শ্রেণিকক্ষ বনাম কোচিং : একটি ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থার সন্ধানে

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১২

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কোচিং সংস্কৃতি আজ এক জটিল বাস্তবতা। এটি যেমন অনেক শিক্ষার্থীর জন্য সহায়ক একটি মাধ্যম, তেমনি অন্যদিকে এটি একটি গভীর নির্ভরতা ও বৈষম্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন-এর কঠোর বক্তব্য—“দেশের শতভাগ কোচিং সেন্টার বন্ধ করতে হবে”—এই বিতর্ককে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কোচিং কি সত্যিই বন্ধযোগ্য একটি সমস্যা, নাকি এটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি অনিবার্য উপসর্গ?


সত্যি বলতে কি, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় “কোচিং সংস্কৃতি” আজ একটি বহুল আলোচিত এবং একই সঙ্গে বিতর্কিত বিষয়। একসময় যেখানে শিক্ষার মূল কেন্দ্র ছিল স্কুল-কলেজ, এখন সেখানে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট টিউশনের ওপর। প্রশ্ন উঠছে—এই কোচিং সংস্কৃতি কি সত্যিই প্রয়োজনীয়, নাকি এটি ধীরে ধীরে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি অস্বাস্থ্যকর নির্ভরতামূলক পথে ঠেলে দিচ্ছে?


প্রথমেই স্বীকার করতে হবে, কোচিং সংস্কৃতির উত্থান হঠাৎ করে হয়নি। এর পেছনে রয়েছে একাধিক কাঠামোগত সমস্যা। আমাদের দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকসংকট, বড় ক্লাসরুম, পর্যাপ্ত মনোযোগের অভাব এবং অনেক ক্ষেত্রে পাঠদানের মানের ঘাটতি—এসব মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে পুরোপুরি শেখার সুযোগ পায় না। ফলে তারা অতিরিক্ত সহায়তার জন্য কোচিংয়ের দ্বারস্থ হয়। এই দিক থেকে দেখলে কোচিং যেন একটি “সহায়ক ব্যবস্থা”—যা শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা পূরণে ভূমিকা রাখে।


তবে এখানেই প্রশ্নের সূত্রপাত। যখন একটি সহায়ক ব্যবস্থা মূল ব্যবস্থার বিকল্প হয়ে ওঠে, তখন তা আর কেবল সহায়ক থাকে না, বরং নির্ভরতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যেখানে কোচিং ছাড়া তারা নিজেদের অক্ষম মনে করে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ না দিয়ে তারা কোচিংয়ের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার গুরুত্ব ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।


কোচিং সংস্কৃতির আরেকটি বড় সমস্যা হলো এর বাণিজ্যিকীকরণ। আজকাল কোচিং সেন্টারগুলো কেবল শিক্ষার জায়গা নয়, বরং একটি লাভজনক ব্যবসা হিসেবে গড়ে উঠেছে। বড় বড় ব্যানার, ফলাফলনির্ভর প্রচারণা, ‘গ্যারান্টি’ দিয়ে ভালো রেজাল্টের আশ্বাস—এসব যেন শিক্ষাকে একটি পণ্যে পরিণত করেছে। এতে করে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য—জ্ঞান অর্জন—পিছিয়ে পড়ে, আর সামনে চলে আসে কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার প্রতিযোগিতা।


এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সামাজিক চাপ। অনেক অভিভাবক মনে করেন, কোচিংয়ে না পড়লে তাদের সন্তান পিছিয়ে পড়বে। ফলে তারা অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও সন্তানকে একাধিক কোচিংয়ে ভর্তি করান। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন মানসিক চাপের মধ্যে থাকে, তেমনি পরিবারের ওপরও আর্থিক চাপ বাড়ে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন ধরনের বৈষম্য তৈরি হয়—যেখানে কোচিং নিতে পারা এবং না পারার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়।


কোচিং সংস্কৃতির প্রভাব কেবল অর্থনৈতিক বা শিক্ষাগত নয়, এটি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশেও প্রভাব ফেলে। নির্দিষ্ট প্রশ্ন-উত্তর মুখস্থ করা, পরীক্ষাকেন্দ্রিক প্রস্তুতি—এসবের ফলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। তারা শেখার আনন্দ থেকে দূরে সরে গিয়ে কেবল নম্বরের পেছনে ছুটতে শুরু করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি একটি জাতির চিন্তাশক্তি ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও