মির্জা আলমগীরের জন্য শুভকামনা
বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এটি প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায়, মির্জা আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। জাতীয় সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মতো বিএনপিতে আরও যোগ্য প্রার্থী হয়তো অনেকেই আছেন; কিন্তু মির্জা আলমগীরের মনোনয়নপ্রাপ্তি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সঠিক সিদ্ধান্ত বলে আমি মনে করি। এ ধরনের একটি সঠিক ও সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আমি বিএনপি ও এর চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আমি সব সময় অলমগীর বলেই সম্বোধন করি। তিনি আমার অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ। তার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ১৯৬৫ সালে, যখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসেন। আমি তখন এমএ শেষপর্বের শিক্ষার্থী হিসাবে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের (এসএম হল) আবাসিক ছাত্র। মির্জা আলমগীর ১৯৬৫-১৯৬৬ শিক্ষাবর্ষে অনার্স প্রথমবর্ষে ভর্তি হন। তিনিও এসএম হলের আবাসিক ছাত্র হিসাবে হলে অবস্থান করতে থাকেন। ক্রমে সেই পরিচয় ঘনিষ্ঠ থেকে ঘনিষ্ঠতর হতে থাকে। ছাত্রজীবনে আমি এবং মির্জা আলমগীর একই ছাত্র সংগঠনের সদস্য ছিলাম। ১৯৬৬ সালের গোড়ার দিকে আমি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের এসএম হল শাখার সভাপতি নির্বাচিত হই। সেই কমিটিতে মির্জা আলমগীরসহ আরও কয়েকজন তরুণ বন্ধু অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আহমেদ কামালসহ আরও কয়েকজন। তারা সবাই পরবর্তী জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। আমাদের তখনকার জীবন ছিল ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ। পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে সারা দেশ ছিল উত্তাল। আমরা সেই আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলাম।
মির্জা আলমগীরের সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক, তা ছিল মূলত আদর্শিক। আমরা একই আদর্শে বিশ্বাস করতাম। আমরা মানবমুক্তির পথ খোঁজার চেষ্টা করেছি। সেই সময়, অর্থাৎ ছাত্রজীবনে আমাদের বিশ্বাস ছিল-সমাজতন্ত্রের মাধ্যমে গণমানুষের মুক্তি অর্জন সম্ভব। ষাটের দশকের যে সময়ের কথা বলছি, সেই সময় ছাত্রদের অনেকেই এ ধরনের চিন্তা করতেন; এ আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। আমরা যারা প্রগতিশীল আদর্শে বিশ্বাসী ছিলাম, তাদের মধ্যে প্রচণ্ড রকমের ভ্রাতৃত্ববোধ ছিল। আমরা নিজের স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থ এবং জাতির স্বার্থকে প্রাধান্য দিতাম। এ আদর্শে যারা উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন, পরবর্তী জীবনে তাদের অধিকাংশই কোনো অন্যায় বা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হননি। পেশাজীবনে তারা সবাই সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন।
মির্জা আলমগীর আমাকে সদাসর্বদা অগ্রজপ্রতিম হিসাবেই দেখেছেন। অদ্যাবধি এর কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। আমিও তাকে অনুজপ্রতিম হিসাবে ভালোবেসেছি; সুখে-দুঃখে, আপদে-বিপদে তার পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। ছাত্রজীবন শেষ করে মির্জা আলমগীর কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। কিছুদিন শিক্ষকতা করেন। তারপর সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন। একপর্যায়ে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সক্রিয় রয়েছেন। নিঃস্বার্থভাবে দলের জন্য, দেশের জন্য কাজ করে চলেছেন। ২০০১ সালে বিএনপি নির্বাচনে জয়লাভ করার পর মির্জা আলমগীর প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। এরপর একসময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পরবর্তী সময়ে মহাসচিবের দায়িত্ব লাভ করেন।
একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষ হিসাবে মির্জা আলমগীরের খ্যাতি রয়েছে। তিনি অত্যন্ত ভদ্র ও বিনয়ী একজন মানুষ। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই আমাদের মধ্যে যে আদর্শিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, আজ অবধি তা অব্যাহত আছে। আমরা কখনোই আদর্শচ্যুত হইনি। কোনো লোভ-লালসা আমাদের লক্ষ্যচ্যুত করতে পারেনি। আদর্শিক কারণেই তিনি আমার এত প্রিয়। তার সঙ্গে কোনো অনুষ্ঠানে দেখা হলে এখনো সেই আগের মতো বিনয়ী আচরণ করেন, যা আমাকে মুগ্ধ করে। মির্জা আলমগীরের দেশপ্রেম ও সততার কারণেই বেগম খালেদা জিয়া তাকে এতটা কাছে টেনে নিয়েছিলেন। তিনি মহীয়সী নারী বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন এবং সেই আস্থাকে তিনি সর্বদা সমুন্নত রেখেছেন।