শীতের সবজির বিপুল সমারোহ
এখন সবজির ভরা মৌসুম। বাজারে শীতের সবজির বিপুল সমারোহ। হরেক রকম সবজির বৈচিত্র্যময় পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। সরবরাহ বাড়ছে প্রতিদিন। ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে সবজির দাম। এখন সব ধরনের সবজির দামই ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে এসেছে। বর্তমানে একটি ফুলকপির দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা। শিম ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি। করলার কেজি ৩৫-৪০ টাকা। এক কেজি মুলা বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়। একটি লাউয়ের দাম ২৫-৩০ টাকা। এক মাস আগে এগুলোর দাম ছিল দ্বিগুণেরও বেশি। এর কারণ ছিল সরবরাহ সংকট।
পরপর বন্যায় দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সবজির। বিঘ্নিত হয়েছে উৎপাদন। তাতে দ্রুত বেড়ে যায় মূল্য। এত দামে প্রয়োজনীয় সবজি কেনার সামর্থ্য অনেকেরই ছিল না।
এই করোনাকালে মানুষের আয় কমে যাওয়ায় সবজি কিনতে হিমশিম খেয়েছে অনেকে। ক্রেতাদের অভিযোগ ছিল-দাম বেশি। এখন বাজারে অনেক সরবরাহ বেড়েছে সবজির। দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। আর কিছুদিন পর সবজির দরপতন ঘটবে। মুলার দাম নেমে হবে প্রতি কেজি পাঁচ টাকা। কৃষকের খামারপ্রান্তে এর দাম হবে অর্ধেকেরও কম। তখন উৎপাদক কৃষকদের অভিযোগ শোনা যাবে- উৎপাদন খরচও উঠে আসছে না। এই মূল্যবৃদ্ধি ও দরপতনের চালচিত্র হরহামেশাই আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত আমাদের জানা থাকা দরকার। দেখতে হবে বিভিন্ন সবজির উৎপাদন খরচ কত? কত এর গড় বিক্রয়মূল্য? আর তাতে কৃষকের লাভ কত? তাতে মৌসুমি মূল্যবৃদ্ধি ও দর পতনে ধৈর্যশীল হতে পারবেন আমাদের কৃষক ও ভোক্তাগণ। বিভিন্ন সবজির দামের ন্যায্যতা তারা অনুভব করতে পারবেন।
- ট্যাগ:
- মতামত
- শীতের সবজি