দুই মণ ধানের দামেও মিলছে না শ্রমিক, হঠাৎ বৃষ্টিতে বিপাকে কৃষক
৫৫ বছর বয়সী দিনমজুর মুজিবর শেখ। অন্যের বাড়িতে কাজ করে চলে তার ৫ সদস্যের সংসার। ভাগ্য বদলাতে ঋণ নিয়ে এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিই যেন সবকিছু এলোমেলো করে দিলো। ধান কেটে ঘরে তোলার সময়ই বৃষ্টিতে ডুবে গেছে ধানক্ষেত।
এখন এনজিও থেকে নেওয়া ত্রিশ হাজার টাকা ঋণ কীভাবে শোধ করবেন সেই চিন্তায় দিশাহারা এই দিনমজুর। মুজিবর শেখ বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার ধলনগর গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল বুধবার বিকেলে জাগো নিউজকে তিনি এসব কথা বলেন।
মুজিবর শেখ বলেন, আমার নিজের জমি নেই। অন্যের এক বিঘা জমি ১৫ হাজার টাকায় বন্ধক নিয়ে ধান চাষ করেছিলাম। এর সাথে জমিতে হালচাষ, মেশিন দিয়ে পানি সেচ ও ধানে সার, কীটনাশক দিতে প্রচুর খরচ হয়। এই খরচ মেটাতে একটা এনজিও থেকে ত্রিশ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। অনেক কষ্ট করেই ধান চাষ করেছিলাম কিন্তু প্রথমে কিছুদিন আগে শিলাবৃষ্টি পড়ে প্রায় চার আনা ধান ঝরে গেছে। এখন আবার বন্যা বাদলে (বৃষ্টিতে) কিছু ধান কেটে আঁটি বাঁধার জন্য মাঠে রাখছিলাম, কিছু ধান কাটা হয়নি, সবই পানিতে তলিয়ে গেছে। এভাবে থাকলে তো সব ধান নষ্ট হয়ে যাবে। দামও ভালো পাওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, বৃষ্টিতে ধান নষ্ট না হলে এই এক বিঘা জমি থেকেই আমার পরিবারের ৬ মাসের চালের ব্যবস্থা হয়ে যেত। এখন যে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটবো তারও কায়দা (উপায়) নেই। একজন শ্রমিক আনতে গেলে ১২শ টাকা থেকে ১৩শ টাকা দিতে হয়। সাথে তিন বেলা খেতে দিতে হয়, তাকে বিড়ি পর্যন্ত কিনে দিতে হয়। সব মিলিয়ে একজন শ্রমিকের পেছনে প্রতিদিন ১৬শ থেকে ১৮শ টাকা খরচ হয়। একজন শ্রমিক দিয়ে একদিন কাজ করাতে হলে তাকে দুই মণের ধানের টাকা দিয়ে দিতে হচ্ছে। তাও মিলছে না শ্রমিক। সব মিলিয়ে যা খরচ করেছিলাম এই অবস্থায় তাও উঠবে না। এখন ঋণ কীভাবে শোধ করব বা খাব কি তাই ভাবছি।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় ৬৮ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। তার ভেতর ১৩ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। বাকি প্রায় ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে এখনও ধান রয়েছে। এ অবস্থায় বৃষ্টিপাত বেশি হলে মাঠে থাকা ধানের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
ধলনগর গ্রামের কৃষক ইয়াকুব আলী হাওলাদার বলেন, ধানে একটু চাল চাল ভাব আসলেই প্রথমে শিলা বৃষ্টি হয়েছে। তখন বিঘায় ৫ থেকে ৭ মণ ধান ঝরে গেছে। এখন ধান পাকলে যেই কাটার সময় হয়েছে তখনই বৃষ্টিতে হাঁটু পানি হয়ে ধানক্ষেত তলিয়ে গেছে। এখন আমরা পাঁকা ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, এ বছর আমি অন্যের ৪ বিঘা জমি বন্ধক নিয়ে চাষ করেছি। এতে প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ বছর ধানের দামও কম, মণ ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কম। এখন বৃষ্টি কমলেও যে ক্ষতি হয়েছে তাতে খরচ খরচার টাকাও উঠবে না। সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা উঠবে। ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মতো লস হবে।
- ট্যাগ:
- বাংলাদেশ
- ধান কাটা
- বৃষ্টির পানি