২০২৬ সালে বাংলাদেশ অর্থনীতির সম্মুখযাত্রা

ঢাকা পোষ্ট ড. সেলিম জাহান প্রকাশিত: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪৯

নতুন বছর ২০২৬ সাল আবির্ভূত হয়েছে। আগামী মাসের নির্বাচনের পরে বহু-প্রতীক্ষিত গণতান্ত্রিক উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ আর তার জনগণ। এমন একটি উত্তরণের জন্য আমরা যখন অপেক্ষা করছি, তখন একটি সঙ্গত প্রশ্ন হচ্ছে যে, কেমন হবে আগামী বছরের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চালচিত্র।


২০২৫ সালে বাংলাদেশ নানান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক টানাপোড়েন, উত্থান-পতন, প্রত্যাশা-হতাশার মাঝে কাটিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটকে মনে রেখে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন হচ্ছে কেমন যাবে ২০২৬ সাল। সেই প্রেক্ষিতে অর্থনীতি বিষয়টিই সাধারণ মানুষের মনের বিরাট অংশ জুড়ে আছে।


প্রত্যাশা তাদের অনেক, কিন্তু চিন্তাও তাদের কম নয়। সে প্রত্যাশা আর চিন্তার আবর্তিত হচ্ছে অর্থনীতি নিয়ে—যার মধ্যে রয়েছে মূল্যস্ফীতি; বেকারত্ব; সুযোগের অসমতা; ঋণ, মৌলিক সামাজিক সেবার গুণগত মান; অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মব সহিংসতা ইত্যাদি। সুতরাং সময় এসেছে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ অর্থনীতির সম্মুখযাত্রার দিকে তাকানোর।  


এটা অনস্বীকার্য যে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্ষেত্রে কিছু কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। যেমন, বাইরে থেকে অর্থপ্রবাহ বেড়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের উন্নতি হয়েছে, সম্পদ পাচার আটকানো গেছে। ব্যাংকিং খাতে, যেসব ব্যাংক ভেঙে পড়েছে, তাদের পুনর্গঠনে সহায়তা দেওয়া হয়েছে, ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদগুলো পুর্নবিন্যস্ত করা হয়েছে।


অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বেশকিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকেও ৩ শতাংশের ওপরে ধরে রাখা গেছে। কিন্তু সেই সঙ্গে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাংলাদেশের সম্মুখযাত্রায় অন্তরায় অনেক। তিন ধরনের অন্তরায়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া দরকার—প্রবহমান সমস্যা, ঘনীভূত সমস্যা এবং আসন্ন সমস্যা। 


বাংলাদেশের প্রবহমান সমস্যাগুলোর শীর্ষে রয়েছে দারিদ্র্য ও অসমতা। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, নিকট অতীতে দারিদ্র্য দূরীকরণে বাংলাদেশের অর্জনের অনেকটাই সাম্প্রতিক সময়ে খোয়া গেছে। ২০১০ সাল থেকে ২০২২ সাল—এই ১২ বছরে বাংলাদেশ তার জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩ কোটি ৪৯ লাখ মানুষকে দারিদ্র্যসীমার ওপরে নিয়ে আসতে পেরেছিল। কিন্তু গত তিন বছরে বাংলাদেশে দারিদ্র্যহার আবার ১৮ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশে উঠে গেছে।


আজকে দেশের ৩ কোটি ৬০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করে। তিন বছরেই ৩০ লাখ লোক দারিদ্র্য ফাঁদের মধ্যে পড়েছে। এবং আরও ৬ কোটি ২০ লাখ লোক দারিদ্র্য ফাঁদে পড়ার হুমকিতে আছে।


আমাদের অর্থনীতির একটি অন্যতম বাস্তবতা হচ্ছে অসমতা ও বৈষম্য। যেমন, দেশের উচ্চতম ২০ শতাংশ পরিবারে অনূর্ধ্ব ৫ বছরের শিশুমৃত্যুর হার যেখানে হাজার ২০ জন, সেখানে নিম্নতম ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে সে হার হচ্ছে হাজারে ২০ শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়ে যদিও গ্রামীণ বাংলায় আয় অসমতা স্থিতিশীল রয়েছে, দেশের শহরাঞ্চলে তা বেড়ে গেছে। বাংলাদেশের উচ্চতম ১০ শতাংশ মানুষ দেশের ৫৮ শতাংশ সম্পদের মালিক, আর দেশের নিচের দিকের ৫০ শতাংশ মানুষ (দেশের অর্ধেক লোক) ৪ শতাংশ সম্পদ ভোগ করে।


দ্বিতীয় প্রবহমান সমস্যাটি হচ্ছে, স্বাস্থ্য, শিক্ষার মতো মৌলিক সামাজিক সেবার নিম্নমান। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যখাত পরিমাণগত দিক থেকে সম্প্রসারিত হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু সেসব অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সেবার কোনো গুণগত পরিবর্তন হয়নি। শিক্ষার ক্ষেত্রে জ্ঞান কিংবা দক্ষতা অর্জন নয়, বরং সনদ প্রাপ্তিই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও