বিজয়ী বিএনপিকে যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে

প্রথম আলো কল্লোল মোস্তফা প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৫৩

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশের বেশি আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি। বিএনপি ও তার সমর্থক শুভানুধ্যায়ীদের জন্য এই নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চয়ই ভীষণ আনন্দের ব্যাপার। তবে বাস্তবতা হলো বিএনপির আসল চ্যালেঞ্জের শুরুও আসলে এখান থেকে। বিএনপির সমর্থক শুভানুধ্যায়ীদের জন্যও একই কথা প্রযোজ্য।


২.


২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করেছিল। তার পরের ইতিহাস সবার জানা। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে স্বৈরশাসন কায়েম করেছিল দলটি।


তৎকালীন প্রধান বিরোধী পক্ষ বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় চলে আসবে ভেবে আওয়ামী লীগের সমর্থক শুভানুধ্যায়ীরা পরবর্তী সময়গুলোতে আওয়ামী লীগের কার্যকর সমালোচনা থেকে বিরত থেকেছিলেন। উন্নয়নের নামে স্বৈরশাসনে সমর্থন জুগিয়েছিলেন।


এর খেসারত শুধু আওয়ামী লীগ নয়, সারা দেশের মানুষকে দিতে হয়েছে। বিএনপি ও তার সমর্থকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো।


ব্যাপারটা মুখে বলা যত সহজ, বাস্তবায়ন করা তত কঠিন। শুধু ‘সেলফ রেগুলেশন’ বা আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্বৈরাচারী প্রবণতা ঠেকানো যায় না। এর জন্য কাঠামোগতভাবে নির্বাহী ক্ষমতায় ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ বা ভারসাম্য তৈরি করতে হয়।


জুলাই সনদের মাধ্যমে ঠিক এই কাজই করার চেষ্টা করা হয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়লাভ করায় বিএনপির দায়িত্ব হবে জুলাই সনদের সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা।


৩.


মুশকিল হলো, জুলাই সনদে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাঠামোগত সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে রেখেছে। আনুপাতিক উচ্চকক্ষ ও বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপদ্ধতির সংস্কার যার উদাহরণ।


জুলাই সনদে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও উচ্চকক্ষের নির্বাচনপদ্ধতি নিয়ে ঐকমত্য হয়নি। সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব ছিল—সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে অর্থাৎ রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন করা হবে; কিন্তু বিএনপি ভোটের অনুপাতের বদলে নিম্নকক্ষের আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে। নির্বাচনী ইশতেহারেও বিএনপি এ কথা লিখে রেখেছে।


কিন্তু জুলাই সনদ অনুসারে উচ্চকক্ষের আইন প্রণয়নের কোনো ক্ষমতা থাকবে না, নিম্নকক্ষ প্রণীত কোনো আইন স্থায়ীভাবে আটকাতেও পারবে না। তবে উচ্চকক্ষ যে কাজটি পারবে, তা হলো সংবিধান সংশোধন এবং জাতীয় স্বার্থ বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রভাবিত করে এরূপ আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংসদে এক দলের নিরঙ্কুশ আধিপত্য হ্রাস।


কিন্তু বিএনপির প্রস্তাব অনুসারে, আনুপাতিক পদ্ধতির বদলে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হলে তা নিম্নকক্ষের অনুরূপ হবে এবং তার ফলে উচ্চকক্ষ গঠনের উদ্দেশ্য সফল হবে না।


লক্ষণীয় বিষয় হলো, সংবিধান সংশোধন ও আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে আইনসভার উভয় কক্ষের অনুমোদনের প্রস্তাবেও নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত রয়েছে বিএনপির।


ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে বাছাই কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) ও ন্যায়পাল নিয়োগের বিধান সংবিধানে যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে জুলাই সনদে।


এর মধ্যে নির্বাচন কমিশনে নিয়োগের বিষয়ে মোটামুটি একমত হলেও বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানে বাছাই কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের পদ্ধতি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে বিএনপির ভিন্নমত রয়েছে।


৪.


এখন গণভোটে হ্যাঁ জয়লাভ করায় এই নোট অব ডিসেন্টগুলো আর কার্যকর থাকার কথা নয়। ফলে বিএনপির উচিত গণভোটের রায়কে সম্মান জানিয়ে এই চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের সংস্কারগুলো জুলাই সনদ অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা; কিন্তু বিএনপি কি তা করবে?


বিএনপির সমর্থক শুভানুধ্যায়ীরা কি তা বাস্তবায়নে বিএনপিকে চাপ দিতে রাজি হবেন? নাকি এসব সংস্কার বিরোধী দল জামায়াতকে সুবিধা দেবে—এই আশঙ্কায় কাঠামোগত সংস্কারগুলো না করতে বিএনপিকে সমর্থন জোগাবেন?


বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ও তার সমর্থক শুভানুধ্যায়ীদের মতো জামায়াত সুবিধা পাবে ভেবে বিএনপিকে যদি শুরুতেই ছাড় দেওয়া হয়, তাহলে গণতান্ত্রিক রূপান্তর টেকসই হবে না, বাংলাদেশ আবারও বিপদে পড়বে।


দলগত অবস্থান বাদ দিয়ে অর্থপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করতে বিএনপিকে বাধ্য করার কাজটা কিন্তু সহজ নয়। এ জন্যই শুরুতে বলেছিলাম, বিএনপি ও তার সমর্থকদের সামনে আসল চ্যালেঞ্জ শুরু এখন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও