লালমনিরহাট বিমানবন্দর: আঞ্চলিক সংযোগের সম্ভাবনাময় কেন্দ্র

www.ajkerpatrika.com শোয়েব সাম্য সিদ্দিক প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৬, ১০:২৯

দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের অবহেলিত জেলা হিসেবে পরিচিত লালমনিরহাট এখন দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। পাঁচ দশকের বেশি সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা বিমানবন্দরটি সচল করার স্বপ্ন এবার বাস্তবতার পথে এগোচ্ছে। সরকার বদলেছে বহুবার, কিন্তু বিমানবন্দরটি চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি—উত্তরাঞ্চলের মানুষের এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার যে ভিত্তি তৈরি করে দিয়ে গেছে, তার ওপর দাঁড়িয়েই বর্তমান নির্বাচিত সরকার প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার কাজ করছে।


অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিমানবাহিনীর প্রধান লালমনিরহাট বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে রানওয়েতে পরীক্ষামূলকভাবে বিমান উড্ডয়নও করা হয়। পরে সেনাসদরের এক ব্রিফিংয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, দেশের স্বার্থ এবং ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার বিমানবন্দরটি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তখন সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশন্স অধিদপ্তরের পরিচালকও স্পষ্টভাবে বলেন, দেশের নিরাপত্তা বা জাতীয় স্বার্থের জন্য হুমকি হতে পারে, এমন কোনো কর্মকাণ্ডে কাউকে সম্পৃক্ত করার আগে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করবে।


সেই ভিত্তির ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, লালমনিরহাট বিমানবন্দরকে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হিসেবে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিমানবন্দর সচল করা, বুড়িমারী থেকে ঢাকায় সরাসরি ট্রেন চালু, চার লেন সড়ক নির্মাণ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ জন্য ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং নির্দিষ্ট সময়সীমাসহ এটি সরকারের আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকারে পরিণত হয়েছে।


তবে প্রশ্ন হলো, এই উদ্যোগ কেন শুধু উন্নয়নের গল্পে থেমে নেই? কেন এটি এখন কূটনৈতিক চাপের কেন্দ্রেও? উত্তরটা মূলত ভৌগোলিক। লালমনিরহাট এমন একটি স্থানে অবস্থিত, যেখান থেকে ভারতের শিলিগুড়ি করিডর মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে।


এই করিডরকে অনেকে বলেন ‘চিকেন নেক’। শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি হওয়ায় সামরিক ও কৌশলগত কারণে এই বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে ভারতের আপত্তি থাকাটা স্বাভাবিক বলেই মনে করি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের সঙ্গে এ নিয়ে কোনো চুক্তি বা আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তাই দেশের স্বার্থে এই বিমানবন্দর চালু করার পথে এগিয়ে যাওয়াই যুক্তিসংগত।


ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ইতিমধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, এই বিমানবন্দরে চীন সম্পৃক্ত হলে তা নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এই আশঙ্কা থেকে ভারত ত্রিপুরার কৈলাশহর বিমানঘাঁটি পুনরায় সক্রিয় করার কাজ শুরু করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস বলে, এই ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ সহযোগিতার পরিবেশ নষ্ট করে, সন্দেহের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সামনে এই বাস্তবতাটুকু মাথায় রেখেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও