খাল খনন কর্মসূচি: গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি

জাগো নিউজ ২৪ আহসান হাবিব বরুন প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৬

আমাদের দেশকে নদীমাতৃক বলা হয় শুধু নদীর সংখ্যার জন্য নয়; বরং নদী, খাল, বিল ও জলপথের এক বিশাল জালিকাই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এখানে কৃষি, জনবসতি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিত্তি গড়ে তুলেছে। একসময় গ্রামবাংলার প্রায় প্রতিটি জনপদই কোনো না কোনো খাল বা জলপথের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সেই খালগুলো ছিল কৃষির প্রাণ, যোগাযোগের মাধ্যম এবং প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবহেলা, ভরাট, দখল এবং অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে দেশের অসংখ্য খাল হারিয়ে গেছে বা মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা, কমেছে সেচের সুযোগ, এবং অনেক ক্ষেত্রে কৃষি উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


এই বাস্তবতার মধ্যেই আবার নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে খাল খনন বা পুনঃখনন কর্মসূচি। আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া এলাকায় একটি খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিনে সারাদেশে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি সম্প্রতি খালটি পরিদর্শনকালে বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও এই কর্মসূচি শুরু করা হচ্ছে এবং এটি বাস্তবায়িত হলে জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে। বিশেষ করে খাল পুনঃখননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূর হবে, সেচ সুবিধা বাড়বে এবং কৃষি উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।


বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচির একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গ্রামীণ উন্নয়নের অংশ হিসেবে খাল খননকে একটি আন্দোলনের রূপ দিয়েছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং দেশের অর্থনীতিকে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নেওয়া।


সেই সময়ে অনেক এলাকায় খাল খননের ফলে কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সময়ের প্রবাহে সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা হারিয়ে যায়। বহু খাল ভরাট হয়ে যায়, অনেক খাল দখলের শিকার হয়, আর অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো সরকারি নথিপত্র থেকেও প্রায় হারিয়ে যায়।


এই বাস্তবতার ফলে আজ বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পথ না থাকায় কৃষিজমি দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকে। এতে ফসল নষ্ট হয় এবং কৃষককে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় সেচের সংকট দেখা দেয়। অর্থাৎ একই এলাকায় কখনো অতিরিক্ত পানি, আবার কখনো পানির অভাব—এই দ্বৈত সংকটের মুখোমুখি হতে হয় কৃষকদের।


খাল পুনঃখনন এই সমস্যার একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। খালগুলো যদি সঠিকভাবে পুনরুদ্ধার করা যায়, তাহলে বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হবে এবং একই সঙ্গে সেই পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে সেচের কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আসতে পারে।


তবে খাল খনন কর্মসূচির সফলতা কেবল খনন কাজের ওপর নির্ভর করে না; এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা। অতীতে অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, খাল খননের পর কয়েক বছরের মধ্যেই আবার তা ভরাট হয়ে গেছে বা দখল হয়ে পড়েছে। ফলে প্রকল্পের সুফল স্থায়ী হয়নি। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার খাল পুনরুদ্ধারকে একটি সমন্বিত জলব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেখতে হবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও