
নিউইয়র্ক টাইমসে বাংলাদেশ বিরোধী প্রতিবেদন, ইন্ধন দিচ্ছে কে?
২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, সাংবাদিকেরা হলেন সবচেয়ে অসৎ প্রকৃতির লোক। এটি তিনি বলেছিলেন এক প্রচণ্ড ক্ষোভ থেকে। কারণ দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের মতো বিখ্যাত পত্রিকা ছাপিয়েছিল ভুয়া জনমত জরিপের হিসাব, যাতে দেখানো হয়েছিল জনমত ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। ট্রাম্প কোনোভাবেই নির্বাচনে জয়ী হতে পারবেন না। কিন্তু ট্রাম্প নির্বাচনে জিতে যান। আর তাতে প্রমাণিত হয় নিউইয়র্ক টাইমসের মতো পত্রিকার জনমত জরিপ ছিল একেবারে বানোয়াট। ওই নির্বাচনকালে বিভিন্ন মার্কিন পত্রপত্রিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাবমূর্তিকে বিবর্ণ করার জন্য প্রচার করা হয়েছিল নানা কুৎসা। ২০১৬ সালের সেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় আমরা দেখেছিলাম মার্কিন পত্রপত্রিকা কত মিথ্যা কথা বলতে পারে। এ থেকে বুঝতে পারা যায় পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও হলুদ সাংবাদিকতা চলতে পারে।
বাংলাদেশে মৌলবাদের উত্থান ঘটে চলেছে এমন ভারতীয় বয়ান এখন নিউইয়র্ক টাইমসের পাতায়। ভারতের স্বার্থে সেখানে এক বাংলাদেশ বিরোধী সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার ব্যুরো চিফ মুজিব মাশালের রিপোর্ট প্রকাশিত হয় ১ এপ্রিল ২০২৫। যার শিরোনাম দেওয়া হয়, As Bangladesh Reinvents Itself, Islamist Hard-Liners See an Opening. অর্থাৎ বাংলাদেশ যখন নিজেকে পুনর্গঠন করছে তখন ইসলামী চরমপন্থীরা একটি সুযোগের সন্ধান করছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক মুজিব মাশাল আফগানিস্তানের কাবুলে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তি। তিনি নয়া দিল্লি থেকে নিউইয়র্ক টাইমসের খবরা-খবর পরিবেশনের দায়িত্ব পালন করেন। তার কর্ম দায়িত্বের এলাকা হলো ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপ। অর্থাৎ পাকিস্তান ছাড়া পুরো দক্ষিণ এশিয়ার দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য নিউইয়র্ক টাইমস এবং অপরাপর বিখ্যাত অনেক ইউরোপীয়-আমেরিকান গণমাধ্যম এবং নিউজ এজেন্সিগুলো সংবাদকর্মী হিসেবে ভারতীয় কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার লোকদের নিযুক্ত করে থাকে। এতে ওইসব আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো ইউরোপীয়-আমেরিকান নাগরিকদের তুলনায় কয়েক গুণ কম বেতনে কর্মচারী নিয়োগ করতে পারে। এতে তাদের বিপুল পরিমাণ অর্থের সাশ্রয় হয়। কিন্তু এর ফলে রিপোর্টিংয়ের মান হয়ে পড়ে খারাপ। রিপোর্টগুলো হয়ে যায় ভারতীয় স্বার্থের অনুকূলে।