ব্যাংক নিয়ে আলোচনা কালে দলের নেতারা বললেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইসলামী ব্যাংক লাভ করতে শুরু করেছিল। তাদের বক্তব্যের পর অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য দিয়ে বলেন, প্রভিশন বাদ দিলে ইসলামী ব্যাংক আসলে লোকসান করেছে।


ফিরে আসি মূল কথায়; নিজ পরিবার নিয়ে মুখ ফসকে অসত্য কথা বলার কারণে আব্দুল মুনতাকিম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ধারণা হবে যে, তার মুখের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ প্রচার করবে—যিনি নিজের বাবা সম্পর্কে মুখ ফসকে ভুল তথ্য দেন, তাকে কীভাবে বিশ্বাস করা যায়? রাজনীতিবিদ হিসেবে তার কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না। ব্যক্তি মুনতাকিমের গ্রহণযোগ্যতার পাশাপাশি তিনি তার দলের গ্রহণযোগ্যতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন। তার কথা দেশের প্রথাগত নেতিবাচক রাজনীতির চেয়েও খারাপ পর্যায়ে গেছে বললে ভুল বলা হবে না। নতুন রাজনীতি ও ইনসাফের যে কথা আমরা শুনেছি, সেটি আমরা বাস্তবে দেখছি না।


দ্বিতীয় কথা, তিনি কেন এমনটি বললেন? সংসদীয় রাজনীতিতে জামায়াত খুবই ছোট একটি দল ছিল। এবারই প্রথম তারা এতগুলো আসন পেয়েছে। সুতরাং, দলের নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, তাদের দল আগামীতে ক্ষমতায় আসতে পারে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও