আগামী বাজেটে যেসব বিষয় দেখা উচিত

কালের কণ্ঠ ড. আবু আহমেদ প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল ২০২২, ০৯:৩০

আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নের কাজ এখন চলছে। প্রথমেই আমি বলব আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী বাঁচতে শিখতে হবে। বাজেটে সামর্থ্যের মধ্যে চলার দিকনির্দেশনা থাকা বাঞ্ছনীয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তাই বলছে। সামর্থ্যের বাইরে চলতে গিয়ে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও নেপাল বিপদে পড়েছে। এই দেশগুলোর পরিণতি এক দিনে হয়নি, ধীরে ধীরে হয়েছে, কয়েক বছরে হয়েছে, যা শুরুতে বুঝতে পারেনি তারা। আমাদের ভাবতে হবে ধীরে ধীরে আমরাও সেই পথে হাঁটছি কি না।


বাংলাদেশ বহু উৎস থেকে ঋণ নেয়। এই ঋণ এখনো সহনীয় পর্যায়ে আছে। আমরা চাই না এই ঋণ একটা পর্যায়ে গিয়ে অসহনীয় হয়ে পড়ুক। আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নে বিবেচ্য বিষয়গুলোর এটি অন্যতম। সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস এবং বৈদেশিক নানা উৎস থেকে ঋণ নিয়ে থাকে। আমাদের বহিঃসূত্র থেকে ঋণ আগে কম ছিল। কিন্তু গত দুই-তিন বছরে এটা অনেক বেড়ে গেছে। আমরা অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা করে ভালো আছি, এভাবে চিন্তা করার কোনো দরকার নেই। আমাদের বরং ভাবতে হবে কয়েক বছর আগে আমাদের বৈদেশিক ঋণ কোন অবস্থায় ছিল এবং এখন কেন এত বাড়ল। আগামী কয়েক বছরে এই ঋণগুলো সুদাসলে শোধ করতে গিয়ে বাজেটের কত শতাংশ ব্যয় করতে হবে—সেটাও ভাবতে হবে।


আমাদের ঘাটতি বাজেট দেওয়া হয়ে থাকে। সরকার বেশ কয়েক বছর বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৪ শতাংশের মধ্যে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। এটাই ঠিক ছিল। কিন্তু বিগত অর্থবছর ও চলতি বছরে এসে দেখা গেল, এটা ৫ শতাংশ অতিক্রম করে আরো ওপরে উঠছে। এই ঘাটতি বেড়ে যাওয়াকে এতটা সরলভাবে দেখা উচিত হবে না। আমাদের বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৪ বা সাড়ে ৪ শতাংশের মধ্যে থাকাই ভালো ও বাঞ্ছনীয়। কারণ ঘাটতি বাজেটের খারাপ দিক হচ্ছে, এটা ঋণ গ্রহণের দিকে ধাবিত করে এবং একপর্যায়ে এটা বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।


যেকোনো সরকারের কর সংগ্রহ নির্ভর করে দেশের অর্থনীতি কতটা ওপরের দিকে ওঠে, অর্থনীতি কতটা প্রাগ্রসর থাকে এবং আর্থিক নীতিগুলো কতটা কাজ করে তার ওপর। সহজ হিসাব হচ্ছে, অর্থনীতি খুব ভালো করলে কর সংগ্রহ ভালো হবে এবং ঋণ পরিশোধেও সমস্যা হবে না। কিন্তু অর্থনীতি যদি ঝিমিয়ে পড়ে, তখন কর সংগ্রহও কমে যাবে এবং ঘাটতি বাজেট তখন সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়। তখন বোঝা বহন করাটা কঠিন হয়ে পড়ে।


বহির্বিশ্বে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে। শিল্পের কাঁচামালের দামও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে আমাদের এখানে মূল্যস্ফীতি বাড়তেই পারে। এ অবস্থায় বাজেটে ঘাটতি বেশি হলে এবং সুচিন্তিত ভর্তুকির ব্যবস্থা করা না হলে আমাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি জোর পাবে। এ জন্য ভর্তুকির বিষয়টি লক্ষ্যনির্ভর করতে হবে এবং সেটা অবশ্যই গরিব লোকদের জন্য। এ মুহূর্তে ঘাটতি সহনীয় পর্যায়ে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের মধ্যে রাখাই হবে আমাদের জন্য মঙ্গলজনক।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও