নিরাপদ সড়ক আন্দোলন আশানুরূপ ফল দিতে ব্যর্থ হলো?
ঈদের পরই রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাস পড়ে মারা যান ২৬-এর বেশি যাত্রী। সড়কপথে মৃত্যু যেন চিরাচরিত নিয়তি। তথ্য বলছে, গত ছয় বছরে সড়কপথে প্রাণ হারিয়েছে ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ। এ পথে প্রতিদিন গড়ে মারা যায় ১৪ জন। শুধু বেপরোয়া গতির ড্রাইভিংই প্রধান কারণ নয়। প্রায় ছয় লাখ যানবাহনের নেই হালনাগাদ ফিটনেস সনদ। বিপুলসংখ্যক চালকের যথাযথ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের ছড়াছড়ি। ড্রাইভিংয়ের নেই পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ। আনফিট গাড়ির তদারকি নেই। তদারকি হলেও ঘুস লেনদেনে সব বৈধ হয়ে যায়!
এককথায় নিয়মনীতির বালাই নেই। ফলে সড়কপথে নৈরাজ্য স্বাভাবিক রীতিতে পরিণত হয়েছে। এভাবেই কি সড়ক পরিবহনে নৈরাজ্য চলতেই থাকবে? আমরা কি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো নিয়তি মনে করে সব হত্যা মেনে নেব? সেই ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই যখন নিরাপদ সড়ক আন্দোলন তুঙ্গে, তখন এ দেশের জনগণ আশায় বুক বেঁধেছিল। ছাত্রদের নয় দফা দাবি মেনে নিয়ে তৎকালীন সরকার সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সংসদে পাস করে। দাবি মেনে আইন পাসের পরিপ্রেক্ষিতে ধারণা করা হয়েছিল, সড়কপথে হত্যা ও দুর্ঘটনা কমে আসবে; পরিবহন সেক্টরের অপরাধীরা শাস্তি পাবে; ড্রাইভারের বেপরোয়া গাড়ি চালানো বন্ধ হবে; সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ী চালক ও সংশ্লিষ্টদের দ্রুত বিচার হবে; ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধ হবে; এমনকি সড়কপথে জবাবদিহি বাড়বে। এতে পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ফিরে আসবে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- সড়ক দুর্ঘটনা