আগামীর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ

ডেইলি স্টার মাহফুজ আনাম প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:০৬

জাতীয় নির্বাচনে বিশাল জয় পাওয়ায় দল হিসেবে বিএনপি ও নেতা হিসেবে তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন। এটি কেবল একটি নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের বিজয় নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ।


আমাদের ইতিহাসে সাফল্য যেমন আছে, তেমনি রয়েছে গুরুতর ব্যর্থতাও। এর মধ্যে সবচেয়ে বিধ্বংসী হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা এবং সেগুলোকে স্বাধীন ও পেশাদারভাবে কাজ করতে না দেওয়া। দুঃখজনকভাবে, এটি আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশে পরিণত হয়েছে।


অতীতে ক্ষমতাসীন দলগুলো সবসময় সরকারের প্রতিটি শাখাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেয়েছে। দেশের স্বার্থে নয়, তাদের এই প্রচেষ্টা ছিল দল ও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত লাভের জন্য। এর ফলে তারা ধনী হয়েছে, আর সাধারণ মানুষ দরিদ্র হয়েছে। তারই পরিণতিতে আজকের বাংলাদেশে সবচেয়ে নির্মম ধনী-দরিদ্র বৈষম্য তৈরি হয়েছে।


আরও বহু ক্ষেত্রের পাশাপাশি প্রশাসন ও বাজেট প্রক্রিয়ায় রাজনীতিকরণ এত গভীরভাবে প্রোথিত যে আগামীর প্রধানমন্ত্রীর সামনে একটি বেশ বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে গেলে  তার নিজের দলই সম্ভবত সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।


বিভিন্ন পর্যায়ের বহু নেতা গত ১৭-১৮ বছর ধরে দলীয় আনুগত্যের কথা উল্লেখ করে পুরস্কার পেতে চাইবেন। তারা ওই সময়ে ভোগান্তিতে ছিলেন, তাদের ব্যবসা ধ্বংস হয়েছে ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। কাজেই তাদের এমন যুক্তি বাস্তব ও আবেগঘন হলেও এর সামনে নতি স্বীকার করা মানেই হবে দুর্নীতি ও অপশাসনের সূচনা, যা আমাদের অতীতের অধিকাংশ সরকারকে গ্রাস করেছে।


জনগণ এটা মেনে নেবে না, স্বাধীন গণমাধ্যমও নয়। ক্ষমতাসীন দলকে মনে রাখতে হবে, সংসদে ৭৭ জন সদস্য নিয়ে যথেষ্ট শক্তিশালী বিরোধীদল রয়েছে। তারা সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতির সামান্যতম ইঙ্গিত পেলেও সেটা প্রকাশ্যে আনতে সংসদীয় প্রতিটি প্রক্রিয়া ব্যবহার করবে। সেটা তাদের করাই উচিত।


এ পর্যন্ত তারেক রহমান যা বলেছেন, তাতে মনে হচ্ছে তিনি এমন কিছু হতে দেবেন না। কিন্তু এটাই হবে তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে, যা তাকে মোকাবিলা করতেই হবে।


এই সংগ্রামে জয়ী হতে হলে তারেক রহমানকে সঠিক মন্ত্রিসভা নির্বাচন করতে হবে। এর জন্য অবশ্যই দলের প্রতি আনুগত্য ও সেবা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হবে। কিন্তু কেবল এটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মানদণ্ড হওয়া উচিত না। বরং সততা, নৈতিকতা ও দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নতুন মন্ত্রিসভা হতে হবে অত্যন্ত যোগ্য, আধুনিক, সিদ্ধান্তগ্রহণে সক্ষম এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে। যদিও আমরা ব্যবস্থাপনার দক্ষতাকে প্রায়শই বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই না।


তারেক রহমান হয়তো ইতোমধ্যেই তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের বেছে নিয়েছেন। তবে আমরা প্রস্তাব করতে চাই যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি যেন আরও কিছুটা সময় নেন। নিয়মিত প্রক্রিয়ায় শিগগির তিনি ছোট একটি মন্ত্রিসভা নিয়ে শপথ নিতে পারেন, যেখানে থাকবেন সেরারা। বাকি সদস্য বেছে নিতে তিনি সময় নিতে পারেন। এতে করে আগামীর প্রধানমন্ত্রী তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আরও খানিকটা সময় পাবেন।


এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নতুন সরকারের সামনে বিশাল কর্মযজ্ঞ। বাংলাদেশ উন্নয়নের এক সংকটময় পর্যায়ে রয়েছে। ভেঙে পড়া প্রতিষ্ঠান, ব্যাপক দুর্নীতি ও সর্বত্র অদক্ষতার প্রেক্ষাপটে আগামী মন্ত্রিসভাকে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর ও দূরদর্শী ভূমিকা রাখতে হবে।


আমলাতন্ত্র, প্রশাসনের বিভিন্ন শাখা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরে তীব্র দলীয়করণ হয়েছে। এ ধরনের প্রবণতার দীর্ঘ ইতিহাস থাকায় অতি দ্রুত এর অবসান ঘটানো প্রায় অসম্ভব। তবে তারেক রহমানের সরকারের একটি সুবিধা থাকতে পারে। বিএনপির ইশতেহার উপস্থাপনের সময় ‘আমার একটি পরিকল্পনা আছে’ বলে তিনি যে ঘোষণা দিয়েছে, সেখান থেকে আমরা আশ্বস্ত হতে পারি—বিএনপি সরকার কাজ করবে, কেবল বুলি আওড়াবে না। পরীক্ষিত ও আস্থাভাজন ব্যক্তিরাই তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন। এটি ভালো। তবে তিনি যত ঘনিষ্ঠভাবেই তাদের চিনুন না কেন, তারা যেন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ট দক্ষ হন তা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশে ‘পরিকল্পনা’ ও সেটা ‘বাস্তবায়ন’ যেন দুই ভিন্ন জগতের বিষয়। এটি মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। নইলে ব্যর্থতার ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও