ঘর পোড়ার মধ্যে আলু পোড়া
নতুন যে ভিসানীতি যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে, সেটির উদ্দেশ্য দৃশ্যত বাংলাদেশে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করা। কিন্তু এটি কি শেষ পর্যন্ত কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে? বোধহয় না। কেননা, যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও বেশ কয়েকটি দেশে এই নীতি প্রয়োগ করেছে। তফাৎ বলতে এই যে, সেগুলোয় এই নীতি প্রয়োগ করা হয়েছে নির্বাচনের পরে; আর বাংলাদেশে তা প্রয়োগ করা হচ্ছে নির্বাচনের আগেই। তবে ওইসব দেশে এই নীতি প্রয়োগের ফলে তেমন কোনো উনিশ-বিশ ঘটেছে বলে মনে হয় না। বাংলাদেশে প্রতিবছরই অসংখ্য মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য আবেদন করেন। যাদের বেশির ভাগই প্রত্যাখ্যাত হন। নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলার ক্ষেত্রে যাদের সংশ্লিষ্টতা থাকে, যাদের সরাসরি কিংবা নেপথ্য ভূমিকা থাকে, তাদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এদের চিহ্নিত করবে, দায়ী করবেÑতা এখনও স্পষ্ট নয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন যদি নীতি ঘোষণার সময় এটিও সুস্পষ্ট করতেন, তাহলে বিষয়টি নিঃসন্দেহে স্বচ্ছ হতো। তবে তার পরও একটা কথা থেকে যায়, কয়লা ধুলে নাকি ময়লা যায় না। অতএব এমন হওয়া অস্বাভাবিক নয় যে, নির্বাচনী দুর্বৃত্তায়নে যুক্ত মানুষগুলো বড়জোর তাদের গন্তব্য পাল্টাবেÑ যুক্তরাষ্ট্রের বদলে অন্য কোনো দেশে মুদ্রা পাচার করবে, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য অন্য কোনো দেশে পাঠাবে। এ নীতির ফলে তাই কানাডা, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ ইউরোপীয় দেশগুলোয় স্থানান্তর ও মুদ্রা পাচারের মাত্রা ঘনীভূত হওয়া বোধকরি অস্বাভাবিক নয়।
- ট্যাগ:
- মতামত
- যুক্তরাষ্ট্র
- মার্কিন ভিসা নীতি